• শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:১৪ রাত

ভিক্ষুকের জমি স্ত্রীর নামে লিখে নিলেন ভূমি কর্মকর্তা!

  • প্রকাশিত ০২:৫৯ দুপুর আগস্ট ২৮, ২০১৯
নরসিংদী

পুলিশের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক স্ত্রীর নামে জমি লিখে নেন তিনি

নরসিংদীর মনোহরদীতে এক ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার (তহশিলদার) বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ষাটোর্ধ্ব এক বিধবা ভিক্ষুকের বসতবাড়ি স্ত্রীর নামে লিখে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার একদুয়ারিয়া ইউনিয়নের গোখলা কলিকান্দা গ্রামে। ভুক্তভোগী ভিক্ষুক মিনারা বেগম দুখী গোখলা ওই গ্রামের মৃত আব্দুল আউয়ালের স্ত্রী। 

অভিযুক্ত তহশিলদার একই গ্রামের টুকুব আলী মুনশীর ছেলে তাজুল ইসলাম। তিনি বর্তমানে রায়পুরা উপজেলার রায়পুরা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সহকারী ভূমি কর্মকতা হিসেবে কর্মরত। এ ঘটনার বিচারের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী নারী। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মিনারা বেগমের বাবা গয়েছ আলী প্রায় ২৫ বছর আগে তার নামে ছয় শতাংশ জমি লিখে দেন। ১৫ বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর এক ছেলে দুই মেয়ে নিয়ে পৈত্রিক বাড়িতে বসবাস করতে শুরু করেন তিনি। পিতার লিখে দেওয়া জমির দলিলটি প্রতিবেশি আকলিমার কাছে গচ্ছিত রেখেছিলেন তিনি। চার বছর আগে মিনারা বেগম জানতে পারেন তার দলিলটি হারিয়ে গেছে। দলিলের জন্য বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে থাকলে প্রতিবেশি তহশিলদার তাজুল ইসলাম তাকে দলিলের নকল তুলে দেওয়ার আশ্বাস দেন। 

মিনারার অভিযোগ, দলিলের নকল আনার পর তাজুল ইসলাম মিনারার কাছে পঁচিশ হাজার টাকা দাবি করেন। তার পক্ষে এতো টাকা দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় তহশিলদার তাকে জমি লিখে দেওয়ার জন্য বলেন। এতে রাজি না হওয়ায় পুলিশের ভয় দেখিয়ে ভিটেবাড়ি থেকে সাড়ে তিন শতাংশ জমি জোরপূর্বক স্ত্রী নাছিমা বেগমের নামে লিখে নেন তহশিলদার তাজুল।

মাস তিনেক আগে ভিটের অবশিষ্ট আড়াই শতাংশ জমি স্ত্রীর নামে লিখে দেওয়ার জন্য মিনারাকে আবারও ভয় দেখাতে থাকেন তাজুল। বিষয়টি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ও চেয়ারম্যানকে জানান তিনি। এরপরই তহশিলদার তাজুলের প্রতারণার বিষয়টি ফাঁস হয়। বিষয়টি জানার পর গ্রামবাসী তাজুলের বিচার দাবি জানিয়েছেন।

মিনারা বেগম বলেন, ‘‘আমার পৈত্রিক ভিটাছাড়া সহায় সম্বল বলতে আর কিছুই নাই। আমি ভিক্ষা করে পেট চালাই। আমার শেষ সম্বল বলতে একখণ্ড ভিটে জমি। কিন্তু সেই শেষ সম্বলটুকুও তহশীলদার তাজুল আমার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তার স্ত্রীরনামে লিখে নিয়েছেন। এখনও আমাকে নিঃস্ব করার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।’’

তবে অভিযুক্ত তহশিলদার তাজুল ইসলামের দাবি, ‘‘মিনারা বেগমের অনুরোধেই আমার স্ত্রী তার জমি কিনেছেন। আমরা তাকে কোনো প্রকার ভয়-ভীতি দেখাইনি।’’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয়রা জানান, ‘‘তহশিলদার তাজুল ইসলাম একজন প্রতারক এবং দুশ্চরিত্রের লোক। জমিজমা নিয়ে আশপাশের লোকজনদের মাঝে সব সময় বিশৃঙ্খলা বাধিয়ে রাখেন।’’

স্থানীয় ইউপি সদস্য শরীফ ভূঁইয়া জানান, ‘‘ওই দরিদ্র নারীর সঙ্গে তহশিলদার তাজুল ইসলামের প্রতারণার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর গত শনিবার চেয়ারম্যানের মাধ্যমে সালিশ আহবান করা হয়। সালিশে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা থাকলেও তাজুল আসেননি। এতেই প্রামাণিত হয় তাজুল ইসলাম ভিক্ষুক নারীর সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।’’

একদুয়ারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছুজ্জামান মিটুল বলেন, ‘‘মিনারা বেগম ইউনিয়ন পরিষদের তালিকাভুক্ত ভিক্ষুক। ইউনিয়ন পরিষদের সকল সুযোগ-সুবিধা ছাড়াও তাকে আমরা সব সময় সহায়তা করে থাকি। আর ঐ নারীর সঙ্গে তহশিলদারের প্রতারণা করাটা খুবই দুঃখজনক। এ ধরনের প্রতারকদের কঠিন বিচার হওয়া উচিত।’’

মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাফিয়া আক্তার শিমু বলেন, একজন ভিক্ষুকের লিখিত অভিযোগের বিষয়টি শুনেছি। ব্যস্ততার কারণ এখনো তা দেখতে পারিনি। অভিযোগের তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।