• রবিবার, অক্টোবর ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩৩ রাত

'চাঁদা না দেওয়ায়' মসজিদের নির্মাণ কাজ বন্ধের অভিযোগ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে

  • প্রকাশিত ০৮:৪৯ রাত সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯
ভাংচুর
'চাঁদা না দেওয়ায়' নির্মাণাধীন মসজিদে ভাঙচুর চালিয়ে প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পঞ্চগড়ে তেঁতুলিয়া উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। ঢাকা ট্রিবিউন

বিষয়টি অস্বীকার করে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা জানান, চাঁদাবাজি বন্ধ করতেই কর্মীদের কাজের ব্যবস্থা করে দিতে চেয়েছিলেন তিনি

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় চাঁদা না দেওয়ায় মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহুরুল ইসলাম। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রকল্পে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রংপুর টেকনো ট্রেড।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, সারাদেশে ৫৬০টি উপজেলায় একটি করে মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় তেঁতুলিয়ায় মডেল মসজিদটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। কিন্তু বুধবার উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী মাসফিকুর রহমান সাকিবের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের একদল নেতা-কর্মী তাদের কাছে ২০ লাখ টাকা দাবি করেন। তবে, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক উপস্থিত না থাকায় তাদেরকে পরে আসতে বলা হয়। 

এসময় চাঁদা না দেওয়া হলে মসজিদের নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন অভিযুক্তরা।

খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে তেঁতুলিয়ায় যান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক নাজমুল হক। তিনি গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হুসাইন মো. সাফি মন্ডলের উপস্থিতিতে মসজিদের ঢালাইয়ের কাজ শুরু করেন।

নাজমুল হক অভিযোগ করেন, "ঢালাঈয়ের কাজ শুরু হওয়ার পর ছাত্রলীগ নেতা সাকিবের নেতৃত্বে ২৫-৩০ জন এসে কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়ে ভাঙচুর শুরু করেন। এসময় তারা আমাকে ও আমার কর্মীদেরকে মারধর করে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন। এমনকি তারা নির্মাণ শ্রমিকদের থাকার জন্য বানানো অস্থায়ী ঘরগুলোও ভাঙচুর করেছেন।"





 

পঞ্চগড়ে চাঁদা না দেওয়ায় নির্মাণাধীন মসজিদে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে।  ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

তিনি আরও জানান, "মারধরের ঘটনা মুঠোফনের ক্যামেরায় ভিডিও করার চেষ্টা করায় আমার গাড়ি চালকের মুঠোফোন এবং গাড়ির চাবি নিয়ে নিয়ে যান ছাত্রলীগ কর্মীরা। চাঁদা না দিয়ে নির্মাণকাজ শুরু করলে আমাকে সিমেন্টের বস্তায় বেঁধে ঢালাই দিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন তারা।"

"আমরা এই বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই আমি। ইতোমধ্যে আমি তেঁতুলিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি", যোগ করেন নাজমুল হক।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ইসাইন মো. সাফি মন্ডল বলেন, "ঘটনার সময় আমি সেখানে আমি উপস্থিত ছিলেন। একদল ছেলে সেখানে এসে কাজ বন্ধ করে দেয় এবং সেখানে উপস্থিত প্রকল্পের ঠিকাদার ও অন্যান্যদের মারধর করে। আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেছি।"   

তবে এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি বলে জানিয়েছেন তেঁতুলিয়া মডেল থানার ওসি জহুরুল ইসলাম। ঢাকা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, "ঘটনাটি জানার পর আমি নিজেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। তবে এ ব্যাপারে এখনো থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

এদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা কাজী মাসফিকুর রহমান সাকিব। তিনি দাবি করেন, "আমরা কোথাও কোনো চাঁদাবাজি করিনি। আমরা চাঁদাবাজি টেন্ডারবাজিতে বিশ্বাস করি না। আমি আমার কর্মীদের এসব থেকে বিরত রাখতে তাদের কাজের ব্যবস্থা করে দিতে চেয়েছিলাম। তারা যেসব অভিযোগ করছে তা সম্পূর্ণ বানোয়াট।