• শুক্রবার, অক্টোবর ১৮, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:০৩ রাত

পিটিয়ে মারা হলো অজগরটিকে

  • প্রকাশিত ০৬:৩৫ সন্ধ্যা সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৯
অজগর
সাপটিকে পিটিয়ে মারে গ্রামবাসী। ছবি: বন বিভাগের সৌজন্যে

‌‘গ্রামবাসী ভয় পেয়েই সাপটিকে মেরে ফেলেছে। পরে সেটিকে মাটিচাপা দেওয়া হয়’

পাবনার চাটমোহর উপজেলায় একটি অজগর সাপ পিটিয়ে হত্যা করেছে গ্রামবাসী।

মঙ্গলবার ( ৪ আগস্ট) দিবাগত রাত ১১টার দিকে উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের চকউথূলী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে চক উথুলী গ্রামের জুয়েল, আজমির ও জাহাঙ্গীর নামে তিন তরুণ গ্রামের পাশের বিলে মাছ ধরতে যাচ্ছিলেন। পথে একটি ধানের জমির আইলের ওপর সাপটিকে শুয়ে থাকতে দেখে ভয় পেয়ে চিৎকার শুরু করলে গ্রামবাসী ছুটে এসে পিটিয়ে মেরে ফেলেন সাপটিকে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে মূলগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আরজান আলী বলেন, “গ্রামবাসী ভয় পেয়েই সাপটিকে মেরে ফেলেছে। ছয় ফুট লম্বা সাপটির ওজন ছিল ১৫ কেজি। পরে সেটিকে মাটিচাপা দেওয়া হয়।”

এদিকে, পাবনায় অজগর সাপের উপস্থিতির ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এম এ আজিজ ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “পাবনায় তো অজগর থাকার কথা নয়! ওই এলাকায় কোনো বনও নেই। তারপরও যদি ওই এলাকায় আবাসিক অজগর থাকতো তবে সেটি অবশ্যই অনেক আগেই মানুষের চোখে পড়তো।”


আরো পড়ুন - মুন্সীগঞ্জে ‘বাঘের’ ঘোরাফেরা, আসল রহস্য কী?


অধ্যাপক আজিজ বলেন, “অজগর সাধারণত সুন্দরবন বা পাহাড়ি এলাকায় থাকে। তবে দু’টি কারণে সেখানে অজগর গিয়ে থাকতে পারে। এক. কিছুদিন আগে বন্যা হয়েছে। বন্যার পানিতে ভেসে সাপটি সেখানে যেতে পারে। দ্বিতীয় কারণ হতে পারে, বন্যপ্রাণী পাচার। সাপটি হয়তো কোনোভাবে পাচারকারীদের ফাঁকি দিয়ে পালিয়েছিল অথবা বেকায়দায় পড়ে পাচারকারীরা সেটিকে ছেড়ে দিয়েও থাকতে পারে।”

তিনি জানান, অজগর (Python) হচ্ছে পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম সাপ। এটি বাংলাদেশে ময়াল নামেও পরিচিত। এদের কোনো বিষ নেই। এই প্রাণীটি শিকারকে পেঁচিয়ে দম বন্ধ করে মারে। সাধারণত এটি মানুষের কোনো ক্ষতি করে না। তবে কখনো মুরগী বা গৃহপালিত ছোট প্রাণী ধরে খায়।

পাবনার ফরেস্টার মো. আব্দুল কুদ্দুস ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “অজগরের মৃত্যুর খবর আমি শুনিনি। যদিও আমরা সামাজিক বন বিভাগের দায়িত্বে তারপরেও বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত বিষয়গুলো রাজশাহী বন্যপ্রাণী ইউনিটের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়ে থাকে। বিষয়টি সম্পর্কে আমি খোঁজ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাচ্ছি।”

চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার অসীম কুমার বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি জানি না। কিন্তু এমন ঘটনা ঘটে থাকলে সেটা খুবই দুঃখজনক। আমি এখনই খোঁজ নিচ্ছি। ভবিষ্যতে কোনোভাবেই যেন এরকম ঘটনা আর না ঘটে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বসব।”


আরো পড়ুন - রাজশাহীর পুকুর থেকে কুমির উদ্ধার!


বন বিভাগের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের নব নিযুক্ত পরিচালক এ. এস. এম. জহির উদ্দিন আকন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “ঘটনাটি ফেসবুকে দেখে খোঁজ নিয়েছি। যে সাপটি মারা হয়েছে তার নমুনা সংগ্রহ করে ফরেনসিক ল্যাবে নিয়ে গবেষণার কাজ করার কথা ভেবেছি। ইতোমধ্যে এবিষয়ে একজনকে দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে।”

অজগর হত্যা ঘটনায় কারো বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আইন আছে, ব্যবস্থাও নেওয়া যায়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে মানুষ জানেই না বন্যপ্রাণী হত্যা অপরাধ। তাই এবিষয়ে সবার আগে প্রয়োজন জনসচেতনতা সৃষ্টি।”