• বুধবার, নভেম্বর ১৩, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৭:৩৫ রাত

রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর ৪ দফা প্রস্তাব

  • প্রকাশিত ১০:১৮ সকাল সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৯
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি: ফোকাস বাংলা

জাতিসংঘ ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এটি দুঃখজনক যে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান না হওয়ায় আজ এ বিষয়টি আমাকে পুনরায় উত্থাপন করতে হচ্ছে'

রোহিঙ্গা সংকটকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার হুমকি উল্লেখ করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে চার দফা প্রস্তাব পেশ করেছন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৭ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনে প্রস্তাবগুলো পেশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এ বছরের সাধারণ বিতর্কের বিষয়বস্তু হলো-"দারিদ্র্য বিমোচন, মানসম্মত শিক্ষা, জলবায়ু কর্মসূচি এবং অন্তর্ভুক্তিকরণ বহুপক্ষীয় প্রচেষ্টার উজ্জীবন।"

চার দফা প্রস্তাবগুলো হলো :

১. রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসন এবং আত্মীকরণে মিয়ানমারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে রাজনৈতিক সদিচ্ছার পূর্ণ প্রতিফলন দেখাতে হবে।

২. বৈষম্যমূলক আইন ও রীতি বিলোপ করে মিয়ানমারের প্রতি রোহিঙ্গাদের আস্থা তৈরি করতে হবে এবং রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের উত্তর রাখাইন সফরের আয়োজন করতে হবে।

৩. আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে বেসামরিক পর্যবেক্ষক মোতায়েনের মাধ্যমে মিয়ানমার কর্তৃক রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তার ও সুরক্ষার নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে।

৪. আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অবশ্যই রোহিঙ্গা সমস্যার মূল কারণগুলো বিবেচনায় আনতে হবে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন ও অন্যান্য নৃশংসতার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে।

জাতিসংঘ ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "এটি দুঃখজনক যে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান না হওয়ায় আজ এ বিষয়টি আমাকে পুনরায় উত্থাপন করতে হচ্ছে। ১১ লাখ রোহিঙ্গা আমাদের আশ্রয়ে রয়েছে। হত্যা-নির্যাতনের মুখে তারা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে। রোহিঙ্গা সমস্যা প্রলম্বিত হয়ে তৃতীয় বছরে পদার্পন করেছে। কিন্তু মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সুরক্ষা, নিরাপত্তা ও চলাফেরার স্বাধীনতা এবং সামগ্রিকভাবে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়ায় এখন পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাও ফিরে যায়নি। আমি অনুরোধ করবো এই সংকট যেন সবাই অনুধাবন করেন। এই সমস্যা এখন আর বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। আমাদের যাবতীয় প্রচেষ্টা সত্ত্বেও এটি এখন আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপরন্তু ক্রমবর্ধমান স্থান সংকট এবং পরিবেশগত অবক্ষয়ের কারণে এই এলাকার পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে।" 

শেখ হাসিনা বলেন, "আমরা এমন একটি সমস্যার বোঝা বহন করে চলেছি যা মিয়নামারের তৈরি। এটি সম্পূর্ণ মিয়ানমার এবং তার নিজস্ব নাগরিক রোহিঙ্গাদের মধ্যকার একটি সমস্যা। তাদের নিজেদেরই এর সমাধান করতে হবে। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, সুরক্ষিত ও সম্মানের সঙ্গে স্বেচ্ছায় রাখাইনে নিজ গৃহে ফিরে যাওয়ার মাধ্যমেই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। প্রত্যাবাসন সম্পন্ন করতে মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের আলাপ-আলোচনা অব্যাহত থাকবে।"

প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমরা জাতিসংঘ মহাসচিব কর্তৃক বিশেষত জাতিসংঘ উন্নয়ন ব্যবস্থাপনাসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে গৃহীত সংস্কার উদ্যোগগুলোকে সাধুবাদ জানাই। আশা করছি নতুন প্রজন্মের জাতিসংঘ কান্ট্রি টিম এবং নতুনরূপে সজ্জিত জাতিসংঘ আবাসিক সমন্বয়কারী ব্যবস্থার মাধ্যমে সংস্থাটি স্বাগতিক রাষ্ট্রের জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংশ্লিষ্ট দেশের উন্নয়ন ও শান্তি প্রক্রিয়ায় আরও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে পারবে।"

শেখ হাসিনা বলেন, "জাতিসংঘের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সংস্থাটিকে উপযুক্ত করে তুলতে এবং এর প্রতি মানুষের আস্থা সুসংহত করতে জাতিসংঘ মহাসচিব যে সকল বলিষ্ঠ ও গঠনমূলক পদক্ষেপ নিয়ে চলেছেন তাতে আমাদের সমর্থন জানাচ্ছি। তার সংস্কার উদ্যোগের প্রতি আমাদের সমর্থনের স্বীকৃতি হিসেবে এবং নতুন আবাসিক সমন্বকারী ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিশ্চিতকরণে আমরা এই উদ্দেশ্যে গঠিত ট্রাস্ট ফান্ডে অনুদান প্রদান করছি।"