• সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:২৪ রাত

মশা মারার ওষুধ আনা নিয়ে 'ঠেলাঠেলি', সিটি করপোরেশনকে দায়িত্ব দিল হাইকোর্ট

  • প্রকাশিত ১০:৩৫ সকাল আগস্ট ২, ২০১৯
ডেঙ্গু
প্রতীকী ছবি বিগস্টক

ওষুধ আনতে সার্বিক সহযোগিতা করবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়

মশা মারার কার্যকর ওষুধ বিদেশ থেকে আমদানি নিয়ে সরকার ও সিটি করপোরেশনের 'ঠেলাঠেলি'র ইতি টেনে কাজটি সম্পন্ন করার জন্য ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে দায়িত্ব দিয়েছে হাইকোর্ট। এই কাজে স্বাস্থ্য এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে সার্বিক সহযোগিতার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই নির্দেশ দেন।

নির্দেশে বলা হয়, "স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্থানীয় সরকার বিভাগ মশা মারার ওষুধ দ্রুত আনার ব্যাপারে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে লাইসেন্স ও ছাড়পত্রসহ প্রয়োজনীয় সার্বিক সহযোগিতা দেবে।"

সেইসাথে সংকট মোকাবিলায় সম্ভব হলে সরকারকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ওষুধ এনে দুই সিটিসহ দেশব্যাপী স্থানীয় সরকারের সব দপ্তরে সরবরাহ করার কথা আদেশে বলা হয়েছে।

এছাড়া, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে ডেঙ্গু রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। সব সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার তত্ত্বাবধান করতে ২৪ ঘণ্টা একজন সহযোগী অধ্যাপকের নিচে নয় এমন চিকিৎসককে দায়িত্বে নিয়োজিত রাখতে বলা হয়েছে ওই আদেশে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু চিকিৎসার জন্য হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখতে বলেছে আদালত। একজন রোগীও যেন বিনা চিকিৎসায় ফিরে না যায় তা নিশ্চিত করার জন্য হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে। 

অন্যদিকে, প্রাথমিকভাবে ডেঙ্গু শনাক্ত করার কিট পর্যাপ্ত পরিমাণে আমদানি করে সারা দেশে হাসপাতালগুলোতে সরবরাহ করতে বলেছে আদালত। পাশাপাশি নাগরিকরা যেন সুলভ মূল্যে এটা পেতে পারেন তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এর পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলোকেও মানবিক দিক বিবেচনা করে যতটুকু সম্ভব এআদেশ বাস্তবায়ন করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এর আগে, মশা নিধনে নতুন কার্যকর ওষুধ কবে দেশে আনা হবে সেই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য হলফনামা আকারে দুই সিটি করপোরেশনকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে জানাতে ৩০ জুলাই নির্দেশ দিয়েছিল বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দীর বেঞ্চ।

সে অনুযায়ী, সকালে ঢাকা উত্তর সিটির আইনজীবী ব্যারিস্টার তৌফিক ইনাম টিপু আদালতে উপস্থিত হয়ে ১৪ দিনের মধ্যে ওষুধ আনার ব্যবস্থার কথা জানালেও ওষুধ আনার দায়িত্ব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বলে দাবি করেন উত্তর সিটির আইনজীবী ব্যারিস্টার সাইদ আহমেদ রাজা।

বিষয়টি নিয়ে ঠেলাঠেলির এক পর্যায়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদকে ডেকে পাঠায় আদালত। শুনানি শেষে আদালত দুই সিটি কর্পোরেশনকে মশা মারার ওষুধ আনার দায়িত্ব অর্পণ করেন।