• সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:২৪ রাত

রাস্তায় নবজাতককে নিয়ে কুকুরের টানাটানি, উদ্ধার করলো পুলিশ

  • প্রকাশিত ০৯:০২ রাত আগস্ট ২০, ২০১৯
চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানায় এসআই মোস্তাফিজুর রহমানের কোলে উদ্ধারকৃত নবজাতক। ছবি: ইউএনবি

এগিয়ে গিয়ে দেখি একটা বাচ্চাকে নিয়ে কুকুরগুলো টানাটানি করছে

চট্টগ্রামে সড়কের পাশে পিতৃ পরিচয়হীন এক নবজাতককে তিনটি কুকুরের মুখ থেকে বাঁচিয়েছেন পুলিশের এসআই মোস্তাফিজুর রহমান।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) ভোরে নগরীর ডবলমুরিং থানার আগ্রাবাদের বাদামতলী মোড়ে এ ঘটনা ঘটেছে। মোস্তাফিজুর রহমান ডবলমুরিং থানায় এসআই হিসেবে কর্মরত।

তিনি বলেন, “রাতের ডিউটির শেষ ভাগে আক্তারুজ্জামান সেন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। ওই সময় সড়কের উল্টো দিকে সোনালী ব্যাংকের সামনে দুটি কুকুরকে মারামারি করতে দেখি। আরেকটি কুকুর কিছু একটা নিয়ে টানাটানি করছিল। এগিয়ে গিয়ে দেখি একটা বাচ্চাকে নিয়ে কুকুরগুলো টানাটানি করছে। তখন এক নারীর সাহায্যে বাচ্চাটাকে উদ্ধার করে প্রথমে আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে এবং পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যাই। বাচ্চাটি সুস্থ আছে।”

এসআই মোস্তাফিজুর বলেন, “হাসপাতালে যাওয়ার পথে বাদামতলী মোড়ে জনতা ব্যাংকের সামনে এক নারীকে রক্তাক্ত অবস্থায় বসে থাকতে দেখি। ওই নারী মানসিক ভারসাম্যহীন। এখানে রাস্তায় থাকেন। নাম জিজ্ঞেস করতে ওই নারী জানায় তার নাম আয়েশা। কিন্তু আর কিছু বলতে পারছে না। তার শরীর রক্তাক্ত দেখে বুঝলাম এটাই প্রসূতি। পরে তাকেও হাসপাতালে নিয়ে যাই।”

তিনি আরও বলেন, “আনুমানিক ২৫-২৭ বছর বয়সী ওই নারীকে বাচ্চার কথা জিজ্ঞাসা করতেই শুধু রাস্তার উল্টো দিকে দেখাচ্ছিলেন। যেখানে বাচ্চাটিকে কুকুরগুলো নিয়ে টানাটানি করছিল। তখন আমি ধারণা করে নিলাম উদ্ধার হওয়া ফুটফুটে নবজাতকটির মা এই নারী।”

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সিএমপির ডবলমুরিং জোনের সহকারী কমিশনার আশিকুর রহমান বলেন, “বাদামতলী মোড়ে জনতা ব্যাংকের সামনে মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারী রক্তাক্ত অবস্থায় বসে ছিলেন। আর হাত দিয়ে কুকুরগুলোর দিকে দেখাচ্ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, সোনালী ব্যাংকের সামনে বাচ্চার জন্ম দিয়ে তিনি উল্টো দিকে চলে যান। তখন কুকুরগুলো নবজাতকের শরীরে লেগে থাকা নাড়ি নিয়ে টানাটানি করছিল।”

তিনি আরও বলেন, “নবজাতকের সঙ্গে ওই নারীকেও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান এসআই মোস্তাফিজ। তাদের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। তারা আগের চেয়ে সুস্থ রয়েছেন। কুকুরের কামড় ওই শিশুটির গায়ে লাগেনি।”