• শুক্রবার, নভেম্বর ১৫, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৬ রাত

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত হলেই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ

  • প্রকাশিত ০৯:০৯ রাত অক্টোবর ৪, ২০১৯
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। ফাইল ছবি।

‘ক্যাসিনো ব্যবসা, না টেন্ডার ব্যবসা তা আমাদের জানার বিষয় না। আমাদের কাছে মূখ্য হলো, সে অপরাধ করেছে কিনা। সে অপরাধের সঙ্গে জড়িত কিনা’

কেউ অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত হলেই তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ হয় বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তিনি বলেন, “ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ একটি চলমান প্রক্রিয়া। যে যখন শনাক্ত হয়, অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত হয়। তখনই তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।”

শুক্রবার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর খামারবাড়ি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। খবর বাংলা ট্রিবিউনের।

উল্লেখ্য, গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে রাজধানীর মতিঝিল, গুলিস্তান, ধানমন্ডি, উত্তরা, গুলশান ও বনানীসহ সারাদেশে ক্যাসিনো ও জুয়ার হাউজগুলোতে অভিযান চালাচ্ছে র‌্যাব ও পুলিশ। এসব ঘটনায় অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসার সঙ্গে জড়িত অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের অনেকেই যুবলীগ নেতা। এই পরিস্থিতিতে গত ৩ অক্টোবর যুবলীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তলব করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়া গত ২২ সেপ্টেম্বর ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য নূরুন্নবী চৌধুরী শাওন ও তার স্ত্রী ফারজানা চৌধুরী, যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের ব্যাংক হিসাব তলবের পর জব্দ করে বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট।

বর্তমান সরকারের আমলে পূজা উদযাপনের অগ্রগতি হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা যখন প্রথম ক্ষমতায় (২০০৮) আসি, তখন সারাদেশে পূজামণ্ডপ ছিল ২০ থেকে ২২ হাজার। কিন্তু এরপর থেকে বছর অন্তত এক হাজার করে পূজা মণ্ডপ বাড়ছে। সারাদেশে এখন ৩৩ হাজার পূজামণ্ডপে পূজা উদযাপন হচ্ছে। ঢাকাতেও পূজামণ্ডপ বেড়েছে।”

দুবাই থেকে গ্রেফতার জিসানের বিষয়ে আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, “সে আমাদের লিস্টেড আসামি। তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে আমরা ১৫ বছর আগেই ইন্টারপোলের সহায়তা চেয়েছিলাম। দুবাই সরকার আমাদের সহযোগিতা করছে। তারা জিসানকে গ্রেফতার করে আমাদের জানিয়েছে। এখন চিন্তাভাবনা করছি, কোন প্রক্রিয়ায় তাকে ফিরিয়ে আনবো। আশা করি, তাকে দ্রুত ফিরিয়ে আনতে পারবো।”

ক্যাসিনো ব্যবসার সঙ্গে জিসানের কোনো লিংক রয়েছে কিনা জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “ক্যাসিনো ব্যবসা, না টেন্ডার ব্যবসা তা আমাদের জানার বিষয় না। আমাদের কাছে মূখ্য হলো, সে অপরাধ করেছে কিনা। সে অপরাধের সঙ্গে জড়িত কিনা। এই জিসানকে বহু আগে আমরা গ্রেফতারের জন্য ইন্টারপোলের সহযোগিতা চেয়েছি। সন্ত্রাসীদের তালিকায় তার নাম রয়েছে। আমরা তাকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ফিরিয়ে আনতে প্রচেষ্টা হাতে নিয়েছি। এই প্রক্রিয়া শেষ করবো।”

অপরাধ করে দেশ থেকে অনেক অপরাধী পালিয়ে যায় এবং পালিয়ে যাওয়ার অপচেষ্টা করে জানিয়ে আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, “বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আসামিরাও পালিয়ে ছিল। ২১ আগস্ট গ্রেনেডের হামলার আসামিদের অনেকে পালিয়েছে। আমরা তাদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি। যেখানে যে প্রক্রিয়ার দরকার, আমরা তা হাতে নিচ্ছি। সরকারিভাবে এবং অন্যান্য চ্যানেলে চেষ্টা করছি। নানাভাবে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আশা করি, সবাইকে ফেরত নিয়ে আসবো। দেশের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।”