• মঙ্গলবার, অক্টোবর ২২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:১৮ দুপুর

শুক্রবারের মধ্যে ভিসি জবাব না দিলে বুয়েটে ঝুলবে তালা

  • প্রকাশিত ১২:৪৯ দুপুর অক্টোবর ১০, ২০১৯
আবরার হত্যা
আবরার হত্যার প্রতিবাদ ও বিচার দাবিতে চতুর্থদিনও উত্তাল বুয়েট-ঢাবি ঢাকা ট্রিবিউন

শুক্রবার বেলা দুইটার মধ্যে বুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের মাঝে উপস্থিত হয়ে জবাবদিহি না করলে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘোষণা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলামকে শুক্রবার বেলা দুইটার মধ্যে শিক্ষার্থীদের মাঝে উপস্থিত হয়ে জবাবদিহি করার সময় বেঁধে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তা না করলে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে গণসংহতি সমাবেশ ও গণপদযাত্রা কর্মসূচি পালন করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে আবরার হত্যার বিচারের দাবি জানান।

বুয়েট শের-ই-বাংলা হলের ছাত্র আবরার ফাহাদকে হত্যার প্রতিবাদ ও সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে ক্ষোভ-বিক্ষোভে চতুর্থদিনও উত্তাল বুয়েট ক্যাম্পাস। এদিকে, প্রতিবাদ কর্মসূচি চলছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও। এছাড়া, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে আবরারের হত্যার ঘটনায় শোক জানিয়ে একটি র‌্যালিও বের করা হয়।


আরও পড়ুন: বুয়েটের সামনের রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ


বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে বুয়েটের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে এই আলটিমেটাম দেন এবং আবরার হত্যার বিচারসহ তাদের ১০ দফা দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। গণমাধ্যমের সামনে তারা ১০ দফা তুলে ধরেন। তাদের দাবি হলো -

১১ অক্টোবর বিকেল ৫টার মধ্যে আবরার হত্যায় জড়িতদের আজীবনের জন্য ছাত্রত্ব বাতিল নিশ্চিত করতে হবে। বুয়েটের নিহত শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের মামলা চলাকালীন সব খরচ বুয়েট প্রশাসনকে বহন করতে হবে। এছাড়াও পরিবারের সব ক্ষতিপূরণ বুয়েট প্রশাসনকে বহন করতে হবে এ মর্মে ১১ অক্টোবর বিকেল ৫টার মধ্যে অফিশিয়াল নোটিশ প্রদান করতে হবে।

দায়ের করা মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের অধীনে স্বল্পতম সময়ে নিষ্পত্তি করার জন্য বুয়েট প্রশাসনকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বুয়েট প্রশাসনকে সক্রিয় থেকে সমস্ত প্রক্রিয়া নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং নিয়মিত ছাত্রদের আপডেট করতে হবে। অবিলম্বে চার্জশিটের কপিসহ অফিসিয়াল নোটিশ দিতে হবে। আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে বুয়েটে সাংগঠনিক ছাত্র রাজনীতি স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি কেন ৩০ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পরও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়নি? ৩৮ ঘণ্টা পর ক্যাম্পাসে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিরূপ আচরণের জন্য দুপুর ২টার মধ্যে তাকে সশরীরে এসে এ বিষয়ে জবাবদিহিতা করতে হবে।

আবাসিকহ হলগুলোতে র‍্যাগের নামে এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর সবপ্রকার শারীরিক মানসিক নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। এধরনের সন্ত্রাসী কাজে জড়িত সব শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব বাতিল করতে হবে।

একইসঙ্গে আহসান উল্লাহ হল ও সোহরাওয়ার্দী হলগুলোতে পূর্বের ঘটনাগুলোতে জড়িতদের ছাত্রত্ব বাতিল করে ১১ অক্টোবর বিকেল ৫টার মধ্যে নিশ্চিত করতে হবে।

পূর্বে ঘটা এরকম ঘটনা প্রকাশ ও পরবর্তীতে ঘটা যেকোনো ঘটনা প্রকাশের জন্য একটা কমন প্ল্যাটফর্ম থাকতে হবে। সেখানে প্রকাশিত ঘটনার রিভিউ করে দ্রুত সময়ে বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে। এ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বুয়েটের বিআইএস অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে হবে। এবং ১১ অক্টোবর বিকেল ৫টার মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি প্রদর্শন করতে হবে এবং পরবর্তীতে ১ মাসের মধ্যে কার্যক্রম পূর্ণরূপে শুরু করতে হবে।


আরও পড়ুন: বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি বন্ধসহ নতুন ১০ দফা দাবি শিক্ষার্থীদের


নিরাপত্তা হিসেবে সব হলে প্রত্যেক ফ্লোরের দু’পাশে সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা করতে হবে।

রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে আবাসিক হল থেকে ছাত্রদের উৎখাতের ব্যাপারে অজ্ঞ থাকা এবং ছাত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হওয়া শের-ই-বাংলা হলের প্রভোস্টকে ১১ অক্টোবর বিকেল ৫টার মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে। 

রবিবার (৬ অক্টোবর) রাতে বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের (ইইই) বিভাগের লেভেল-২ এর টার্ম ১ এর ছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। সোমবার ভোরে শের-ই-বাংলা হলের প্রথম ও দ্বিতীয় তলার সিঁড়ির মধ্যবর্তী জায়গায় আবরারের নিথর দেহ পাওয়া যায়। তার শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন ছিল।


আরও পড়ুন: বুয়েটে ভর্তি ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা আন্দোলনকারীদের