• বুধবার, অক্টোবর ২৩, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:২৭ রাত

পরকীয়ার কারণে হত্যা: প্রেমিকের যাবজ্জীবন, প্রেমিকার তিন বছরের কারাদণ্ড

  • প্রকাশিত ০৬:৪০ সন্ধ্যা আগস্ট ২৯, ২০১৯
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পরকীয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় স্বামীকে হত্যার দায়ে এক নারীকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত ঢাকা ট্রিবিউন

এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে বলে জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী

জেলার নবীনগর উপজেলার ইব্রাহিমপুর গ্রামে চাঞ্চল্যকর সৌদি প্রবাসী শফিকুল ইসলাম হত্যা মামলার আসামি মো. জসিম উদ্দিনকে যাবজ্জীবন এবং অপর আসামি শফিকুলের স্ত্রী মরিয়ম বেগমকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা ও দায়রা জজ আদালত। 

বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে বিচারক মোহাম্মদ সফিউল আজম এই রায় দেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পরকীয়া প্রেমে বাধা দেওয়ায় ২০১২ সালের ৩ অক্টোবর রাত ১১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ইব্রাহিমপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে সৌদি প্রবাসী শফিকুল ইসলামকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এতে নিহতের স্ত্রী মরিয়মের প্রেমিক জসিম উদ্দিনও অংশ নেন। পরদিন কাউকে কিছু না জানিয়ে নিহত শফিকুলের লাশ তড়িঘড়ি করে কবর দেয়া হয়। 

বিষয়টি এলাকাবাসী টের পেলে নিহতের খালাতো ভাই রাজন মিয়া ওই বছরের ২৫ অক্টোবর বাদী হয়ে নিহতের স্ত্রী মরিয়ম ও তার প্রেমিক জসিম উদ্দিনকে আসামি করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। 

আদালতের নির্দেশে নবীনগর থানার পুলিশ উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাছির উদ্দিন শরীফ মামলাটি তদন্ত করে মোট নয় সাক্ষীকে আদালতে হাজির করেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত মামলাটি পর্যালোচনা করে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় প্রধান আসামি মো. জসিম উদ্দিনকে যাবজ্জীবন ও মরিয়ম বেগমকে তিনবছরের সশ্রম কারাদণ্ডের সাজা দেন। 

এদিকে, ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন জসিম উদ্দিন। রায় শুনে আদালতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহত শফিকুলের স্ত্রী মরিয়ম।

মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাজন মিয়া ও বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হারুনুর রশিদ খান। তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে বলে জানান আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আরিফুল হক মাসুদ।