• রবিবার, অক্টোবর ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:০০ রাত

যে দুর্গাপূজায় আয়োজক, পুরোহিত সবাই নারী

  • প্রকাশিত ০৯:২৯ রাত অক্টোবর ৭, ২০১৯
সৈয়দপুর পূজা
সৈয়দপুরের বৈশ মালিপাড়ার পূজা মণ্ডপের আয়োজক থেকে পূজারী সবাই নারী ঢাকা ট্রিবিউন

স্বর্গের দেবীর পূজার দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছেন মর্ত্যের দেবীরা। পাড়ার মন্দিরের প্রতিমা তৈরী, মণ্ডপের উলুধ্বনি, ঢাক-কাঁসর বাজানোসহ পূজা-অর্চনার সমস্ত কাজ করছেন নারীরা

ঢাক-ঢোল পিটিয়ে চলছে দুর্গাপূজা। সারাদেশের মতো নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বাঙালীপুর ইউনিয়নের বৈষ্য মালিপাড়াও মেতেছে পুজোর আনন্দে। তবে সেখানকার আনন্দের ধরণটা একটু ভিন্ন।

পেশাগত কারণে গ্রামের পুরুষরা সবাই এখন বাড়ির বাইরে। বংশ পরম্পরায় পেশাগত ঢাকবাদক (ঢুলি) হওয়ায় তাদের প্রায় সবাই এখন বিভিন্ন এলাকার মণ্ডপে ঢাক বাজাতে ব্যস্ত। তাই বলে কি পুজো থেমে থাকবে?

স্বর্গের দেবীর পূজার দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছেন মর্ত্যের দেবীরা। পাড়ার মন্দিরের প্রতিমা তৈরী, মণ্ডপের উলুধ্বনি, ঢাক-কাঁসর বাজানোসহ পূজা-অর্চনার সমস্ত কাজ করছেন বৈশ্য মালিপাড়ার নারীরা। পুরোহিতের কাজও করছেন নারীরা। নিরাপত্তার দায়িত্বেও রয়েছেন আনসার বাহিনীর পাঁচ নারী সদস্য। স্বেছাসেবকের কাজও করছেন যথারীতি নারীরা।

পুজোর সময় গ্রামের পুরুষরা উপজেলার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় ঢাকীর কাজ করেনন। তাই দীর্ঘদিন ধরেই গ্রামের মেয়েরাই শারদীয় দূর্গাপুজার সব আয়োজন করে আসছেন।

স্থানীয়রা জানান, মণ্ডপের প্রতিমা তৈরী থেকে শুরু করে পুরোহিতের দায়িত্বও পালন করছে নারী। 

বৈশ্য মালিপাড়ার পূজা ঘুরে দেখা যায়, নারীদের কেউ বাজাচ্ছেন ঢাক, কেউবা কাসর ঘণ্টা, দিচ্ছেন আরতিও। বিশেষ এই মণ্ডপে বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা দর্শনার্থীর ভিড় ছিল চোখে পড়ার মত।

পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি দীপালী রাণী ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, আমাদের পাড়ায় আনুমানিক ৪০টি পরিবারের বসবাস। এখানকার পুরুষেরা সবাই বাঁশের জিনিসপত্র তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। আর প্রতিবছর পূজায় ঢাক বাজাতে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে যান। তাই বাচ্চাদের সঙ্গে নিয়ে প্রতি বছর আমরাই (নারী) দূর্গাপূজার আয়োজন করে থাকে।

পূজা মণ্ডপের সাধারণ সম্পাদক গীতা রাণী রায়ও জানালেন একই কথা।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রণবেশ বাগচী দুলাল জানান, প্রতি বছর পূজায় পেশাগত কারণে পুরুষরা গ্রামের বাইরে থাকায় নারীরাই সেখানে পূজার আয়োজন করে থাকেন। নারীদের এ উদ্যোগে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সার্বিক সহায়তা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) পরিমল কুমার সরকার বলেন, উপজেলা প্রশাসন সব ধরনের সহযোগিতা করছেন ভিন্ন ধরনের এ আয়োজনে। সমাজের সর্বস্তরে নারীদের এমন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আরো বৃদ্ধি করার জন্য উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। এবছর উপজেলায় মোট ৮১টি পুজামণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে।