• রবিবার, নভেম্বর ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৮ রাত

কয়েল ব্যবসায়ীর বাড়িতে সোয়া কোটি টাকা, ২ হাজার ইয়াবা

  • প্রকাশিত ০১:২২ দুপুর অক্টোবর ২, ২০১৯
নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বুধবার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা ও ২ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তিনজনকে আটক করে ডিবি। ছবি : ঢাকা ট্রিবিউন

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি জানতে পারে ১ লাখ ইয়াবা ট্যাবলেটের একটি চালান স্থানীয় কয়েল ব্যবসায়ী জামাল হোসেন মৃধার বাড়িতে যাবে 

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা ও ২ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তিনজনকে আটক করেছে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। 

বুধবার (২ অক্টোবর) ভোর রাতে উপজেলার তারাবো পৌরসভার রসুলপুর এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়।  

আটক তিনজন হলেন- বাড়ি মালিক ও কয়েল ব্যবসায়ী  জামাল হোসেন মৃধা (৪০) এবং তার দুই সহযোগী মোস্তফা  কামাল ও মানিক মিয়া। 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জামাল ও মোস্তফার বাড়ি বরিশাল জেলার উজিরপুর থানার ধাসুরা এলাকায়। আট বছর আগে তারা রসুলপুর এলাকায় জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ করেন। দু'জন অবৈধ কয়েল কারখানা ও গরুর খামারের আড়ালে ইয়াবার ব্যবসা করে আসছিলেন।

ডিবি উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মিজান এতথ্য নিশ্চিত করে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি জানতে পারে ১ লাখ ইয়াবা ট্যাবলেটের একটি চালান স্থানীয় কয়েল ব্যবসায়ী জামাল হোসেন মৃধার বাড়িতে যাবে। এরপর মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) বিকেল থেকে ওই এলাকায় নজরদারি শুরু করা হয়।  

মধ্যরাতে জামাল হোসেনের চারতলা বাড়ির তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালায় ডিবি। এসময় একটি ট্রাংক থেকে ১ কোটি টাকা এবং আলমারির ভেতর থেকে আরও ২৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। একইসঙ্গে বাড়ির নিচতলায় জামাল হোসেনের ব্যক্তিগত অফিস থেকে ২ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। 

খবর পেয়ে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ ভোর রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।  

এসপি হারুন অর রশীদ জানান, গ্রেফতারকৃত ব্যবসায়ী জামাল হোসেন মৃধা নিজেকে তিনটি কয়েল কারখানার মলিক দাবি করলেও এর কোনো বৈধ লাইসেন্স দেখাতে পানেননি। জব্দকৃত টাকার বৈধ কোনো উৎসও দেখাতে পারেননি তিনি।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, এই টাকাগুলো হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করার জন্য রাখা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া কয়েল ব্যবসার আড়ালে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা করে আসছে বলেও সন্দেহ রয়েছে। তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ জানান, আটকৃতদের বিরুদ্ধে বিদেশে টাকা পাচারের অভিযোগে মানি লন্ডারিং আইনে, ইয়াবা ব্যবসার অভিযোগে মাদকদব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে এবং আবাসিক এলাকায় কয়েল কারখানা নির্মাণ করে পরিবেশ দূষণের অভিযোগে পরিবেশ আইনে মোট তিনটি মামলা দায়ের করা হবে। 

পাশাপাশি জামাল হোসেন বাড়িতে এতো টাকা কী কারণে রেখেছেন, ইয়াবা ব্যবসা করে কতো টাকার মালিক হয়েছেন এবং তিনি কোনো জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন কিনা সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে, বলে জানান পুলিশ সুপার।