• শুক্রবার, নভেম্বর ১৫, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৬ রাত

‘দুর্নীতিবাজ’ প্রশাসকদের অপসারণ চেয়ে রাবির ৫৮ শিক্ষকের বিবৃতি

  • প্রকাশিত ০৮:২৬ রাত অক্টোবর ৩, ২০১৯
রাবি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: সংগৃহীত

বিবৃতিতে ‘দুর্নীতিবাজ’ ‘অসৎ’ ও ‘নিয়োগ বাণিজ্যে’ নিমজ্জিত প্রশাসকদের অপসারণের দাবি জানানো হয়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) উপাচার্যের ‘জয় হিন্দ’ স্লোগান ও ফোনালাপ ফাঁসকে কেন্দ্র উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ‘দুর্নীতিবাজ’ প্রশাসকদের অপসারণের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একাংশ।

বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তারা এ দাবি জানান। এতে ৫৮ জন শিক্ষকের স্বাক্ষর রয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান ও উপ-উপাচার্য চৌধুরী মো. জাকারিয়ার দুটি ‘দুষ্কর্ম’ গণমাধ্যম, সুশীল সমাজের সদস্যদের মতো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের সদস্যদেরও দৃষ্টি আকর্ষণ হয়েছে। উপাচার্য তার দুর্নীতি ও অপকর্মকে আড়াল করতে পরিকল্পিতভাবে ২৬ সেপ্টেম্বর উপাচার্য সিনেট ভবনে ‘জয় বাংলা’ ও ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ বলা পর ‘জয় হিন্দ’ বলে বক্তব্য শেষ করেন।

‘জয় হিন্দ’ নিয়ে প্রশাসনের ব্যাখাকে 'দুরভিসন্ধি' উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আমরা মনে করি ভারত আমাদের অকৃত্রিম বন্ধু। মহান মুক্তিযুদ্ধে সর্বাত্মক সহায়তা দানকারী প্রতিবেশী ভারতের রাজনৈতিক ও সামরিক স্লোগান ‘জয় হিন্দ’ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের উচ্চারণ করা বাংলাদেশের রাষ্ট্রসত্তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ফাঁস হওয়া ফোনালাপ থেকে স্পষ্ট উপ-উপাচার্য চৌধুরী মো.জাকারিয়ার নিয়োগ বাণিজ্যে নিমজ্জিত উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিষয়টি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে আর্থিক লেনদেনের যে অভিযোগ এই ফোনালাপ তারই সত্যতা প্রমাণ করেছে। উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান ও উপ-উপাচার্য চৌধুরী মো. জাকারিয়ার এধরনের বিবেকহীন কর্মকাণ্ডে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। 

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সারাদেশে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু হয়ে। আমরা বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এমআব্দুস সোবহান ও উপ-উপাচার্য চৌধুরী মো. জাকারিয়ার সাম্প্রতিক বিবেকহীন আচরণ ও একইসঙ্গে তাদের নিয়োগ বাণিজ্যের তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেবেন।” বিজ্ঞপ্তিতে ‘দুর্নীতিবাজ’ ‘অসৎ’ ও ‘নিয়োগ বাণিজ্যে’ নিমজ্জিত প্রশাসকদের অপসারণের দাবি জানানো হয়।

প্রসঙ্গত, ২৬ সেপ্টেম্বর রাবি উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান একটি সেমিনারে ‘জয় হিন্দ’ স্লোগান দেন। সংবাদটি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলো। এরইমধ্যে ৩০ সেপ্টেম্বর উপ-উপাচার্য চৌধুরী মো. জাকারিয়ার একটি অডিও ফোনালাপ ফাঁস হয়। সেখানে তিনি সাদিয়া নামে এক মেয়ের কাছে কত টাকা দিতে রেডি তা জানতে চান। এরপর থেকে উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান ও উপ-উপাচার্য চৌধুরী মো. জাকারিয়ার পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন।