• মঙ্গলবার, অক্টোবর ২২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:১৮ দুপুর

তিস্তা-রমনা রেলপথের বেহাল দশা, বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা

  • প্রকাশিত ১২:০০ দুপুর অক্টোবর ১০, ২০১৯
রেল
তিস্তা-রমনা রেলপথে একটি ঝুঁকিপূর্ণ সেতু। ইউএনবি

স্লিপারের সাথে লাইনের সংযোগের জন্য নাট-বল্টু থাকার কথা থাকলেও অনেক স্থানেই তা নেই। লাইনের কোনও কোনও স্থানে পাথরের অস্তিত্ব নেই বললেই চলে

লালমনিহাটের তিস্তা থেকে কুড়িগ্রামের চিলমারীর রমনা স্টেশন পর্যন্ত প্রায় ৫০ কিলোমিটার রেলপথের বেহাল দশার কারণে ঝুঁকি নিয়ে ট্রেন চলাচল করছে এই রুটে। ফলে যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এমন আশঙ্কা নিয়েই যাত্রীরা এই রেলপথ দিয়ে যাতায়াত করে।

এরইমধ্যে আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামগামী একটি নতুন আন্তনগর ট্রেন চালু হতে যাচ্ছে। লাইন মেরামতের জন্য ১০ কোটি টাকার প্রাক্কলন পাঠানো হলেও এখনও তা অনুমোদন হয়নি। রেলপথের বেহাল দশার মধ্য দিয়ে আন্তনগর ট্রেন চলাচল করতে হচ্ছে।

কুড়িগ্রাম রেল স্টেশন অফিস জানায়, বর্তমানে কুড়িগ্রামে একটি মাত্র লোকাল ট্রেন চলাচল করছে। এই একটি ট্রেন ভিন্ন নামে দুই বার কুড়িগ্রামে যাতায়াত করছে। দিনাজপুরের পার্বতীপুর হতে সকালে একটি ট্রেন ‘৪২২ আপ’ নামে কুড়িগ্রাম হয়ে চিলমারীর রমনা স্টেশনে গিয়ে ‘৪১৫ ডাউন’ নামে সেটি আবার তিস্তা পর্যন্ত ফিরে যায়। এই ট্রেনটিই আবার তিস্তা থেকে ‘৪১৬ আপ’ নাম ধারণ করে পুনরায় কুড়িগ্রাম হয়ে চিলমারীর রমনা স্টেশনে যায় এবং ‘৪২১ ডাউন’ নাম ধারণ করে রমনা স্টেশন থেকে কুড়িগ্রাম হয়ে পার্বতীপুর ফিরে যায়।

অফিস সূত্র জানায়, তিস্তা থেকে চিলমারীর রমনা স্টেশন পর্যন্ত রেলপথের বেহাল দশার কারণে সময়মত ট্রেন যাতায়াত না করায় নানা ভোগান্তি আর বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। রেল লাইনের স্লিপার, পাথর ও কোনও কোনও স্থানে মাটি ও গাইড ওয়াল সরে যাওয়ায় নির্ধারিত গতির চেয়ে অনেক কম গতিতে ট্রেন চলাচল করছে। স্লিপারের সাথে লাইনের সংযোগের জন্য নাট-বল্টু থাকার কথা থাকলেও অনেক স্থানেই তা নেই। লাইনের কোনও কোনও স্থানে পাথরের অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। ফলে যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় রকম দুর্ঘটনা। তাই সাবধানতা অবলম্বন করতে গিয়ে কুড়িগ্রাম থেকে চিলমারীর রমনা স্টেশন পর্যন্ত মাত্র ৩০ কিলোমিটার পথ যেতেই প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা সময় লেগে যায়। এছাড়া রংপুর-ঢাকা চলাচলকারী ট্রেন রংপুর এক্সপ্রেসের একটি শাটল ট্রেন কুড়িগ্রাম-থেকে কাউনিয়া যাতায়াত করলেও লাইন জরাজীর্ণ হওয়ার কারণে ধীর গতিতে ট্রেন চালাতে হয়।

তিস্তা-রমনা রেলপথের অনেক স্থানেই পাথর নেই। ছবি: ইউএনবি

অভিযোগ রয়েছে, গত জুলাই মাসের বন্যায় চিলমারীর কাছে রেলপথ ধসে যাওয়ায় বেশ কিছুদিন ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। বর্তমানে ওই পথে ট্রেন চললেও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এছাড়া ২০১৭ সালের বন্যায় কুড়িগ্রাম সদরের বড়পুলেরপাড় এলাকায় একটি রেলওয়ে ব্রিজ ধসে গেলে মেরামতের পর বর্তমানে ঝুঁকি নিয়ে কোনো মতে ট্রেন চলাচল করছে। ওই ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও নতুন ব্রিজ নির্মাণের কোনো উদ্যোগই নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, তিস্তা-কুড়িগ্রাম রেলপথের ২০ কিলোমিটার সংস্কারে শুধু স্লিপার, ব্যালাস্ট কুশন (পাথর) ও রেল লাইন সংযুক্ত করতে ১০ কোটি টাকার প্রাক্কলন করা হয়েছে। সেখানে কুড়িগ্রাম থেকে চিলমারী পর্যন্ত ট্রেন চাইলে আরও অতিরিক্ত ৩০ কিলোমিটার রেললাইন মেরামত করতে হবে। ওই রেল পথের অবস্থা আরও বেশি খারাপ।

এ বিষয়ে লালমনিরহাট পঞ্চিম অঞ্চল রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা জানিয়েছি লাইনের অবস্থা খারাপ। লাইন মেরামতের জন্য আমরা ১০ কোটি টাকার প্রাক্কলন পাঠিয়েছি। এটা অনুমোদন হলে তিস্তা থেকে কুড়িগ্রাম পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার লাইনের মেরামত কাজ করা হবে। তখন একটা মানদণ্ড অনুযায়ী ওই রেলপথে ট্রেন চলাচল করতে পারবে।”

তবে আগামী দুই বছরের মধ্যে এই রেলপথে বড় পরিবর্তন আসবে বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা।