• সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:২৪ রাত

গেট খোলেননি নার্স, হাসপাতালের সামনে সন্তান প্রসব

  • প্রকাশিত ০৫:৩৩ সন্ধ্যা আগস্ট ২১, ২০১৯
শিশু
গোপালগঞ্জ শহরে বেসরকারি এক ক্লিনিকের সামনে সন্তান প্রসব করেন এক নারী। ছবি : ঢাকা ট্রিবিউন

ক্লিনিকের মালিক জানান, তিনি তখন ঘুমাচ্ছিলেন।  

গোপালগঞ্জ শহরে অনুরোধের পরও প্রধান ফটক না খোলায় বেসরকারি এক ক্লিনিকের সামনে এক নারী সন্তান প্রসব করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। 

সোমবার (১৯ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে শহরের ঘুল্লিবাড়ি মোড়ে মালঞ্চ ক্লিনিকের ফটকের সামনের রাস্তায় এঘটনা ঘটে। 

ওই নারীর নাম রোজিনা বেগম (৩২)। তিনি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বোড়াশী গ্রামের নিয়ামুল শেখের স্ত্রী।

ক্লিনিকের অভিযুক্ত নার্স ইতি রানী বুধবার দুপুরে ডিউটিতে না থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ক্লিনিকের ম্যানেজার স্বীকার করেছেন ঘটনার সময় ইতি রানী কর্তব্যরত ছিলেন।

ক্লিনিকের মালিক ডা. অনুপ কুমার মজুমদার বলেন, "ঘটনার সময় আমি ঘুমে ছিলাম। এ বিষয়টি আমি জানতে পারিনি। পরে জেনেছি প্রসূতি এক মহিলা শেষ মুহুর্তের প্রসব বেদনা নিয়ে আমার ক্লিনিকের সামনে এসেছিলো। তার স্বজনরা আমাদের ডাকাডাকি করেছিলো। কিন্তু আমরা তাতে সাড়া দিতে পারিনি। এক পর্যায়ে ওই মহিলা সেখানে বাচ্চা প্রসব করে এবং পরে চলে যায়। আমি এটুকুই জানি।" 

হামিদা ক্লিনিকের মালিক ডা. গোলাম মোস্তফা বলেন, "রাস্তায় বাচ্চা প্রসবের পর প্রসূতি ও সদ্যজাত শিশু গভীর রাতে আমার ক্লিনিকে আসে। তাদের আমরা চিকিৎসা সেবা প্রদান করি। ভর্তির সময় মা ও শিশু উভয়েই সুস্থ ছিলো। তাই তারা মঙ্গলবার সকালেই ক্লিনিক থেকে বাড়ি ফিরে যায়।" 

নারীর স্বজনদের অভিযোগ, সোমবার রাতে প্রায় ৩০ মিনিট ডাকাডাকির করে প্রসুতির মুমূর্ষ অবস্থার কথা বলা হলেও মালঞ্চ ক্লিনিকের কর্মরত নার্স ও কর্তৃপক্ষ ক্লিনিকের গেট খোলেনি। ক্লিনিকে কর্মরত নার্স ইতি রানি রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। 

প্রসূতির শাশুড়ি বিনা বেগম (৬০) বলেন, সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে গ্রামের বাড়িতে রোজিনা বেগমের প্রসব বেদনা উঠলে তাকে প্রথমে শহরের নার্গিস ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক না থাকায় তাকে মালঞ্চ ক্লিনিকে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। মালঞ্চ ক্লিনিকে পৌঁছানোর পর তার প্রসব বেদনা বেড়ে যায়। এ সময় ক্লিনিকের গেট খুলতে অনুরোধ করা হয়। কিন্তু গেট না খুললে চিৎকারে আশপাশের লোজন ছুটে আসেন। 

ঘুল্লিবাড়ি এলাকার বাসিন্দা লিমন (২০) বলেন, "ক্লিনিক গেটে চিৎকার শুনে আমি আমাদের বিল্ডিংয়ের ছাদে যাই। সেখান থেকে দেখি প্রসূতিকে নিয়ে স্বজনরা বিপাকে পড়েছে। পরে তাদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসি। আমার দেখাদেখি আরও অনেকে এগিয়ে আসেন।" 

ঘুল্লিবাড়ি এলাকার  গৃহবধূ তুরানী সুলতানা (৩৫) বলেন, "প্রসূতির চিৎকার শুনে বাড়ি থেকে বের হয়ে দেখি ক্লিনিক গেটের সামনের রাস্তায় গৃহবধূ বাচ্চা প্রসব করেছে। পরে কাপড় দিয়ে সদ্যজাত শিশু ও মাকে আড়াল করি। তারপর শিশুর নাড়ি কেটে দেই। এ ছাড়া প্রসূতিকে আমরা সব ধরনের সহযোগিতা করি। কিন্তু ক্লিনিকের মালিক ডা. অনুপ কুমার মজুমদার তখন ঘুমাচ্ছিলেন। তার নার্সসহ ক্লিনিকে কর্মরতরাও এগিয়ে আসেনি। এ দায় তারা এড়াতে পারে না।" 

তহমিনা (২৫) নামের অপর একজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "বাচ্চা প্রসব করার পর রোগী ও তার স্বজনরা ক্লিনিকের সামনের  রাস্তার ওপর প্রায় ৩০ মিনিট অবস্থান করেন। এসময়েও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ক্লিনিকের গেট না খুলে রোগীর সাথে অমানবিক আচরণ করেছে। পরে প্রসূতি ও তার বাচ্চাকে শহরের বটতলার হামিদা ক্লিনিকে ভর্তি করি।"