• সোমবার, অক্টোবর ১৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৫:৫৩ সন্ধ্যা

ফিরে যেতে রাজি হননি কোনো রোহিঙ্গা

  • প্রকাশিত ০২:৫৫ দুপুর আগস্ট ২২, ২০১৯
রোহিঙ্গা
টেকনাফের শালবাগান রোহিঙ্গা শিবিরে সংবাদ ব্রিফিং করেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম। সৈয়দ জাকির হোসেন/ঢাকা ট্রিবিউন

বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) বিকেল পর্যন্ত কোনো রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য অপেক্ষারত গাড়িতে না ওঠায় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা যায়নি

কক্সবাজারের টেকনাফে শরণার্থীশিবিরে অবস্থানকারী কোনো রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফিরে যাবার জন্য রাজি না হওয়ায় প্রত্যাবাসন শুরু করা যায়নি। 

এর আগে, বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে টেকনাফের শালবাগান রোহিঙ্গা শিবিরে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম বলেন, “আমরা সবধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। যদি বিকাল ৪টা পর্যন্ত কেউ স্বেচ্ছায় রাজি হয় তাকে পাঠানো হবে। তবে এখনপর্যন্ত কোনো রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য অপেক্ষারত গাড়িতে ওঠেনি। তাই প্রত্যাবাসনও শুরু করা যাচ্ছে না। তবে আমরা বিকেল ৪টা পর্যন্ত অপেক্ষা করব।” 

এই কমিশনার আরো বলেন, “তবে রোহিঙ্গাদের সাক্ষাৎকার অব্যাহত থাকবে। শালবাগান শিবিরে তালিকাভুক্ত সমস্ত ১০৩৭ রোহিঙ্গা পরিবারের সাক্ষাৎকার শেষ করার পরে, তারা ফিরে যেতে ইচ্ছুক কিনা তা আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারব।”

সেসময় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে আসা চীন ও মিয়ানমারের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বুধবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায় কক্সবাজারে নিজ কার্যালয়ে মোহাম্মদ আবুল কালাম সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “আগামীকাল রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হতে পারে। এজন্য সবধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টার মধ্যে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু হতে পারে।” 

সেসময় তিনি বলেন, “আমরা গত দুইদিনে মোট ২৩৫টি পরিবারের প্রধানদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা অনেকেই আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। তাই আমরা সকালে পাঁচটি বাস, তিনটি ট্রাক প্রস্তুত রেখেছি। এপর্যন্ত যেসব রোহিঙ্গার সঙ্গে কথা বলেছি, তারা প্রত্যেকে স্বেচ্ছায় নিজ উদ্যোগে আমাদের সঙ্গে কথা বলতে এসেছে। এতে কাউকে জোর করে আনা হয়নি। এসব পরিবারের সংখ্যা, তাদের শর্তসহ বিভিন্ন তথ্য নিয়ে ডাটাবেজ প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং রাতের মধ্যেই তালিকাটি প্রস্তুত করা হবে। এসব তালিকা থেকে সকালে যারা স্বেচ্ছায় গাড়িতে উঠবে মূলত তাদেরকেই প্রত্যাবাসন করা হবে।”

প্রত্যাবাসনের সময় মিয়ানমারের পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতির কথা জানিয়ে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার বলেন, “রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণের জন্য বাংলাদেশে মিয়ানমারের দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা ও চীনা দূতাবাসের দুজন কর্মকর্তা বর্তমানে কক্সবাজারে অবস্থান করছেন। তারা পুরো প্রক্রিয়াটি পর্যবেক্ষণ করবেন। সারাদিন তারা আমাদের সঙ্গে থাকবেন বলে জানিয়েছেন।”

২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্বপরিকল্পিত ও কাঠামোগত সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে নতুন করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ৭ লাখেরও বেশি মানুষ। এদের সঙ্গে রয়েছে ১৯৮২ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত নানা অজুহাতে নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচার জন্যে বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেওয়া অন্তত সাড়ে ৩ লাখ রোহিঙ্গা। সব মিলে বাংলাদেশে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে বাংলাদেশ-মিয়ানমার প্রত্যাবাসন চুক্তি সম্পন্ন হয়। একই বছরের ৬ জুন নেপিদোতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমার ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর মধ্যেও সমঝোতা চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী গত বছরের ১৫ নভেম্বর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। তবে আবারও হামলার মুখে পড়ার আশঙ্কায় রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরতে অস্বীকৃতি জানানোয় ব্যর্থ হয় ওই উদ্যোগ।

সর্বশেষ জুলাই মাসে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে নতুন করে উদ্যোগের অংশ হিসেবে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থোয়ের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দল। ১৫ সদস্যের দলটি দুই দিন ধরে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আলোচনা ও বৈঠক করে। ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বৃহস্পতিবার নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুমের সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরুর কথা ছিল।