• মঙ্গলবার, অক্টোবর ২২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:১৮ দুপুর

বিরামপুরের পরিত্যক্ত উপ-কারাগার এখন মাদকসেবীদের আড্ডাস্থল

  • প্রকাশিত ০৭:৪৮ রাত অক্টোবর ১০, ২০১৯
বিরামপুর উপ-কারাগার
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার পরিত্যক্ত উপ-কারাগার ঢাকা ট্রিবিউন

 অনেক বছর ধরে পরিত্যক্ত থাকায় ভবনটির ভেতরের অংশে গাছপালা জন্মে ভূতুড়ে জঙ্গলে পরিণত হয়েছে

প্রায় দুই যুগ ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার উপ-কারাগারটি। কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের রক্ষণা-বেক্ষণ বা নজরদারি না থাকায় জায়গাটিতে মাদকসেবীদের নিরাপদ আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে। 

এছাড়াও, অযত্ন , অবহেলা ও তদারকির অভাবে কারাগারটির দরজা, জানালা ইতোমধ্যে চুরি হয়ে গেছে। অনেক বছর ধরে পরিত্যক্ত থাকায় ভবনটির ভেতরের অংশে গাছপালা জন্মে ভূতুড়ে জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। ইতোপূর্বে সেখানে একটি শিশু পুনর্বাসনকেন্দ্র গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা এখনও আলোর মুখে দেখেনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৮১ সালে স্থানীয় সরকার প্রশাসন থানাগুলোকে উপজেলায় রূপান্তর করে। তখন অপেক্ষাকৃত লঘু অপরাধের বিচারকাজ পরিচালনার জন্য দেশের অন্যান্য উপজেলার মতো দিনাজপুরের সীমান্ত ঘেঁষা উপজেলা বিরামপুরেও উপজেলা আদালতের কার্যক্রম চালু হয়। 

জেলা শহর থেকে দূরবর্তী বিরামপুর, ফুলবাড়ী, নবাবগঞ্জ, হাকিমপুর ও ঘোড়াঘাটসহ ৫টি উপজেলার বিচারাধীন মামলার সাক্ষী-আসামিদের সঠিক সময়ে উপজেলা আদালতে হাজিরা দেওয়ার সুবিধার্থে দুই দশমিক ১৯৮৪ সালে দুই দশমিক ৮ একর জমিতে নির্মিত হয় বিরামপুর উপ-কারাগার।

কিন্তু, ১৯৯১ সালে উপজেলা আদালতগুলোকে জেলা শহরে স্থানান্তর করে সরকার। প্রত্যাহার করে নেওয়া হয় উপজেলাগুলোর উপ-কারাগারের জনবল। ফলে দেশের অন্যান্য উপ-কারাগারের মত বিরামপুর উপ-কারাগারটিও পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। 

২০১৪ সালের ১৪ জুলাই এই উপ-কারাগারটি পরিদর্শনে আসেন উপ-কারাগার পরিদর্শন কমিটির সভাপতি ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখার যুগ্ম-সচিব শুসেন চন্দ্র রায়। পরিদর্শন প্রতিবেদনে বিরামপুর উপ-কারাগারটিকে শিশু ও কিশোর অপরাধী সংশোধনকেন্দ্র হিসেবে পুনরায় চালুর প্রস্তাব করেন তিনি। কিন্তু পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই প্রস্তাবের বাস্তবায়নে কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পরিত্যক্ত কারাগার ভবনের ভেতরে চলে মাদক সেবন ও বিক্রি। যেন কেউ নেই বাধা দেওয়ার। পাশের বাড়িগুলোর বাসিন্দারাও ভয়ে কিছু বলেন না। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বাড়ি মালিক বলেন, আমরা একাধিকবার প্রতিবাদ করে ব্যর্থ হয়েছি। পুলিশ অভিযোগ পেলে চলে আসে ঠিকই কিন্তু তারা চলে যাওয়ার পরপরই আবার শুরু হয় মাদকসেবন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইয়াবাসহ সবধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্যই আশে-পাশের এলাকাতে পাওয়া যায়।

উপ-কারাগারটির দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা বিরামপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রাজুল ইসলাম বলেন, “সারাদেশে এমন ২৫টি পরিত্যক্ত উপ-কারাগার রয়েছে। তারমধ্যে ২১টিকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালায় ও ২টি মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে হস্তান্তর করা হয়েছে কিন্তু এই কারাগারের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা পাইনি।” 

পরিত্যক্ত ভবনে জুয়া ও মাদকের আসরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ভবনটিতে আগে মাদকসেবন করা হতো। অভিযোগ পেয়ে পুলিশের সহায়তায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সার্বক্ষণিক দেখাশোনার জন্য উপজেলা দফতরের দুইজন কর্মচারিকে নিয়োজিত করা হয়েছে।”