• মঙ্গলবার, অক্টোবর ২২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৮:২০ রাত

চট্টগ্রাম থেকে বেনাপোল হয়ে ভারতে ইয়াবা পাচার

  • প্রকাশিত ০৮:২১ রাত সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯
ইয়াবা
ফাইল ছবি। মেহেদি হাসান/ঢাকা ট্রিবিউন

ইয়াবা পাচারের নতুন রুটের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ

ইয়াবা পাচারের নতুন রুটের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) পাহাড়তলি এলাকা থেকে এক কাভার্ড ভ্যানচালককে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই নতুন রুটের সন্ধান মেলে।

আটক কাভার্ড ভ্যানচালক জয়নাল আবেদিনের বাড়ি যশোরের বেনাপোলে। তিনি যশোর-চট্টগ্রাম রুটে কাভার্ড ভ্যান চালান এবং চট্টগ্রাম থেকে বেনাপোল স্থলবন্দরে ইয়াবা পাচার করে থাকেন বলে জানা যায়।

পুলিশ জানায়, প্রথমে চট্টগ্রাম থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট সংগ্রহ করা হয়। পরে কাভার্ড ভ্যানের মাধ্যমে ইয়াবার চালান যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে পৌঁছায়। সেখান থেকে ভারতে পাচার করা হয় এই ইয়াবার চালান।

এর আগে গত ২৯ আগস্ট চট্টগ্রামের দেওয়ানহাট ফ্লাইওভারের নিচে ইয়াবা ভর্তি একটি থলে ফেলে যায় কেউ। পুলিশ গিয়ে সেটি উদ্ধার করে। সেখান থেকে ৪০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় ডবলমুরিং থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়।

পরে ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ। সেখানে দেখা যায় যে একটি কাভার্ড ভ্যান থেকে ইয়াবা ভর্তি ব্যাগটি ফ্লাইওভারের নিচে ফেলে দেওয়া হয়। এই সূত্র ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে জয়নালকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সন্দীপ কুমার দাস বলেন, "পাহাড়তলির গ্রিন ভিউ আবাসিক এলাকা থেকে ইয়াবা পাচারের কাজে ব্যবহৃত কাভার্ড ভ্যানসহ ওই চালককে আটক করা হয়।"

"প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে, ওই চালক ইয়াবা পাচারের নতুন এই রুটের কথা জানায়। শনিবার, আদালতে এই বিষয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি", যোগ করেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

চালক জয়নালের বরাত দিয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, গত কয়েক মাসে ইয়াবার ৩টি চালান কাভার্ড ভ্যানের মাধ্যমে বেনাপোল বন্দরে পাচার করেছেন জয়নাল। বেনাপোল বন্দরে তিনি জালাল উদ্দিন নামের এক ব্যক্তির কাছে চালানের ইয়াবা হস্তান্তর করতেন। প্রতিটি চালান পাচারের জন্য তিনি ২০ হাজার করে টাকা পেতেন।

গ্রেফতার জয়নাল আরও জানান, গত ২৯ আগস্ট তিনি চট্টগ্রামের মাদারবাড়ি এলাকা থেকে পাচারের জন্য ইয়াবা সংগ্রহ করেন। সেখান থেকে কাভার্ড ভ্যানে রওনা দেওয়ার পর হঠাৎই একটি মাইক্রোবাস তাকে থামতে বলে। এতে জয়নালের সন্দেহ হয় যে ওই মাইক্রোবাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা রয়েছেন। তাই তিনি ইয়াবাভর্তি ব্যাগটি ভয়ে রাস্তায় ফেলে দেন।

এপ্রসঙ্গে ডবলমুরিং জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার আশিকুর রহমান ঢাকা ট্রিবিউন’কে বলেন, "চট্টগ্রামের যারা এই রুটে ইয়াবা পাচারের সাথে জড়িত তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তবে, তদন্তের স্বার্থে এখনই এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না।"