• মঙ্গলবার, অক্টোবর ২২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:১৮ দুপুর

চলতি পথে মোবাইল ফোনের অপব্যবহার: বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি

  • প্রকাশিত ১১:১৫ সকাল অক্টোবর ১০, ২০১৯
সড়ক দুর্ঘটনা
প্রতীকী ছবি

অনেক সময় মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে রাস্তা পারা হতে প্রায় দেখা যায়। আবার দেখা যায়, চালকরা ডান হাতে স্টিয়ারিং ধরে বাম হাতে মোবাইল ফোনে কথা বলছেন। আর এভাবেই মুহূর্তের মধ্যে ঘটে যায় দুর্ঘটনা

সড়ক দুর্ঘটনার অন্যান্য কারণগুলোর সঙ্গে যোগ হয়েছে চালকদের মোবাইল ফোনে কথা বলার প্রবণতা। ফোনে কথা বলতে বলতে যানবাহন চালানোর সময় তারা অন্যমনস্ক হয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে। এর ফলে মৃত্যু ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে।

মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে রাস্তা পারা হতে প্রায় দেখা যায়। এমনকী বিপদজনকভাবে রেল লাইনের ওপর দিয়ে একইভাবে কথা বলতে দেখা যায় অনেককেই। এছাড়া অনেক সময় দেখা যায়, চালকরা ডান হাতে স্টিয়ারিং ধরে বাম হাতে মোবাইল ফোনে কথা বলছেন। আর এভাবেই মুহূর্তের মধ্যে ঘটে যায় দুর্ঘটনা।

‘নিরপদ সড়ক চাই (নিসচা)’ আন্দোলন খুলনা জেলার সাধারণ সম্পাদক এসএম ইকবাল হোসেন বিপ্লব জানান, আজকাল যত সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে, এর একটি বড় অংশের কারণ চালকদের মোবাইল ফোন ব্যবহার। যানবাহন চালানোর সময় মোবাইল ও এয়ারফোন (কানে লাগিয়ে গান শোনার ব্যবস্থা) ব্যবহার মোটরযান আইনে নিষিদ্ধ। এটি অমান্য করলে দণ্ডের বিধান আছে। কিন্তু এরপরও অনেক চালক যান চালানো অবস্থায় মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন। একারণে দুর্ঘটনাও ঘটছে, প্রাণহানি বাড়ছে। তবু এবিষয়টি নিয়ে উচ্চবাচ্য নেই।

তিনি বলেন, বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে কিছুদিন তোড়জোর চলতে থাকে। অভিযান চলে রাস্তায় রাস্তায়। তবে একসময় থেমে যায় নিয়মের বিধি-নিষেধ। চালকরা ফিরে যায় পুরোনো সংস্কৃতিতে। এবিষয়ে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ ও আইনের যথাযথ প্রয়োগের দাবি জানান তিনি।

বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা খুলনার কো-অর্ডিনেটর অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন যানবাহনের চালক চলন্ত অবস্থায় মোবাইল ব্যবহার করায় অহরহ দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। চলন্ত অবস্থায় মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও চালকরা মোবাইল ফোন ব্যবহার করে থাকেন। মোবাইল ফোনে কথা বলায় মনোযোগ থাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় পড়েন। এ ধরনের ঘটনার ফলে চালক নিজের পরিবারসহ অসংখ্য পরিবারকে ক্ষতির মুখে ফেলছে।

এরজন্য প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি সকলের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ দেন তিনি।

এব্যাপারে খুলনা মহানগরীর ট্রাফিক বিভাগের ট্রাফিক সার্জেন্ট তাসমিয়া তিথী জানান, সড়ক দুর্ঘটনার অন্যান্য কারণগুলোর সঙ্গে যোগ হয়েছে চালকদের মোবাইল ফোনে কথা বলার প্রবণতা। ফোনে কথা বলতে বলতে যানবাহন চালানোর সময় তারা অন্যমনস্ক হয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে। এধরনের দুর্ঘটনা ইদানিং অনেক ঘটছে। অনেক চালক ফোনে কথা বলতে গিয়ে রাস্তার মধ্যে গাড়ির গতি কমিয়ে দিয়ে যানজটও তৈরি করেন। এরজন্য প্রয়োজন নিজের সচেতনতা।

যানবাহন চালকরাও এই অভিযোগ স্বীকার করছেন। মো. শহিদুল ইসলাম নামে এক বাসচালক জানান, মহাসড়কে দুর্ঘটনার জন্য ছোট গাড়িগুলোই মূলত দায়ী। ছোট ছোট গাড়িগুলো অনেক দ্রুত ছুটে। তরুণ চালকরাই এসব গাড়ি চালান। তারা প্রায়ই মুঠোফোনে কথা বলতে বলতে গাড়ি চালান এবং নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটান।

নগরীর আমতলা মোড় এলাকার শিউলী সুলতানা জানান, উঠতি বয়সী ছেলেরা বেশির ভাগ সময় মোটরসাইকেল চালানোর সময় মোবাইলে কথা বলে থাকে। মোটরসাইকেল কিনে দেয়ার আগে বাবা-মাদের তাদের সন্তানকে এ ব্যাপারে বোঝাতে হবে।

এদিকে খুলনা মহানগরীর ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. সাইফুল হক জানান, যানবাহন চালানোর সময় মোবাইল ফোনে কথা বলা আইনগত অপরাধ। এসংক্রান্ত অপরাধে আমরা ১৪০ এবং ১৪৯ ধারায় মামলা করে থাকি। আইনের মাধ্যমে জরিমানা করে যাচ্ছি। প্রত্যেককেই নিজেকে নিয়ে ভাবতে হবে। ২০০, ৪০০, ৫০০ টাকা জরিমানা করে এটি বন্ধ করা কঠিন। এটির জন্য গণসচেতনতা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, রাস্তা পারাপার হওয়ার সময় এবং যানবাহন চালনার সময় মানুষ যেন মোবাইল ফোনে কথা যাতে না বলে সেজন্য আমরা খুব শিগগিরই গণসচেতনতায় নামবো।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে ১২ জুলাই গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোনে কথা না বলার ব্যাপারে মোটরযান আইনের ১১৫ (বি) ধারার সংশোধন করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে গাড়ি চালানোর সময় মুঠোফোনে কথা বলা নিষিদ্ধ করা হয়। ওই আইনে যানবাহন চলার সময় চালকের এয়ারফোন ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়। এ আইন ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।