• মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪০ রাত

‘গৃহবধূর নগ্ন ছবি ধারণ করে অনৈতিক প্রস্তাব’, ইউপি সদস্য আটক

  • প্রকাশিত ১১:৪৫ সকাল সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৯
ঠাকুরগাঁও
আটক অশ্বিনী কুমার বর্মণ। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

‘তোর স্বামীর কাছ থেকে নিয়ে আমাদের এক লাখ টাকা না দিলে তোর এই ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দিবো’

ঘরে আটকে রেখে গৃহবধূর নগ্ন ছবি ধারণ করে চাঁদা দাবি ও অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে এক ইউপি সদস্যকে আটক করেছে ঠাকুরগাঁও সদর থানা পুলিশ।

গৃহবধূর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) ভোর রাতে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের শাসলাপিয়ালা গ্রাম থেকে অশ্বিনী কুমার বর্মণকে (৩২) আটক করে পুলিশ। তিনি ওই ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও মৃত বিজয় কুমার বর্মণের ছেলে।

আটকের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশিকুর রহমান (পিপিএম-সেবা)।

গৃহবধূর লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০ দিন পূর্বে আউলিয়াপুর ইউনিয়নের নারায়ণ চন্দ্র বর্মণের ছেলে জীবন চন্দ্র বর্মণ (২৬) ওই গৃহবধূকে প্রতারণা করে শহরে তার এক বাড়িতে নিয়ে যায় । সেখানে একটি ঘরে তাকে আটকে রেখে জীবন ও অশ্বিনী কুমার তার গলায় ছুরি ঠেকিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে নগ্ন করে ছবি ধারণ করে এবং গৃহবধূর শ্লীলতাহানি করে। এ সময় বাড়ি পাহারায় নিযুক্ত ছিল একই এলাকার বিলাতু (৪০) ও রাজেন্দ্র (৪০) নামে দুই ব্যক্তি। এক সময় জীবন ও অশ্বিনী গৃহবধূকে ধর্ষণের জন্য উদ্যত হলে গৃহবধূর চিৎকারে তারা ব্যর্থ হয়।

পরে জীবন ও অশ্বিনী মটরসাইকেলযোগে গৃহবধূকে তার স্বামীর বাড়ির পাশে নামিয়ে দিয়ে বলে, “তোর স্বামীর কাছ থেকে নিয়ে আমাদের এক লাখ টাকা না দিলে তোর এই ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দিবো।” এদিকে লোকলজ্জা ও ভুল বোঝাবুঝির ভয়ে ওই গৃহবধূ তার স্বামীকেও এ ঘটনা জানাননি।

কিন্তু গত ২৫ আগষ্ট বিকেলে গৃহবধূর স্বামীর অনুপস্থিতিতে তার বাসায় প্রবেশ করে ইউপি সদস্য অশ্বিনী কুমার আবারও তার কাছে অশ্লীল ছবির বিনিময়ে এক লক্ষ টাকা দাবি করেন। এ সময় সেই গৃহবধূ ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তাৎক্ষণিক সেই ইউপি সদস্য অশ্বিনী কুমারকে তার স্বামীর গচ্ছিত ২০ হাজার টাকা প্রদান করেন। অশ্বিনী টাকা নিয়ে আগামী দুই দিনের মধ্যে বাকী আশি হাজার টাকা না দিলে এবং তার সাথে দৈহিক সম্পর্ক না করলে অশ্লীল ভিডিওগুলি ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যান।

এ ঘটনায় বিচলিত হয়ে ওই গৃহবধূ সমস্ত ঘটনা তার স্বামীকে জানান। পরে তার স্বামী বিষয়টি এলাকার চেয়ারম্যান-মেম্বারদের জানালে গ্রামে একটি সালিশ বৈঠক হয়। সেখানে অভিযুক্তরা তাদের অপকর্মের কথা স্বীকার করে এবং আবারও হুমকি দিয়ে বলে, “আমরা এটা ইন্টারনেটে ছেড়ে দেবো, কারো কিছু করার থাকলে যেন করে।”

পরে উপায় না পেয়ে ওই গৃহবধূ ন্যায় বিচারের আশায় চারজনের নাম উল্লেখ করে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সদর থানার ওসি আশিকুর রহমান বলেন, “গৃহবধূর লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অশ্বিনী নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে অভিযুক্ত ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত হলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”