• মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৭:৩৯ রাত

উপাচার্যের আলোচনার প্রস্তাবে ‘আন্তরিকতার’ শর্তে রাজি জাবি শিক্ষার্থীরা

  • প্রকাশিত ০৩:০৭ বিকেল সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৯
জাবি
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কাছে আলোচনার প্রস্তাব নিয়ে যান উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম। ঢাকা ট্রিবিউন

আলোচনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষে উপাচার্য, দু‘জন উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ছাড়া অন্য কেউ থাকতে পারবে না এমন শর্তও দিয়েছে শিক্ষার্থীরা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ১ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকার অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগের বিচার বিভাগীয় তদন্তসহ তিন দফা দাবির ব্যাপারে আন্তরিকতার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসার প্রস্তাবে রাজি হয়েছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে সাতটায় তৃতীয় দিনের মতো ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ এর ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ও পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে অবরোধ শুরু করেন শিক্ষক-শির্ক্ষাথীদের একটি পক্ষ। তাদের অপর দুটি দাবি হলো- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল ঘিরে তিনটি দশতলা হলের বিকল্প স্থান নির্ধারণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে প্রকল্পের মাস্টারপ্ল্যান পুনর্বিন্যাসকরণ।

বেলা ১২টা ৫ মিনিটে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম আলোচনার প্রস্তাব নিয়ে নিজ বাসভবন থেকে পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কাছে যান।

এ সময় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) আমির হোসেন, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) নুরুল আলম, কোষাধ্যক্ষ শেখ মো. মনজুরুল হক, হল প্রভোস্ট কমিটির সভাপতি ও ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের পরিচালক বশির আহমেদ, উপাচার্যের অনুসারী আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদ’ এর সভাপতি মান্নান চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ.স.ম ফিরোজ-উল-হাসান, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজসহ প্রায় ৪০ জন শিক্ষক উপাচার্যের সঙ্গে ছিলেন।

সাংবাদিকদের ব্রিফ করছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

উপাচার্য আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিলে তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অনড় অবস্থান থেকে সরে এসে দাবির ব্যাপারে আন্তরিকতার শর্ত জুড়ে দেন। অপরদিকে ‘খোলা মনে’ যৌক্তিক সমাধানের আগ্রহের কথা জানান উপাচার্য ও তার সঙ্গে আসা শিক্ষকরা। প্রায় ৫০ মিনিট দু’পক্ষের যুক্তি-পাল্টা যুক্তির একপর্যায়ে উপাচার্য ‘আন্তরিকতার’ শর্তে একমত হয়ে ১২টা ৫৫ মিনিটে বাসভবনের দিকে ফিরে যান।

আলোচনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষে উপাচার্য, দু‘জন উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ছাড়া অন্য কেউ থাকতে পারবে না এমন শর্তও দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. আমির হোসেন বলেন, “আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আজ সন্ধ্যায় খোলা মনে আলোচনায় বসতে বলেছি। আলোচনার মাধ্যমে যৌক্তিক ও সম্ভাব্য দাবি আমরা মেনে নিব।”


আরো পড়ুন - জাবিতে অবরোধ গড়ালো তৃতীয় দিনে (ভিডিও)


আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অন্যতম সমন্বয়ক জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আশিকুর রহমান বলেন, “আন্দোলন ও আলোচনা একসাথে চলবে। আলোচনার পর আমরা সিদ্ধান্ত জানাবো আন্দোলন থেকে উঠে আসবো কিনা।”

আশিকুর জানান, বিকাল ৪টায় আলোচনায় অংশগ্রহণের জন্য আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধি ঘোষণা করা হবে। তবে আলোচনার সময় ও স্থান নির্ধারণ হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়নের জন্য গত বছরের ২৩ অক্টোবর ১ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকা অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (একনেক)। এই প্রকল্পের প্রথম ধাপে পাঁচটি আবাসিক হল নির্মাণের জন্য গত ১ মে টেন্ডার আহ্বান করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। হলগুলো নির্মাণে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৪০০ কোটি টাকা।

সম্প্রতি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, নির্মাণকাজ বাধাহীনভাবে সম্পন্ন করতে গত ৯ আগস্ট উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম ও তার পরিবারের নেতৃত্বে শাখা ছাত্রলীগ ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগকে দুই কোটি টাকা বাটোয়ারা করে দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ২৩ মে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে টেন্ডার শিডিউল ছিনতাইয়ের অভিযোগ ওঠে শাখা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে।

এছাড়া নির্মিতব্য হলগুলোর জন্য নির্বাচিত স্থানগুলোতে ১১শ'র অধিক গাছ কাটার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। যার মধ্যে অর্ধেকের বেশি গাছ কাটা পড়েছে।

আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রকল্প বাস্তবায়নে যে মাস্টারপ্ল্যান অনুসরণ করা হচ্ছে তা অপরিকল্পিত-অস্বচ্ছ।

তিন দফা দাবিতে গত কয়েকদিন ধরে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’এর ব্যানারে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একটি পক্ষ।