• সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৭:১৩ রাত

জাবিতে দুর্নীতির অভিযোগ: উপাচার্যের পক্ষে-বিপক্ষে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি

  • প্রকাশিত ০৭:১৫ রাত সেপ্টেম্বর ২, ২০১৯
জাবি
বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনার পাদদেশে উপাচার্যপন্থীদের মানববন্ধন। ঢাকা ট্রিবিউন

`তিনি যদি অভিযুক্ত নাই হয়ে থাকেন তবে তদন্তের মুখোমুখি হতে সমস্যা কোথায়?’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি-অস্বচ্ছতার অভিযোগকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ ও ‘মিথ্যা’ দাবি করে মানববন্ধন করেছে প্রশাসনপন্থী শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। 

সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের সামনে ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদ’ এর ব্যানারে প্রশাসনপন্থী শিক্ষকরা মানববন্ধন করেন। একই সময় পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে ‘কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ’ এর ব্যানারে মানববন্ধন করেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

এদিকে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভমিছিল করেছে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তিনদফা দাবিতে মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) অবরোধ কর্মসূচি পালন করবে তারা। 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪৪৫ কোটি টাকার অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অপরিকল্পনা, অস্বচ্ছতা, বৃক্ষ নিধন, টেন্ডারে অনিয়ম ও উপাচার্যের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগকে দুই কোটি টাকা বাটোয়ারার অভিযোগ ওঠে। এসবের প্রতিবাদে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ এর ব্যানারে আন্দোলন চলমান রয়েছে। 

এসব অভিযোগকে মিথ্যা দাবি করে আজ মানববন্ধন করেন প্রশাসনপন্থী শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। মানববন্ধনে বিভিন্ন কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেওয়ায় দীর্ঘসময়ের জন্য স্থবির হয়ে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম। 

প্রশাসনপন্থী শিক্ষকদের মানববন্ধনে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদার বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নয়ন আমাদের সবার কাম্য। উন্নয়ন করতে হলে কিছু গাছ কাটতেই হবে। এখন এর বিরুদ্ধে যে আন্দোলন করা হচ্ছে তা স্পষ্ট এই উন্নয়ন কাজে বাধা সৃষ্টির জন্য। তদন্ত ও সুস্পষ্ট প্রমাণ ছাড়া কেউ কারো বিরুদ্ধে দোষারোপ করতে পারেন না। তাই উপাচার্যের বিরুদ্ধে দোষারোপ বন্ধ করুন।”

‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদ’র সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল মান্নান চৌধুরী বলেন, “এই উন্নয়ন কেউ থামিয়ে রাখতে পারবে না। পদ্মা সেতু উন্নয়নে কুচক্রীমহল বিতর্কের সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু উন্নয়ন হচ্ছে। এখন জাহাঙ্গীরনগরেও তা করা হচ্ছে। কিন্তু এই উন্নয়নও কেউ থামিয়ে রাখতে পারবে না। এই মিথ্যাচার করে উন্নয়ন কাজকে বন্ধ রাখতে পারবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকলের স্বার্থে উন্নয়ন হবে। মিথ্যাচারের মাধ্যমে দুর্নীতির অভিযোগ করা বন্ধ করুন।”

মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক লায়েক সাজ্জাদ এন্দেল্লাহ, অধ্যাপক হানিফ আলী, অধ্যাপক এ এ মামুন, অধ্যাপক মো. ফরহাদ হোসেন, অধ্যাপক এ টি এম আতিকুর রহমান, অধ্যাপক বশির আহমেদ, অধ্যাপক মজিবর রহমান, অধ্যাপক সোহেল আহমেদ, অধ্যাপক আলী আজম তালুকদার প্রমুখ।

অন্যদিকে উন্নয়ন প্রকল্পে নানা অভিযোগের প্রতিবাদে আগামীকাল (০৩ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে প্রশাসনিক ভবন অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। অবরোধের সমর্থনে সোমবার দুপুর একটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদ ভবনের সামনে থেকে বিক্ষোভমিছিল বের করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগের প্রতিবাদে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিল। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন 

সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আশিকুর রহমান বলেন, “প্রশাসনকে যখন বলা হল এটা অপরিকল্পনা, অস্বচ্ছ, দুর্নীতি হয়েছে, তখন থেকেই তারা বলছেন তারা উন্নয়ন বিরোধী, কুচক্রীমহল। এধরনের কথা শিক্ষার্থীদের আর বিমোহিত করবে না। আমরা রাজপথে ছিলাম না। বারবার বলেছি আমাদের প্রস্তাব মেনে নিন। কিন্তু তারা একটি যৌক্তিক উত্তরও দিতে পারেনি। তাই আপনাদের কথার কোনো নৈতিক ভিত্তি নেই।”

সমাবেশে দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, “উপাচার্য তার অনুগত শিক্ষক ও কর্মচারীদের দিয়ে বলাচ্ছেন যে লুটপাট ও টাকা ভাগাভাগির বিষয়টি মিথ্যা ও উদ্দেশ্যমূলক। কিন্তু তারা একবারও বলছেন না যে এদাবির প্রেক্ষিতে তদন্ত করা হোক। তিনি যদি অভিযুক্ত নাই হয়ে থাকেন তবে তদন্তের মুখোমুখি হতে সমস্যা কোথায়? তাদের এসবের কিছুই দরকার নেই। তাদের দরকার টাকা। যাতে তারা ভাগাভাগি করতে পারেন।”

সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ছাত্র ইউনিয়ন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সংসদের কার্যকরী সদস্য মিখা পিরেগু, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সাংগঠনিক সম্পাদক শোভন রহমান, ছাত্রফ্রন্ট (মার্র্ক্সবাদী) সভাপতি মাহাথির মুহাম্মদ, সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক আরিফুল ইসলাম প্রমুখ।