• রবিবার, নভেম্বর ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৮:১০ রাত

থানা হাজতে ধর্ষণ: এখনও স্বপদে বহাল অভিযুক্তরা

  • প্রকাশিত ০৭:১৫ রাত আগস্ট ৬, ২০১৯
যৌন হেনস্থা
প্রতীকী ছবি

অভিযুক্ত ওসিসহ অন্যরা বহাল তবিয়তে থাকায় তদন্ত কার্যক্রম প্রভাবিত হতে পারে বলে আশংকা স্বজনদের

খুলনা জিআরপি থানা হাজতে তিন সন্তানের জননীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত ওসিসহ অন্য পুলিশ সদস্যরা এখনও বহাল তবিয়তেই আছেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার দুইদিন পেরিয়ে গেলেও এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় পর্যায়ের কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। 

একারণে তদন্ত কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশংকা করছেন ভুক্তভোগী নারীর পরিবারের সদস্যরা। এঘটনায় গঠিত তিন সদস্যের একটি দল তদন্ত শুরু করেছে। 

মঙ্গলবার (৬ জুলাই) বিকেলে কুষ্টিয়া রেলওয়ে সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ফিরোজ আহমেদের নেতৃত্বে কমিটির সদস্যরা খুলনা জিআরপি থানা পরিদর্শন করেন এবং তদন্ত শুরু করেন। 

তদন্ত কমিটির সদস্যরা বলেন, “আমরা তদন্ত কাজ শুরু করেছি। এখনই এবিষয়ে কোনো মন্তব্য করা সম্ভব না।”

তবে ধর্ষণের শিকার নারী বা তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তদন্ত কমিটি এখনও কথা বলেননি বলে জানিয়েছেন তারা।

এদিকে, থানা হাজতে ধর্ষণের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খুলনার সাধারণ জনতা। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উছমান গণি পাঠানসহ অন্য পুলিশ সদস্যের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করা হয়েছে।

এবিষয়ে পাকশী রেলওয়ে জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “ঘটনার সঠিক তথ্য উদঘাটনের জন্য তিন সদস্যের কমিটি তদন্ত শুরু করেছে। কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া করা হবে।”

ধর্ষণের শিকার নারীর বড় বোনের অভিযোগ, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কিংবা রেল পুলিশের তদন্ত কমিটির কোনো সদস্য তাদের সঙ্গে কথা বলেননি। তদন্তের প্রক্রিয়া সম্পর্কেও তাদের জানানো হয়নি। অভিযুক্ত ওসি উছমান গণি পাঠানসহ অন্য পুলিশ সদস্যরা বহাল তবিয়তে থাকায় তদন্ত কার্যক্রম প্রভাবিত হতে পারে বলেও আশংকা তার।

ধর্ষিতা নারীর আইনজীবী ফারুক আহমেদ বলেন, নির্যাতনের শিকার নারীকে আদালত মাদকের মামলায় কারাগারে পাঠিয়েছে। ২-১ দিনের মধ্যে আবারও তার জামিন আবেদন করা হবে। তবে, ধর্ষণের ফরেনসিক রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

উল্লেখ্য, খুলনার জিআরপি থানায় পুরুষ এবং নারী হাজতিদের জন্য পৃথক হাজতখানা নেই। ঘটনার রাতে ওই নারীকে সেখানেই রাখা হয়েছিল। সেরাতে ২ জন নারী পুলিশসহ ১০ জন দায়িত্বে ছিলেন।

এবিষয়ে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উছমান গনি বলেন, থানায় হাজতখানা একটিই। পুরুষ হাজতি থাকলে নারী হাজতীদের থানার অন্য কক্ষে রাখা হয়। ঘটনার দিন (২ আগস্ট) রাতে থানায় ওই নারী-ই একমাত্র হাজতি ছিলেন। আর তাই তাকে থানার হাজতখানায়ই রাখা হয়েছিল। 

তিনি বলেন, ওই রাতে থানায় ২ জন নারী কনস্টেবল, সেন্ট্রি হিসেবে ২ জন পুরুষ কনস্টেবল, ডিউটি অফিসারসহ অন্যান্য কয়েকজন পুলিশ সদস্যও ছিলেন। এতো পুলিশের উপস্থিতি বিশেষ করে নারী পুলিশ সদস্য থাকার পরেও নারী নির্যাতন বা ধর্ষণের অভিযোগ কেবলই মনগড়া। ফেন্সিডিল মামলা থেকে রেহাই পেতেই ওই নারী এমন অভিযোগ করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২ আগস্ট রাতে খুলনা জিআরপি থানায় ছিলেন ওসি উছমান গণি পাঠান, এসআই গৌতম কুমার পাল, এসআই নাজমুল হাসান, কনস্টেবল মিজান, হারুন, মফিজ, আব্দুল কুদ্দুস, আলাউদ্দিন, কাজল এবং দুই নারী কনস্টেবলসহ বেশ কয়েকজন। হাজতে থাকা ওই নারীকে ওসিসহ ৫ পুলিশ সদস্য শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।

এরপর থানা হাজতে রেখেই ওসি তাকে ধর্ষণ করেন। পরে অভিযুক্ত অন্য চার পুলিশ সদস্যও তাকে ধর্ষণ করেন।

খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ও ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) সমন্বয়কারী ডা. অঞ্জন কুমার চক্রবর্তী জানান, ডাক্তারি পরীক্ষার পর নমুনা সংগ্রহ করে ডিএনএ টেস্টের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তবে ধর্ষণের আলামতের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। 

তিনি বলেন, ফরেনসিক বিভাগের ৩ জন চিকিৎসকের সমন্বয়ে মেডিকেল বোর্ড এ প্রতিবেদন তৈরি করবে। প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা যাবে না।

ধর্ষিতার ভগ্নিপতি জানান, তার শ্যালিকার বাড়ি খুলনা মহানগরীর মহেশ্বরপাশা এলাকায় ও শ্বশুরবাড়ি সিলেটে। সেদিন বিকেলে তিনি যশোরে ডাক্তার দেখাতে গিয়েছিলেন। খুলনায় ফেরার জন্য বেনাপোল থেকে খুলনাগামী কমিউটার ট্রেনে ওঠেন। ট্রেনটি ফুলতলা এলাকায় পৌঁছলে ট্রেনে থাকা জিআরপি পুলিশ মোবাইল চুরির অভিযোগে তাকে আটক করে। এরপর ট্রেন থেকে নামিয়ে তাকে খুলনা জিআরপি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।