• রবিবার, অক্টোবর ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:০০ রাত

জামায়াত নেতার বাড়ি থেকে যেভাবে আটক হন সম্রাট

  • প্রকাশিত ০৬:৪১ সন্ধ্যা অক্টোবর ৬, ২০১৯
সম্রাট
কুমিল্লার এই বাড়ি থেকে রোববার গ্রেফতার হন সম্রাট। ছবি : ঢাকা ট্রিবিউন

সামিয়া জান্নাত চৌধুরী জানান, শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তারা টেলিভিশন দেখছিলেন 

ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে আটক সদ্য বহিষ্কৃত ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট কুমিল্লায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানা গেছে। ওই বাড়ি থেকেই সহযোগী আরমান আলীসহ সম্রাটকে রোববার (৬ অক্টোবর) আটক করে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। 

জামায়াতের ওই নেতার নাম মনির চৌধুরী। তিনি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আলকড়া ইউনিয়নের কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রামের মৃত সোনা মিয়ার চৌধুরীর ছেলে।

জানা গেছে, ওই জামায়াত নেতার বাড়ির দোতলা থেকে র‌্যাব সদস্যরা সম্রাট ও আরমানকে আটক করে। আটকের সময় সেখানে জামায়াত নেতা মনির চৌধুরী এবং তার শ্যালক আওয়ামী লীগ নেতা ও ফেনী পৌর মেয়র হাজি আলাউদ্দিনও উপস্থিত ছিলেন। 


আরও পড়ুন : অবশেষে গ্রেফতার যুবলীগ নেতা সম্রাট


স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শনিবার (৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে র‌্যাবের কয়েকটি গাড়ি মনির চৌধুরীর ওই বাড়িটিতে যায়। পরে আরও কিছু গাড়ি সেখানে পৌঁছায়। এ সময় অর্ধশতাধিক কালো পোশাকধারী র‌্যাব সদস্য বাড়িটি ঘিরে ফেলেন। রাত ১১টার দিকে মনির চৌধুরীর দোতলা বাড়ির একটি কক্ষ থেকে সম্রাট ও তার সহযোগী আরমানকে বের করে নিয়ে আসেন র‌্যাবের সদস্যরা। পরে রাত সোয়া ১টার দিকে তাদের নিয়ে ওই বাড়ি ত্যাগ করে র‌্যাবের গাড়ি। 

কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রামটি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত। ভারতে পালিয়ে যেতে সম্রাট ওই জামায়াত নেতার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা। 

জামায়াত নেতা মনির চৌধুরীর ভাতিজি সামিয়া জান্নাত চৌধুরী ও তার মা নূর নাহার জানান, মনির চৌধুরী বাড়িতে থাকেন না। তিনি ফেনীতে থাকেন। তার স্ত্রী ও ছেলে-মেয়ে ঢাকায় থাকেন। বাড়িতে শুধু মানুসিকভাবে অসুস্থ তার মা থাকেন। মাকে দেখাশোনার জন্য বিবাহিত বোন স্বামীসহ থাকেন। 

তারা আরও জানান, সম্রাট ও আরমান যে ঘরে থাকতেন ওই ঘরের দরজার বাইরে সব সময় তালা লাগানো দেখা যেত। কিন্তু ভেতরে লাইটের আলো চোখে পড়তো। সন্ধ্যার আগে তারা দুজন পুকুরপাড়ে গিয়ে বসে থাকতেন। লোকজনের সামনে আসতেন না। বাড়িতে সম্রাট অবস্থান করার পর থেকে জামায়াত নেতা মনির চৌধুরী বাড়িতে ঘন ঘন আসতেন। তার সঙ্গে শ্যালক ফেনীর পৌর মেয়র হাজি আলাউদ্দিনও আসতেন। 


আরও পড়ুন : এবার সম্রাটের মহাখালী, শান্তিনগরের বাসায় অভিযান


মনির চৌধুরীর ভাতিজি সামিয়া জান্নাত চৌধুরী জানান, শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তারা টেলিভিশন দেখছিলেন। হঠাৎ কয়েকটি গাড়িতে আসা র‌্যাব সদস্যরা তাদের বাড়িতে প্রবেশ করেন। এরপর আরও কয়েক গাড়ি র‌্যাব এসে পুরও বাড়িতে অবস্থান নিয়ে ঘিরে ফেলে। কয়েকজন র‌্যাব সদস্য তাদের ঘরে প্রবেশ করে খোঁজ খবর নেন। কিছু সময় পর র‌্যাব সদস্যরা সম্রাট এবং তার সহযোগী আরমানকে ভবনের দোতলা থেকে নামিয়ে নিয়ে যান।

গ্রামের বাসিন্দা সাদেক হোসেন এবং মফিজুর রহমান বলেন, গত কয়েকদিন ধরে বাড়ির আশপাশ দিয়ে যাওয়া-আসার সময় দুজন ব্যক্তিকে দেখা যেত। তারা পুকুরে বড়শি দিয়ে মাছ ধরতেন। ১০ থেকে ১৫দিন তারা সেখানে ছিলেন। 

আবদুল কুদ্দুস নামে স্থানীয় আরও এক বাসিন্দা জানান, মনির চৌধুরী জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী সংগঠন ছাত্রশিবিরের নেতা ছিলেন। পরে তিনি জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। তিনি ফেনী পৌর আওয়ামী লীগের মেয়র হাজি আলাউদ্দিনের বোনকে বিয়ে করেন। ফেনীতে থেকে ব্যবসা বাণিজ্য করেন। পরে গত ২০১৩-১৪ সালে তার ভাতিজা নাজিম চট্টগ্রামে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন। এছাড়াও তার আরেক ভাতিজা তসলিম কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রামে বিপুল পরিমাণ ককলেটসহ আটক হন। কিন্তু পরবর্তীতে ফেনীর এই মেয়রের মাধ্যমে পুলিশ কাছ থেকে তাদের ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন। মনির চৌধুরী এবং বাড়ির সবাই জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ফেনী পৌর মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা হাজি আলাউদ্দিন এই রাজনীতিতে সহযোগিতা করে আসছেন।


আরও পড়ুন : সম্রাটকে যুবলীগ থেকে বহিষ্কার


চৌদ্দগ্রাম আলকড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক হেলাল বলেন, "রাত ১১টার সময় শুনেছি র‌্যাব সদস্যরা কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রামের চৌধুরী বাড়ি ঘিরে ফেলে। পরে সকালে জানতে পারি ওই বাড়ির মনির চৌধুরীর ঘরে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় সম্রাটকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। যার বাড়িতে থেকে সম্রাট গ্রেফতার হয়েছেন তিনি একজন জামায়াত নেতা। ওই বাড়ির সবাই জামায়াত রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।" 

কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) সৈয়দ নূরুল ইসলাম বলেন, "ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে চৌদ্দগ্রাম থেকে র‍্যাব আটক করেছে বলে শুনেছি। এর বেশি কিছু বলতে পারবো না।"