• মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৭:৩৯ রাত

ছেলের স্বীকারোক্তি: যেভাবে মাকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়

  • প্রকাশিত ১১:০০ রাত সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৯
বগুড়া
বগুড়ায় নেশার টাকা না পেয়ে মাকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে আটক সোহানুর খোকন মণ্ডল। ছবি : ঢাকা ট্রিবিউন

 মুহূর্তের মধ্যে আগুন খুকি বেগমের পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। মুখে কাপড় থাকায় তিনি চিৎকারও করতে পারেননি

বগুড়ার ধুনটের গজারিয়া গ্রামে বৃদ্ধা মা খুকি খাতুনকে (৬৫) পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় ছেলে সোহানুর রহমান খোকন (৩২) স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। 

মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন খোকন। 

বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল ইসলাম জবানবন্দি রেকর্ডের পর তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। 

ধুনট-শেরপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজিউর রহমান এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। 

আদালতে স্বীকারোক্তিতে খোকন জানান, ১ সেপ্টেম্বর রবিববার বিকেলে নেশার টাকার জন্য বাবা আবদুস সামাদ মন্ডলকে চাপ দেন। কিন্তু বাবা টাকা না দেওয়ায় তিনি মা খুকি খাতুনকে ঘরে আটকে রেখে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। এরপর পালিয়ে যাবার চেষ্টা করলে প্রতিবেশীরা তাকে ধাওয়া করে আটক করেন এবং মারপিট করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। 

ধুনট থানা পুলিশ জানায়, সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে নিহত খুকি খাতুনের বড় ছেলে জাকির হোসেন থানায় খোকন মন্ডলের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারে, তার ঘরে দেশীয় অস্ত্র, মদক ও ইয়াবা ট্যাবলেট রয়েছে। পরে ঘরে অভিযান চালিয়ে দুটি ধারালো অস্ত্র, দেশি-বিদেশি মদ, গাঁজা ও ১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জামাদি ও হত্যায় ব্যবহৃত পেট্রোলের কন্টেইনার উদ্ধার করা হয়। এব্যাপারে থানায় খোকনের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে পৃথক মামলা হয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আগের দু’টি মাদক মামলা রয়েছে।


আরো পড়ুন - সাউন্ডবক্স বাজিয়ে-পেট্রোল ঢেলে মাকে পুড়িয়ে হত্যা!


পুলিশ ও স্থানীয়রা আরো জানান, ঘটনার দিন বিকেলে খোকন ধারালো অস্ত্র ধরে মা খুকি খাতুনকে জিম্মি করে বাবার কাছে ৫ হাজার টাকা দাবি করেন। বাবা টাকা দিতে রাজি না হলে হাসুয়া দিয়ে ভয় দেখান। তখন বাবা বাধ্য হয়ে টাকা সংগ্রহের জন্য প্রতিবেশীদের কাছে যান। টাকা না পাওয়ায় সামাদ মন্ডল বাড়িতে ফিরতে দেরি হলে খোকন আরো ক্ষিপ্ত হন। এসময় তিনি নিজের মোটর সাইকেল থেকে পেট্রোল বের করেন এবং উচ্চ শব্দে সাউন্ডবক্সে মিউজিক চালিয়ে দেন। পরে প্রথমে মা খুকি খাতুনের মুখে কাপড় গুজে দেন ও রশি দিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলেন। পরে মাকে ঘরের মেঝেতে ফেলে গায়ের ওপর কম্বল বিছিয়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। মুহূর্তের মধ্যে আগুন খুকি বেগমের পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। মুখে কাপড় থাকায় তিনি চিৎকারও করতে পারেননি। এসময় খোকন ঘর থেকে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে ঘরের মধ্যে আগুন জ্বলতে দেখে প্রতিবেশীরা খোকনকে আটক করে মারপিট করে পুলিশের হাতে তুলে দেয় এবং দগ্ধ খুকিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার পথেই গাবতলীর গোলাবাড়ি এলাকায় খুকি মারা যান। 

ঘটনার পরদিন সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খুকির লাশ ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে দাফন করা হয়।