• রবিবার, অক্টোবর ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:০০ রাত

মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে দাখিল পরীক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ

  • প্রকাশিত ১১:০৯ সকাল অক্টোবর ৪, ২০১৯
ধর্ষণ
প্রতীকী ছবি

বৃহস্পতিবার বিকেলে ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন ঝাঁপা দক্ষিণপাড়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় গিয়ে মাদ্রাসা সুপারকে অবরুদ্ধ করে রাখে। অভিযুক্ত শিক্ষক নজরুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন বলে জানায় পুলিশ

যশোরের মণিরামপুরে সান্ধ্য কোচিংয়ের শিক্ষক তরিকুল ইসলাম দ্বারা এক দাখিল পরীক্ষার্থী শিক্ষার্থী ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন ঝাঁপা দক্ষিণপাড়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় গিয়ে মাদ্রাসা সুপার শাহাদৎ হোসেনকে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

মণিরামপুর সদর সার্কেলের এএসপি রাকিব হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অন্যদিনের মতো গত ৩০ সেপ্টেম্বর ওই শিক্ষার্থী তাদের মাদ্রাসা শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত সান্ধ্য কোচিংয়ে যায়। কোচিং শেষে অন্যরা চলে গেলে মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী শিক্ষক নজরুল ইসলাম মেয়েটিকে একটি চকলেট খেতে দেন। চকলেট খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সে জ্ঞান হারায়। এরপর মাদ্রসার মৌলভী তরিকুল ইসলাম তাকে মাদ্রসার টয়লেটের পাশে ধর্ষণ করে ফেলে রেখে যায়।

এদিকে, মেয়েটি বাসায় না ফেরায় রাতে স্বজনরা তার খোঁজে মাদ্রাসায় গিয়ে দেখেন, কেউ নেই। একপর্যায়ে টয়লেটের গলিতে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় অজ্ঞান পড়ে থাকতে দেখে তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নেওয়া হয়। জ্ঞান না ফেরায় রাত দুইটার দিকে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

এদিকে, হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে ২ অক্টোবর বাড়িতে ফিরে মেয়েটি বাবা-মাকে বিষয়টি জানায়। ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে ক্ষুব্ধ লোকজন বৃহস্পতিবার বিকেলে মাদ্রাসায় হামলা চালিয়ে মাদ্রাসা সুপারকে অবরুদ্ধ করে রাখে।

খবর পেয়ে বিকেলে মণিরামপুর থানা পুলিশ সুপার শাহাদাৎ হোসেনকে উদ্ধার করে। এরপর সন্ধ্যায় ওই ছাত্রীকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

ছাত্রীর অভিভাবক ও এলাকাবাসী জানায়, গত ১৫-২০ দিন ধরে ওই মাদ্রাসায় দাখিল পরীক্ষার্থীদের সান্ধ্য কোচিং চালু করে কর্তৃপক্ষ। প্রতিদিন দুইজন করে শিক্ষক ১৫-১৭ জন ছাত্রীর কোচিং করান। গত ৩০ সেপ্টেম্বর কৃষিশিক্ষক তরিকুল ইসলাম ও সহকারী মৌলভী শিক্ষক নজরুল কোচিং করান।

সহকারী পুলিশ সুপার (মণিরামপুর সার্কেল) রাকিব হাসান এই প্রতিনিধিকে বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে এই ঘটনায় মামলা হয়েছে। বিলম্বিত সময়ের কারণে অভিযুক্ত শিক্ষক গা ঢাকা দিলেও তাকে গ্রেফতারে পুলিশ তৎপরতা শুরু করেছে।