• রবিবার, অক্টোবর ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:০০ রাত

বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের ফেসবুক ব্যবহারে নির্দেশনা জারি

  • প্রকাশিত ০৫:২৫ সন্ধ্যা সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯
হাইকোর্ট
ফাইল ছবি। ঢাকা ট্রিবিউন

নির্দেশনা না মানলে তা অসদাচারণ হিসেবে গণ্য হবে এবং এক্ষেত্রে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালা, ২০১৭, এর পাশাপাশি প্রচলিত আইন ও বিধি-বিধান প্রযোজ্য হবে।

বিচারবিভাগীয় কর্মকর্তাদের ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে কয়েকদফা নিয়মাবলী অনুসরণের নির্দেশনা জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।

রবিবার (২২ সেপ্টেম্বর)  জারি করা ওই নির্দেশনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিচারিক কর্মঘণ্টায় (সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ৪টা) বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের উপস্থিতি কঠোরভাবে পরিহার করতে বলা হয়েছে।

এছাড়া, নির্দেশনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের ১১ দফা অবশ্যই পরিহার করতে বলা হয়েছে এবং ৮ দফা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের মুখপাত্র স্পেশাল অফিসার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান এ নির্দেশনাবলী জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।          

যে ১১ দফা অবশ্যই পরিহার করতে বলা হয়েছে:   

১. জাতীয় ঐক্য ও চেতনার পরিপন্থী কোনো প্রকার তথ্য, মন্তব্য ও অনুভূতি, প্রকাশ ও প্রচার। 

২. কোনো সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে এমন কোনো তথ্য, মন্তব্য বা অনুভূতি প্রকাশ ও প্রচার। 

৩. রাজনৈতিক মতাদর্শ বা আলোচনা সংশ্লিষ্ট কোনো তথ্য, মন্তব্য বা অনুভূতি প্রকাশ ও প্রচার। 

৪. কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বৈষম্যমূলক বা হেয়-প্রতিপন্নমূলক কোনো তথ্য, মন্তব্য বা অনুভূতি প্রকাশ ও প্রচার। 

৫. কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্রকে হেয় প্রতিপন্ন করে কোনো তথ্য, মন্তব্য বা অনুভূতি প্রকাশ ও প্রচার। 

৬. লিঙ্গবৈষম্যমূলক কোনো তথ্য, মন্তব্য বা অনুভূতি প্রকাশ ও প্রচার।

৭. জনমনে অসন্তোষ ও অপ্রীতিকর মনোভব সৃষ্টি করতে পারে এমন কোনো তথ্য, মন্তব্য বা অনুভূতি প্রকাশ ও প্রচার।

৮. কোনো মামলা সংক্রান্তে বিরূপ মন্তব্য বা ব্যক্তিগত অনুভূতি প্রকাশ বা প্রচার। 

৯. উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কোনো সিদ্ধান্তের বিষয়ে কোনো বিরূপ মন্তব্য বা ব্যক্তিগত অনুভূতি প্রকাশ বা প্রচার। 

১০. বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের ছবি বা ভিডিওক্লিপ প্রকাশ ও প্রচার।

১১. অপ্রাসঙ্গিক, অপ্রয়োজনীয়, মানহানিকর ও নৈতিকতা পরিপন্থী কোনো স্ট্যাটাস, পোস্ট, লিংক, ছবি ইত্যাদি অন্যজনকে সংযুকরণ, আদান-প্রদান, প্রকাশ ও প্রচার। 

যে ৮ দফা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে 

১. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিতব্য লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও ইত্যাদি নির্বাচন ও বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।

২. প্রকাশিত তথ্য ও উপাত্তের যথার্থতা ও নির্ভরযোগ্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে।

৩. ব্যক্তিগত ও পারিবারিক তথ্য আদান-প্রদান, প্রকাশ ও প্রচারের ক্ষেত্রে অবশ্যই সতর্কতা এবং বিচারক সুলভ মনোভাব অবলম্বন করতে হবে। 

৪. অপ্রয়োজনীয় ও গুরুত্বহীন বিষয়ে তথ্য, স্ট্যাটাস বা পোস্ট দেওয়া যাবে না। 

৫. বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের জন্য একটি পোর্টাল, গ্রুপ থাকতে পারে, যেখানে বিচারাধীন মামলার বিষয় ও ব্যক্তিগত বিষয় ব্যাতিত কেবল আইনগত বিষয়ে আলোচনা ও তথ্য আদান-প্রদান করা যাবে।

৬. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ও বিচারক সুলভ আচরণ করতে হবে এবং রাষ্ট্রীয় অনুশাসন মেনে চলতে হবে; 

৭. তথ্য আদান-প্রদান ও বন্ধু নির্বাচনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

৮. নিজ কর্মক্ষেত্রে মামলার স্বার্থসংশ্লিষ্ট বা মামলা পরিচালনার সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না।

এসব নির্দেশনা না মানলে তা অসদাচারণ হিসেবে গণ্য হবে এবং এক্ষেত্রে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালা, ২০১৭, এর পাশাপাশি প্রচলিত আইন ও বিধি-বিধান প্রযোজ্য হবে বলেও নির্দেশনায় বলা হয়।