• রবিবার, অক্টোবর ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:০০ রাত

হত্যার হুমকি দিয়ে মুসলিম কিশোরকে খ্রিস্টধর্মে দীক্ষা, আটক ১

  • প্রকাশিত ১১:৫৩ সকাল সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৯
জামালপুর

এমনকি ভুক্তভোগীর হাতে ও বুকে ক্রস চিহ্নও এঁকে দেন জহির

জামালপুরের মেলান্দহে স্বজনদের হত্যার হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক এক কিশোরকে খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করার অভিযোগে এক জহুরুল ইসলাম জহির (৬৫) নামে এক খ্রিষ্টান ধর্মালম্বীকে আটক করেছে পুলিশ। গত ১৭ সেপ্টেম্বর তাকে আটক করা হয়। 

ভুক্তভোগী কিশোরের বাড়ি উপজেলার শ্যামপুর গ্রামে। এই ঘটনায় তার মা বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন বলে নিশ্চিত করেন মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম খান।

তিনি জানান, ওই কিশোরের বাবা অন্যত্র বিয়ে করে আলাদা থাকেন। তার মা ঢাকায় একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে কাজ করেন। সে তার নানা আমজাদ হোসেনের সাথে থাকে। গত কয়েকদিন ধরেই অভিযুক্ত জহির ওই কিশোরের ব্যাপারে খোঁজ খবর নিচ্ছিলেন। একপর্যায়ে তিনি চলতি মাসের প্রথমদিকে ভুক্তভোগীকে ফুসলিয়ে ডেফলা নামক একটি ব্রিজের উপর নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে অপহরণ করেন জহির।

পরে তিনি ওই কিশোরের পিতা-মাতা-নানাসহ আত্মীয়-স্বজনদের হত্যার হুমকী দিয়ে জোরপূর্বক তাকে খ্রিষ্টধর্মে ধর্মান্তরিত করেন। এমনকি ভুক্তভোগীর হাতে ও বুকে ক্রস চিহ্নও এঁকে দেন তিনি। পরে তাকে এক লাখ টাকা এবং ক্রুশবিদ্ধ যীশুর লকেট পরিয়ে ওই কিশোরকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন তিনি। কিছুদিন পর ভুক্তভোগী জহিরকে টাকা ও লকেট ফিরিয়ে দিয়ে খ্রিস্টান ধর্ম পালনে অস্বীকৃতি জানালে তাকে হত্যার হুমকি দেন জহির। এতে ভুক্তভোগী কিশোর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

একপর্যায়ে নিজের স্কুলের শিক্ষক ও সহপাঠীদের সে বিষয়টি খুলে বললে বিষয়টি জানাজানি হয়। এতে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এলাকাবাসীর মধ্যে। পরে আকাশের মা বাদী হয়ে মেলান্দহ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এর প্রেক্ষিতে গত ১৭ সেপ্টেম্বর জহিরকে আটক করা হয় এবং ১৮ সেপ্টেম্বর আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

ওসি এনামুল হক বলেন, "জহির ইসলামপুর উপজেলার কুলকান্দি গ্রামের বাবর আলীর ছেলে। দীর্ঘদিন আগেই সে খ্রিষ্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত হন। গত ১৭ সেপ্টেম্বর তাকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালতের নির্দেশে তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।"