• সোমবার, অক্টোবর ২১, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩৩ রাত

আবরার হত্যা: ছাত্রলীগ নেতা অমিত সাহা গ্রেফতার

  • প্রকাশিত ১১:৩৯ সকাল অক্টোবর ১০, ২০১৯
অমিত সাহা
মামলার অন্যতম অভিযুক্ত অমিত সাহা। ছবি: সংগৃহীত

আবরার হত্যা মামলার একজন অন্যতম অভিযুক্ত ছিলেন অমিত সাহা। তবে, হত্যার এজাহারে অমিত সাহার নাম না থাকলেও তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি নিউজ

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের হত্যা মামলায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক উপ-সম্পাদক অমিত সাহাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে রাজধানীর সবুজবাগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ডিসি (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান এখবর নিশ্চিত করেছেন। 

আবরার হত্যা মামলার একজন অন্যতম অভিযুক্ত ছিলেন অমিত সাহা। তবে, হত্যার এজাহারে অমিত সাহার নাম না থাকলেও তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি নিউজ। 


আরও পড়ুন: আবরার হত্যায় সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় বুয়েট শিক্ষার্থী অভিকে গ্রেফতার


বুয়েটের শের-ই-বাংলা হলের যে ২০১১ নম্বর কক্ষে আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়; কক্ষটি অমিত সাহার। ঘটনার সময় তার নেতৃত্বে ছাত্রলীগের কর্মীরা আবরারকে বেদম মারধর করেন। পরে তিনিসহ অন্যরা বেরিয়ে যান। 

গত রবিবার (৬ অক্টোবর) রাতে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাসের জেরে বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭তম ব্যাচ) ছাত্র আবরারকে ডেকে নিয়ে যান বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। এরপর তাকে হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে কয়েকঘণ্টা ধরে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

ওইদিন রাত ৩টার দিকে শের-ই-বাংলা হলের দোতলায় ওঠার সিঁড়ির করিডোর থেকে আবরারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন সোমবার রাতে আবরারের বাবা বরকতুল্লাহ বাদী হয়ে ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করলে ওই রাতেই হত্যায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে ১০জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে আরও ৪জনকে গ্রেফতার করা হয়।

বুধবার (৯ অক্টোবর) পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক ও হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদুজ্জামান বুয়েটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র শামসুল আরেফিন রাফাত (২১), ওয়াটার রিসোর্সেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মনিরুজ্জামান মনির (২১) ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মো. আকাশ হোসেন (২১)-কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০দিন করে রিমান্ড আবেদন করলে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। 


আরও পড়ুন- বুয়েটে শিক্ষক রাজনীতি নিষিদ্ধের ঘোষণা


 মঙ্গলবার রাজধানী ও আশুলিয়ার বিভিন্ন জায়গা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ।

এর আগে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আবরার হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ১০ ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীকে সোমবার গ্রেফতার করে। তাদের মঙ্গলবার পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।


আরও পড়ুন: আবরার হত্যার ঘটনায় রিমান্ডে আরও তিনজন


ঘটনার পর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলসহ ১১ নেতাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়।

পুলিশের ধারণা হত্যাকাণ্ডে ২৪-২৫ জন অংশ নিয়েছে। এরমধ্যে ১৯ জনকে শনাক্ত করে মামলার আসামি করা হয়েছে। আবরার হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত আরও তিন আসামিকে ঢাকা ও গাজীপুর থেকে গ্রেফতার করে ডিবি।

মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা প্রত্যকেই বুয়েটের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তারা হলেন: মেহেদী হাসান, সিই বিভাগ (কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ১৩তম ব্যাচ), মুহতাসিম ফুয়াদ (১৪তম ব্যাচ, সিই বিভাগ), অনীক সরকার (১৫তম ব্যাচ), মেহেদী হাসান রবিন (কেমিক্যাল বিভাগ, ১৫তম ব্যাচ), ইফতি মোশারফ হোসেন (বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ), মনিরুজ্জামান মনির (পানিসম্পদ বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৫তম ব্যাজ, মাজেদুল ইসলাম (এমএমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মোজাহিদুল (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), তানভীর আহম্মেদ (এমই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), হোসেন মোহাম্মদ তোহা (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ) , জিসান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), আকাশ (সিই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), শামীম বিল্লাহ (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), শাদাত (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), তানীম (সিই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মোর্শেদ (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মোয়াজ, মনতাসির আল জেমি (এমআই বিভাগ)।


আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী: কে ছাত্রলীগ বা কী জানি না, অপরাধী অপরাধীই, তার বিচার হবে