• বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৩১ রাত

নুসরাত হত্যা: আইনজীবীদের জেরার মুখেও সাক্ষী দুই চিকিৎসক অনড়

  • প্রকাশিত ০৪:৪৭ বিকেল জুলাই ৩১, ২০১৯
নুসরাত জাহান রাফি
নুসরাত জাহান রাফি। ছবি: সংগৃহীত

জেরাকালে আইনজীবীরা বলেন, নুসরাতের গলা, পেটের সামনের ও পিঠের পুরো অংশ, দুই হাত ও দুই পা পুরোটাই পোড়া দেখা গেছে এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, তিনি মিথ্যা সাক্ষ্য দিচ্ছেন।

ফেনীতে নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা মামলার সাক্ষী সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আবু তাহের ও সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. আরমান বিন আবদুল্লাহ সাক্ষ্য দিয়েছেন। 

আদালতে সাক্ষ্যদানকালে ফেনী সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আবু তাহের বলেন, “৬ এপ্রিল বেলা ১১টা। সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে নুসরাত নামের এক পোড়া রোগীকে ফেনী সদর হাসপাতালে আনা হয়। রোগীর (নুসরাত জাহান) গলা, পেটের সামনের ও পিঠের পুরো অংশ, দুই হাত ও দুই পা পুরোটাই পোড়া দেখা গেছে। তার শরীরের ৭০ থেকে ৮০ ভাগ পুড়ে গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে রোগীর জরুরি চিকিৎসা শেষ করে ওই রোগীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে অ্যাম্বুলেন্স যোগে নেওয়া হয়।”

তার সাক্ষ্য শেষে  চিকিৎসককে জেরা করেন। জেরাকালে আইনজীবীরা বলেন, নুসরাতের গলা, পেটের সামনের ও পিঠের পুরো অংশ, দুই হাত ও দুই পা পুরোটাই পোড়া দেখা গেছে এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, তিনি মিথ্যা সাক্ষ্য দিচ্ছেন।

তবে আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের এমন দাবির মুখেও দুই চিকিৎসক তাদের অবস্থানে অনড় থাকেন। 

৩০ জুলাই, মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে এসাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। 

জেলা জজ আদালতের পিপি হাফেজ আহাম্মদ ঢাকা ট্রিবিউনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। নুসরাত হত্যা মামলায় ৯২ সাক্ষীর মধ্যে এপর্যন্ত বাদীসহ ৬৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে।

এমামলায় ৩১ জুলাই, বুধবার আরও আটজনের সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আদালত সমন জারি করেছে। এর আগে মঙ্গলবার সকালে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মামলার অভিযুক্ত ১৬ আসামিকে আদালতে তোলা হয় বলে পিপি হাফেজ আহাম্মদ জানিয়েছেন ।

২৭ ও ৩০ জুন মামলার বাদী ও নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানকে জেরার মধ্যদিয়ে এই মামলার বিচারকাজ শুরু হয়। ২৯ মে আদালতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে ৮০৮ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র দাখিল করে। ৩০ মে মামলাটি ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর হয়। ১০ জুন আদালত মামলাটি আমলে নিলে শুনানি শুরু হয়। ২০ জুন অভিযুক্ত ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন বিচারিক আদালত।

উল্লেখ্য, নুসরাত সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী ছিলেন। ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে নুসরাত যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন। নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে নুসরাতের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়। ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথমপত্রের পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসাকেন্দ্রে যান নুসরাত। এসময় তাকে পাশের বহুতল ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টায় রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুসরাত মারা যান। এই ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে ৮ এপ্রিল সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।