• বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:০০ বিকেল

প্রতিপক্ষের হুমকির মুখে বুধবার শুরু ঠাকুরগাঁও জেলা ইজতেমা

  • প্রকাশিত ১১:১৮ রাত আগস্ট ২১, ২০১৯
ঠাকুরগাঁও
ঠাকুরগাঁওয়ের মানচিত্র।

যে কোনো মূল্যে ইজতেমাটি প্রতিহত করার হুমকি দিয়ে মানববন্ধন করেছে প্রতিপক্ষ মাওলানা সা’দ কান্ধলবী পন্থীরা

জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে ২২-২৪ আগষ্ট জেলা ইজতেমা সম্পন্ন করতে রাণীশংকৈল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সা’দ পন্থী তাবলীগ জামাতের লোকজন। অন্যদিকে যেকোনো মূল্যে এটি প্রতিহত করার হুমকি দিয়ে মানববন্ধন করেছে প্রতিপক্ষ মাওলানা জুবায়ের পন্থীরা। এদিকে ইজতেমা প্রতিহত করার ঘোষণাটি বেআইনি বলে উল্লেখ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির যে কোনো অপতৎপরতা শক্তহাতে প্রতিহত করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার মোহা. মনিরুজ্জামান। 

পূর্বেই ঠিক হওয়া এই ইজতেমা সম্পন্ন করার একদিন আগে মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) ইজতেমা স্থান রাণীশংকৈল শিবদিঘী মোড়ে মাওলানা সা’দ কান্ধলবী পন্থীদের জেলা ইজতেমা ঠেকাতে মাওলানা জুবায়ের পন্থীরা ঠাকুরগাঁও জেলা ওলামায়ে কেরাম, তাবলীগের সাথী ও সর্বস্তরের তাওহীদির ব্যানারে মানব বন্ধন করে। এ মানববন্ধনের পর ইজতেমা নিয়ে টঙ্গীর ভয়াল রক্তাক্ত স্মৃতি মনে করে মানুষের মনে আতংক ছড়িয়ে পরে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, তাবলীগ জামাতের বির্তকিত ব্যাক্তি সা’দ পন্থীরা জেলা ইজতেমা যেন না করতে পারে এজন্য প্রশাসনকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এরপরও যদি সেখানে ইজতেমা হয় প্রয়োজনে মাথার পাগড়ি কোমরে বেঁধে আমরা প্রতিহত করবো। চট্রগ্রামের হাটহাজারী থেকে আল্লামা শফি সাহেবকে এনে গণজমায়েত করবো। বক্তারা আগামি ২২ আগস্ট ইজতেমার একই স্থান পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মহাসমাবেশের ঘোষণা দেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নেকমরদ ওলামা পরিষদ সম্পাদক মো. রাজিউল ইসলাম রাজু, ওলামাদের মুরব্বি মাহমুদুল্লাহ, লাহিড়ী জামে মসজিদের খতিব মজিবুর রহমান, পীরগঞ্জ ইমাম ওলামা পরিষদ সম্পাদক নুরুজাম্মানের পরিচালনায় আরো বক্তব্য রাখেন ঠাকুরগাঁও মারাক্কাজ মসজিদের ইমাম জামিল আহাম্মেদ, তাবলীগ জামাতের জেলা জিম্মাদার বদরুজাম্মান কামাল, প্রারম্ভিক বক্তা মহিলা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম, জেলা ইমাম ওলামা পরিষদ সভাপতি উবাইদুল মতিন প্রমুখ।

উল্লেখ্য তাবলীগ জামাতের ৩দিন ব্যাপী (২২-২৪ আগষ্ট) জেলা ইজতেমা করতে রাণীশংকৈল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সা’দপন্থী তাবলীগ জামাতের লোকজন।

উদ্ভুত পরিস্থিতি সামাল দিতে তৎপর হয়ে ওঠে জেলা পুলিশ। জেলা ইজতেমা সম্পন্ন করতে বুধবার (২১ আগস্ট) বিকালে থানা চত্বরে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষে পুলিশ বাহিনীকে দিক-নির্দেশনা ও স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে প্রেস ব্রিফিং করেন ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান (পিপিএম সেবা)।  

এসময় পুলিশ সুপার বলেন, “জেলা ইজতেমা সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়া হবে। এতে পুলিশ বাহিনীর যা করণীয় তার বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করবে না। আজ থেকে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে চেকপোস্ট বসানো হবে এবং ছাত্রাবাস ও মেসগুলো তল্লাশি করা হবে।”

পুলিশ বাহিনীর উদ্দেশে তিনি বলেন, “যেখানে যতটুকু বল প্রয়োগ করা দরকার সেখানে ততটুকু বল প্রয়োগ করবেন। প্রথমে লাঠিচার্জ এরপর গ্যাস গান, শর্টগান এরপরেও নিজেরা অথবা অন্যেরা আক্রান্ত হলে ফায়ার করবেন। আর এ ইজতেমা সুন্দর ভাবে সম্পন্ন করতে পারলে পুলিশ বাহিনীকে পুরস্কৃত করা হবে “

মাওলানা জুবায়েদ পন্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরো বলেন, “ইজতেমা প্রতিহত করার ঘোষণাটি বেআইনি। যারা এঘোষণা দিয়েছেন তারা বেআইনি কাজ করেছেন। আমরা এই বেআইনি কাজটি করতে দিতে পারি না। আশাকরি আপনারা ঘোষণাটি প্রত্যাহার করবেন।”

এদিকে যেকোনো নাশকতা ঠেকাতে তিন স্তরের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে পুলিশ সুপার নিশ্চিত করেন। এসময় আরো বক্তব্য দেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আল আসাদ মো. মাহাফুজুল ইসলাম।

রাণীশংকৈল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সাংবাদিক মোবারক বুধবার রাতে টেলিফোনে বলেন, “ইজতেমার স্থানে লোকজন জমায়েত হতে শুরু করেছে। এপর্যন্ত জুবায়ের পন্থীদের কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি।”