• বুধবার, অক্টোবর ২৩, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:২৭ রাত

বন বিভাগ: স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছিল বাঘিনীটির

  • প্রকাশিত ০৪:৩৮ বিকেল আগস্ট ২৯, ২০১৯
বাঘ
গত ২০ আগস্ট পূর্ব সুন্দরবনের কটকা অভয়ারণ্যের আওতাধীন ছাপড়াখালী এলাকা থেকে বন বিভাগের সদস্যরা মৃত অবস্থায় বাঘটিকে উদ্ধার করেন। ঢাকা ট্রিবিউন

সেখানে বন্য পশুর পায়ের দাগ ছাড়া মানুষের কোনো চিহ্ন মেলেনি। তাই বিষটোপ বা ফাঁদের কারণে বাঘটির মৃত্যু হয়েছে, এমন সন্দেহ বাতিল করা হয়েছে

সুন্দরবনের পূর্ব বিভাগ থেকে উদ্ধারকৃত মৃত বাঘিনীটি কোনো শিকারির দেওয়া বিষটোপ অথবা রোগে ভুগে মারা যায়নি বরং সেটির স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছিল।

গত মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) রাতে সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) জয়নাল আবেদীনের দেওয়া এক প্রতিবেদনে এতথ্য জানা গেছে।

এর আগে গত ২০ আগস্ট বেলা ১২টার দিকে পূর্ব সুন্দরবনের কটকা অভয়ারণ্যের আওতাধীন ছাপড়াখালী এলাকা থেকে সাত ফুট দৈর্ঘ্য ও তিন ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট একটি স্ত্রী বাঘের মরদেহ উদ্ধার করেছিল বন বিভাগের টহল দলের সদস্যরা।

পরে বাঘিনীটির মৃত্যুর কারণ জানতে আইনানুযায়ী মরদেহটির ময়নাতদন্ত যৌথভাবে সম্পন্ন করেন বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সাতক্ষীরার শরণখোলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলাউদ্দিন মাসুদ। একইসঙ্গে বাঘটির মৃত্যুর কারণ অধিকতর নিশ্চিত হওয়ার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বন বিভাগের ফরেনসিক ল্যাবেও পাঠানো হয়। এ ছাড়া শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) জয়নাল আবেদীনকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়। মঙ্গলবার রাতে এই তদন্ত কমিটির দেওয়া প্রতিবেদনেই বাঘটির স্বাভাবিক মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে।


আরো পড়ুন - সুন্দরবন থেকে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মৃতদেহ উদ্ধার


সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের ডিএফও মো.মাহমুদুল হাসান বলেন, “তদন্ত কমিটি বাঘটির লাশ উদ্ধারের ঘটনাস্থল থেকে আশেপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকা ঘুরে দেখেছে। সেখানে বন্যপশুর পায়ের দাগ ছাড়া মানুষের কোনো চিহ্ন মেলেনি। তাই বিষটোপ বা ফাঁদে পড়ে বাঘটির মৃত্যু হয়েছে, এমন সন্দেহ বাতিল করা হয়েছে। একইসঙ্গে বাঘটির শরীরে কোনো গুলি বা আঘাতের চিহ্ন অথবা অস্বাভাবিক মৃত্যুর আলামত খুঁজে পাননি ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকেরা। তাই বাঘটির স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলেই তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।”

মাহমুদুল হাসান বলেন, “বাঘটির মরদেহ থেকে সংগৃহীত নমুনার ফরেনসিক রিপোর্ট পাওয়া গেলে মৃত্যুর কারণ আরো স্পষ্ট হওয়া যাবে।” ফরেনসিক রিপোর্টটি আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই পাওয়া যেতে পারে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

এর আগে গত ২০ আগস্ট, মাহমুদুল হাসান ঢাকা ট্রিবিউনকে জানিয়েছিলেন, “একটি বাঘ বন্য পরিবেশে খুব বেশি হলেও ১২ থেকে ১৪ বছর বাঁচে। মৃত বাঘটির আনুমানিক বয়স ১০ বছর।”

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বাঘ বিশেষজ্ঞ ড. মনিরুল এইচ খান ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “একটি বাঘ সাধারণত ৩ বছরেই পূর্ণ বয়স্ক হয় এবং কোনো কারণে যদি মারা না যায় তবে ১৪ থেকে ১৫ বছর বয়স পর্যন্ত বাঁচতে পারে। তবে বাঘ দেখে সঠিক বয়স কখনো বলা সম্ভব নয়, এটা অনুমানের বিষয়। ১০বছর বয়সী কোনো বাঘের স্বাভাবিক মৃত্যু হলে তা বার্ধক্যজনিত কারণে হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যেতে পারে।”


আরো পড়ুন - বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করতে বাংলাদেশ কি ব্যর্থ হতে যাচ্ছে? 

গাজীপুর সাফারি পার্কে গুইসাপ খেয়ে বাঘের মৃত্যু