• সোমবার, নভেম্বর ১৮, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:৩৪ দুপুর

প্রশিক্ষণ সমন্বয়কারীকে পেটালেন শিক্ষা কর্মকর্তার গাড়িচালক

  • প্রকাশিত ০৮:০৯ রাত অক্টোবর ১২, ২০১৯
মারধর
চা-নাস্তা কেনার দায়িত্ব না দেওয়ায় জেলা শিক্ষা অফিসের প্রশিক্ষণ সমন্বয়ক আমিনুল ইসলামকে (বামে) ২শ' শিক্ষকের সামনেই বেধড়ক মারধর করেন গাড়িচালক বাবলা। ঢাকা ট্রিবিউন

চা-নাস্তা কেনার দায়িত্ব না দেওয়ায় জেলা শিক্ষা অফিসের প্রশিক্ষণ সমন্বয়ক আমিনুল ইসলামকে ২শ' শিক্ষকের সামনেই বেধড়ক মারধর করেন গাড়িচালক বাবলা

পঞ্চগড়ে চা-নাস্তা কেনার দায়িত্ব না দেওয়ায় জেলা শিক্ষা অফিসের আওতাধীন সেকেন্ডারী ইডুকেশন সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রামের (সেসিপ) প্রশিক্ষণ সমন্বয়কারী আমিনুল ইসলামকে বেদম মারপিটের অভিযোগ উঠেছে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার গাড়িচালক ইমতিয়াজ আলী বাবলার বিরুদ্ধে।

শনিবার (১২ অক্টোবর) পঞ্চগড় বিপি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে চলমান ৬ দিন ব্যাপি সৃজনশীল প্রশ্নপত্র প্রণয়ন প্রশিক্ষণ কর্মশালা চলাকালীন সময়ে এই ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের উপ-পরিচালক মো. আকতারুজ্জামান। আহতাবস্থায় ওই কর্মকর্তাকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জেলা শিক্ষা অফিস ৬ দিনব্যাপী সৃজনশীল প্রশ্নপত্র প্রণয়ন প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করে। এতে মাধ্যমিক পর্যায়ের ২শ' শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন। শনিবার দুপুরে মধ্যাহ্নভোজের সময় প্রশিক্ষণরত শিক্ষকদের চা-নাস্তা আনার দায়িত্ব না দেওয়ায় প্রশিক্ষণ সমন্বয়ক আমিনুল ইসলামকে তীরস্কার করা শুরু করেন। একপর্যায়ে কর্মশালায় উপস্থিত ২শ' শিক্ষক ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সামনেই ওই শিক্ষা কর্মকর্তাকে লাঠি দিয়ে বেদম মারধর করেন গাড়িচালক বাবলা। এসময় আমিনুলের পরণের কাপড়ও ছিঁড়ে দেন তিনি।

এতে প্রশিক্ষণে আসা শিক্ষকরা এঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে চিৎকার চেচামেচি শুরু করলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে খবর পেয়ে পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাবলাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় এবং ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

জেলা প্রশিক্ষক সমন্বয়কারী আমিনুল ইসলাম অভিযোগ করেন, "গাড়ি চালক বাবলা খাবার পরিবেশনসহ বিভিন্ন খাতে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছে। একারণে তাকে এবার এ দায়িত্ব থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সে আমার ওপর আক্রমণ করেছে। বিষয়টি আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।"

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হিমাংশু কুমার রায় সিংহ এপ্রসঙ্গে ঢাকা ট্রিবিউন’কে বলেন, "আমার সামনেই ঘটনাটি ঘটেছে। বাবলা আমার কথাও শোনেনি। ঘটনার পর বিষয়টি আমি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও মাধ্যমিক শিক্ষা ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালককে অবহিত করেছি।"

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের উপ-পরিচালক মো. আকতারুজ্জামান বলেন, "বিষয়টি আমি শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে শিক্ষা সমন্বয়ক আমিনুল ইসলাম তাকে মেরে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত গাড়িচালক বাবলা। তবে এবিষয়ে থানায় কোনও মামলার দায়ের করা হয়নি বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।