• মঙ্গলবার, অক্টোবর ২২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:১৮ দুপুর

ক্যাম্পের ভেতর রোহিঙ্গা কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ সেনা সদস্যদের বিরুদ্ধে

  • প্রকাশিত ০৭:৩২ রাত অক্টোবর ৩, ২০১৯
রোহিঙ্গা ক্যাম্প
রোহিঙ্গা ক্যাম্প মাহমুদ হোসাইন অপু/ঢাকা ট্রিবিউন

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি টহল দলের তিন সদস্য ওই কিশোরীকে তার ঘরের ভেতরে ঢুকে ধর্ষণ করে বলে দাবি করেছেন তার বড় ভাই

কক্সবাজারের একটি রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে এক রোহিঙ্গা কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর বড় ভাইয়ের দাবি, এ ঘটনায় সেনা সদস্যরা জড়িত৷ বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ দপ্তর (আইএসপিআর)।

জার্মান গণমাধ্যম ডয়চে ভেলে বলছে, গত রবিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাতটার দিকে এ ঘটনা ঘটে৷ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি টহল দলের তিন সদস্য ওই কিশোরীকে তার ঘরের ভেতরে ঢুকে ধর্ষণ করে বলে দাবি করেছেন তার বড় ভাই।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি'র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের পরিচালিত একটি ওয়েবসাইট 'রোহিঙ্গা ভিশন ডট কম'-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ধর্ষণের এই অভিযোগ সম্পর্কে জানা যায়।

রোহিঙ্গা ভিশন জানায়, দুইজন কিশোরী তাদের ঘরের মধ্যে খেলা করছিল। সেই সময় বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর দুইজন সদস্য এদের একজনকে রান্নাঘরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। অভিযুক্ত সেনাসদস্যরা চলে গেলে প্রতিবেশীরা কিশোরীটিকে নিয়ে স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে যায়। পরে তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

আইএসপিআর-এর পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ ইবনে জায়েদ বিবিসি’কে বলেন, “অতি সম্প্রতি বেশ কয়েকটি বিদেশি অনলাইন পোর্টালে আমরা দেখতে পেলাম ১২ বছরের একটা রোহিঙ্গা মেয়ে সেনাসদস্য কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “ওই সময় যৌথবাহিনীর যে নিয়মিত টহল হয় সেই টহল সেখানে দিচ্ছিল। যাই হোক, বিদেশি অনলাইন পোর্টালে এই অভিযোগটা আসার পরে আমরা সে বিষয়টা বিবেচনায় নিয়ে একটা উচ্চপর্যায়ের বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করেছি।”

এদিকে, টেকনাফের নয়াপাড়া ক্যাম্পের একাধিক রোহিঙ্গা নেতার বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, তারাও ২৯ সেপ্টেম্বরের এই ঘটনাটি জানেন। সেনাসদস্যদের জড়িত থাকার বিষয়টিও তারা উল্লেখ করেন।

একজন রোহিঙ্গা নেতা বলছিলেন, ওই ঘটনার পর 'ভিকটিমের পরিবার' এখন আর কোনো কথা বলতে চাচ্ছে না।

কক্সবাজারের একজন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ৩০ সেপ্টেম্বর সদর হাসপাতালে একজন 'রেপ ভিকটিমকে' চিকিৎসা দেওয়া হয়। তিনি দুইদিন ওই হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

তবে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মহিউদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এবিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

আইএসপিআর এর পরিচালক লে. কর্নেল জায়েদ অভিযুক্ত সেনাসদস্যদের বিষয়ে বলছেন, দোষী প্রমাণিত হলে দোষের মাত্রা অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

এদিকে, টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জানান, এই অভিযোগের কথা লোকমুখে শুনতে পেয়ে তিনি পুলিশ সদস্য পাঠিয়েছিলেন। তবে নির্যাতিতার পরিবার বা প্রতিবেশী এমন কাউকে পাওয়া যায়নি।

ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, যদি আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ না করে তাহলে তো আমরা ব্যবস্থা নিতে পারি না। তবে আমরা এমন একটা গুঞ্জন শুনে লোক পাঠিয়েছিলাম কিন্তু কাউকে পাওয়া যায়নি।

কক্সবাজারে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মাহবুব আলম তালুকদার অবশ্য বলেন, এই ধরনের তথ্য সত্য না।

এদিকে, কক্সবাজারে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর বলছে, এই প্রতিবেদন সম্পর্কে তারা অবগত।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগস্টের শেষ দিকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসতে শুরু করে। তাদের অনেকেই বাংলাদেশে এসে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর হাতে নির্যাতিত হওয়ার অভিযোগ করেছিলেন। অনেকেই ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগও করেছিলেন।

বর্তমানে কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে অবস্থান করছে ১১ লাখের মতো রোহিঙ্গা। তাদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনী কাজ করছে। সেখানে রোহিঙ্গাদের সহায়তা করার জন্য বেশকিছু দেশি, বিদেশি আন্তর্জাতিক সংস্থা কাজ করছে।