• রবিবার, আগস্ট ১৮, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:৩৭ রাত

মিন্নির জামিন ফের নামঞ্জুর

  • প্রকাশিত ০৬:০৫ সন্ধ্যা জুলাই ৩০, ২০১৯
আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি
আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। ঢাকা ট্রিবিউন

এক ঘন্টা শুনানী এবং উভয়পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিখণ্ডন শেষে আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়।

বরগুনায় রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডে দায়েরকৃত মামলায় আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির জামিন আবেদন আবারও নামঞ্জুর করেছেন বরগুনা জেলা দায়রা ও জজ আদালত। চার ঘন্টা শুনানী শেষে মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) বেলা ৩টায় বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামান তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

মঙ্গলবার সকাল ১১টায় বরগুনা জেলা দায়রা জজ আদালতে মিন্নির জামিন আবেদনের শুনানী শুরু হয়। দীর্ঘক্ষন যুক্তিতর্ক শেষে বিকাল ৩টা ১০ মিনিটে আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান জামিন আবেদন নামঞ্জুরের আদেশ দেন। 

এর আগে বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামানের আদালতে গত ২৩ জুলাই আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির পক্ষে জামিনের আবেদন করেন তার পক্ষে নিযুক্ত আইনজীবী অ্যাড. মাহাবুবুল বারী আসলাম। ওইদিন জামিনের আবেদন গ্রহন করে ৩০ জুলাই শুনানীর দিন ধার্য করা হয়।

মিন্নির পক্ষে নিযুক্ত আইনজীবী মাহাবুবুল বারী আসলাম, গোলাম মোস্তফা কাদের, ঢাকা থেকে আসা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের আবদুর রশিদ, নীনা গোস্বামী, ব্লাস্টের শাহিদা তালুকদার, এ জেড এম শহিদুজ্জামান খান, রাকিব হাসান, সাগর সরকার, নুসরাত হত্যা মামলার আলোচিত আইনজীবী ফারুক আহম্মেদসহ ৩০ জন আইনজীবী শুনানীতে অংশগ্রহন করেন। 

অন্যদিকে বাদী পক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাড. ভূবন চন্দ্র হাওলাদার, অ্যাড. মুজিবুল হক কিসলু ও অ্যাড. কামরুল আহসান মহারাজসহ ৩০ জন আইনজীবী শুনানীতে অংশ নেয়। 

উভয়পক্ষের শুনানী শেষে বেলা ১টার দিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বরগুনা থানার পরিদর্শক মো. হুমায়ুন কবিরকে আদালতে তলব করা হয়। তিনি আদালতে আসার পরে ২ টা ৫ মিনিটে পুনরায় শুনানী শুরু হয়।  

আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির পক্ষের আইনজীবী মাহাবুবুল বারী আসলাম জানিয়েছেন, আমরা জামিন আবেদনে উল্লেখ করেছিলাম তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ তার চিকিৎসা প্রয়োজন, এছাড়া তিনি একজন কম বয়সী নারী। এছাড়াও মিন্নি প্রাণপন চেষ্টা করে তার স্বামীকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিল। আমরা তাই আদালতে তার মানবিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে জামিন আবেদন করেছিলাম। আদালতের বিজ্ঞ বিচারক তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন। তিনি আরো বলেন, আমরা উচ্চাদালতে পরবর্তীকালে মিন্নির জামিনের জন্য আবেদন করব।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ভূবন চন্দ্র হাওলাদার বলেন, আসামী পক্ষের আইনজীবীরা যেসব কারন উল্লেখ করে আদালতে জামিন আবেদন করেছিলো। আমাদের কাছে সেগুলো যুক্তিযুক্ত মনে না হওয়ায় আমরা মিন্নির জামিন আবেদনের বিরোধিতা করেছি। এসময় আমরা আদালতে সিসিটিভি ফুটেজ, কল রেকর্ডের বিষয়টি আদালতের নজরে আনলে আদালতের বিজ্ঞ বিচারক আমাদের বিরোধীতার বিষয়টি আমলে নিয়ে মিন্নির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন। 

আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে গত ১৬ জুলাই সকাল পৌনে দশটার দিকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে পুলিশ লাইনে নিয়ে আসা হয়। ওইদিন রাত ৯টার দিকে তাকে রিফাত হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার দেখিয়ে বরগুনা কারাগারে পাঠানো হয়। পরের দিন তাকে আদালতে হাজির করে ৫ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। এরপর ১৯ জুলাই মিন্নিকে বরগুনার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজীর আদালতে হাজির করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেয়া হয়। ওইদিন রাত সাড়ে ৭টার দিকে মিন্নিকে বরগুনা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সেই থেকে মিন্নি বরগুনা কারাগারে রয়েছেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ জুন সকালে প্রকাশ্যে বরগুনা সরকারি কলেজ গেটের সামনে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে আহত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় বরিশাল নেওয়ার পর তিনি মারা যান। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামি করে বরগুনা থানায় হত্যা মামলা করেন। রিফাত হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত মিন্নিসহ ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা সবাই ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। প্রধান আসামি নয়ন বন্ড ২ জুলাই পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। তবে মামলার এজাহারভুক্ত ১২ আসামির মধ্যে এখনও চার জন গ্রেফতার হয়নি। তারা হচ্ছেন− মুসা, মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, রায়হান ও রিফাত হাওলাদার। আগামী ৩১ জুলাই গ্রেফতারকৃত আসামীদের বরগুনার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির করা হবে।