• সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৭:১৩ রাত

যাত্রীকে রেলওয়ে পুলিশ: টিকিট কাটা লাগবে না, আমার সাথে আসেন

  • প্রকাশিত ০৬:৩৯ সন্ধ্যা সেপ্টেম্বর ২, ২০১৯
জামালপুর রেল
জামালপুর রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের টিকিট কিনতে নিরুৎসাহিত করছেন রেলওয়ে পুলিশের কয়েকজন সদস্য ঢাকা ট্রিবিউন

তাদের বিরুদ্ধে টিকিট কালোবাজারিদের সঙ্গে যোগসাজশেরও অভিযোগ রয়েছে

“স্ট্যন্ডিং টিকিট কাটা লাগবে না, আমার সাথে আসেন। টিকিটের যা দাম, তাই দিয়েন। বসিয়ে নিয়ে যাবো আর বাকি সব আমি দেখবো।” স্টেশনে টিকিট কাটার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদেরকে এভাবেই বলছিলেন জামালপুর রেলওয়ে থানার কয়েকজন কনস্টেবল। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জামালপুর-ঢাকা রেলপথে ৪টি আন্তঃনগর, ৩টি মেইল, ২টি কমিউটার ও ২টি লোকাল ট্রেনসহ মোট ১২টি ট্রেন চলাচল করে। জামালপুরসহ শেরপুর  ও কুড়িগ্রাম জেলার বাসিন্দারাও এই রেলপথে যাতায়াত করে থাকেন। চাহিদার তুলনায় আসন সংখ্যা কম থাকায় এই রুটের যাত্রীদের একটি বড় অংশ আসনবিহীন (স্ট্যান্ডিং) টিকিট কেটে দাঁড়িয়েই চলাচল করেন। 

ট্রেন ছাড়ার কিছুক্ষণ আগে কাউন্টার থেকেই সরবরাহ করা হয় এই টিকিট। তবে অনেকদিন ধরেই যাত্রীদের অভিযোগ, জামালপুর জিআরপি থানার কয়েকজন অসাধু পুলিশ কনস্টেবল আসনবিহীন টিকিট প্রত্যাশী যাত্রীদের টিকিট না করার পরামর্শ দেন এবং ভ্রমণকারীদের বসিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিনিময়ে টিকিটের মূল্য নেন। 

রবিবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ‘অগ্নিবীণা’ ট্রেন ছাড়ার আগ মুহূর্তে জামালপুর রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, কাউন্টারের সামনে লাইনে থাকা যাত্রীদের কাছেই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় রেলওয়ে থানায় কর্মরত রবীন্দ্র চন্দ্র দে-সহ কয়েকজন কনস্টেবলকে। আসনবিহীন টিকিট কাটতে আসা ময়মনসিংহের যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলছিলেন তারা। টিকিট না করার পরামর্শ দিয়ে বসিয়ে নিয়ে জনপ্রতি ৫০ টাকা দাবি করছিলেন তারা। কয়েকজন যাত্রী তাদের কথায় রাজি হয়ে তাদের বলা আসনে গিয়ে বসে যান। ট্রেন ছাড়ার আগ মুহর্ত পর্যন্ত এভাবে ৭-৮ জন যাত্রীকে ট্রেনে ওঠান তারা। 

তাদের বিরুদ্ধে টিকিট কালোবাজারিদের সঙ্গে যোগসাজশেরও অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন যাত্রী জানান, কালোবাজারিরা রেলওয়ে পুলিশের সামনেই টিকিট বিক্রি করলেও তারা নীরব ভূমিকা পালন করে। 

এবিষয়ে স্থানীয় সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, সরকারের রাজস্ব ক্ষতি করে জামালপুর রেলওয়ে পুলিশের কয়েকজন অসাধু সদস্য অনেকদিন থেকেই এমন কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। এভাবে তারা প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। এমন কর্মকাণ্ডে তারা ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হলেও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সরকার। রেলওয়ে পুলিশের এমন কর্মকাণ্ড বন্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সামাজিক আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এবিষয়ে জামালপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাপস চন্দ্র পন্ডিতের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, আমি অসুস্থ আছি। বিষয়টি আমার জানা নেই। এমন অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দেখা হবে।

জামালপুর রেলওয়ে জংশন স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. শাহাবুদ্দিন বলেন,  বিষয়টি তার জানা নেই। তবে এরপর থেকে এবিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হবে।