• রবিবার, অক্টোবর ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:০০ রাত

যশোরে পুলিশ কর্তৃক ধর্ষণের মামলা পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর

  • প্রকাশিত ১০:৪০ রাত সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৯
গণধর্ষণ
প্রতীকী ছবি।

শুক্রবার দুপুরে মামলার নথিপত্র পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়

ঘুষ না পেয়ে ‘আসামির’ স্ত্রীকে গণধর্ষণের মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনেভেস্টিগেশনের কাছে  (পিবিআই) হস্তান্তর করা হয়েছে।

শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মামলার নথিপত্র পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাহউদ্দিন শিকদার বিষয়টি নিশ্চত করেন। মামলার নথিপত্র পেয়ে তদন্তের কাজ শুরু করে দিয়েছে পিবিআই।

পিবিআই যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কেএমএইচ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, শার্শার লক্ষণপুরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার নথিপত্র আজ দুপুরে গ্রহণ করা হয়েছে। মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে উপপরিদর্শক (এসআই) মোনায়েম হোসেনকে।

যোগাযোগ করা হলে এসআই মোনায়েম হোসেন খান এ প্রতিনিধিকে বলেন, "মামলার কাগজপত্র পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলেছি। আরও কিছু বিষয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছি। এছাড়া মামলার সব ধরনের আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।"

এর আগে শুক্রবার সকালে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূ সাংবাদিকদের জানান, ‘ভয়ভীতির’ কারণে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সামনে এসআই খায়রুলের নাম তিনি প্রকাশ করতে পারেননি। এসময় অভিযুক্ত এসআই খায়রুল এবং অন্য তিনজন আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি তিনি দাবি করেন।


আরও পড়ুন: পুলিশ কর্তৃক ধর্ষণ: ভয়ে নাম বলেননি সেই গৃহবধূ! 


প্রসঙ্গত, গত ২ সেপ্টেম্বর যশোরের শার্শা উপজেলার লক্ষ্মণপুর এলাকায় দুই সন্তানের জননী এক গৃহবধূ (৩০) পুলিশের এসআই খায়রুল আলম ও সোর্স কামরুজ্জামান ওরফে কামারুল কর্তৃক সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন বলে অভিযোগ করা হয়। গত ২৫ আগস্ট ওই নারীর স্বামী, যিনি একসময় চোরাচালানের পণ্য বহন করতেন তাকে পুলিশ আটক করে। সেইসময় তাকে ছেড়ে দেওয়ার শর্তে ৫০ হাজার দাবি করেন গোড়পাড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই খায়রুল আলম। টাকা না দেওয়ায় তাকে ৫০ বোতল ফেনসিডিল দিয়ে চালান দেওয়া হয়।

ওইদিন রাতেই এসআই খায়রুল, সোর্স কামারুলসহ চারজন ওই গৃহবধূর বাড়িতে গিয়ে আবারও ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে এসআই খায়রুল ও কামারুল তাকে ধর্ষণ করেন বলে ওই গৃহবধূ অভিযোগ করেন।

পরদিন সকালে ওই গৃহবধূ যশোর জেনারেল হাসপাতালে মেডিকেল পরীক্ষা করাতে গেলে বিষয়টি জানাজানি হয়। পরীক্ষার জন্যে সেদিন বিকেলে আলামত সংগ্রহ করেন চিকিৎসকরা।

এদিকে, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা জানাজানি হওয়ায় জেলা পুলিশ প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

ধর্ষণের এই ঘটনায় ওই গৃহবধূ ৩ সেপ্টেম্বর রাতে শার্শা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় এসআই খায়রুলের নাম রাখা হয়নি। আসামি করা হয় শার্শার চটকাপোতা এলাকার কামরুজ্জামান ওরফে কামরুল, লক্ষ্মণপুর এলাকার আব্দুল লতিফ এবং আব্দুল কাদেরকে এবং একজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। 

৫ সেপ্টেম্বর যশোর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. আরিফ আহমেদ জানিয়েছিলেন, মেডিকেল পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। তবে, অভিযুক্তদের শনাক্ত করতে ডিএনএ টেস্টের প্রয়োজন।