• শুক্রবার, নভেম্বর ১৫, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৬ রাত

আবরারের ছোট ভাই : ঢাকায় আর যাওয়া হবে না

  • প্রকাশিত ০৬:৫৫ সন্ধ্যা অক্টোবর ১৩, ২০১৯
ফাইয়াজ

ফাইয়াজ বলেন, 'ভাই যাওয়ার সময় মা ডেকেছিল। কিন্তু শুয়েই ছিলাম'

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) হত্যাকাণ্ডের শিকার শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ জানিয়েছেন, ঢাকায় তার দেখাশোনা করতেন বড় ভাই আবরার। তার অনুপস্থিতিতে এখন সেখানে তিনি 'কীভাবে থাকবেন'-এমন প্রশ্ন করেছেন ফাইয়াজ। 

রোববার (১৩ অক্টোবর) কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার রায়ডাঙ্গায় গ্রামের বাড়িতে সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন ঢাকা কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাইয়াজ।

ফাইয়াজ বলেন, "আমি ঢাকাতে গিয়েছি ছয় মাস। এই ছয় মাসে যদি আমাদের দুজনের সম্পর্কের কথা বলতে হয়, তাহলে দুজনের সম্পর্ক একশোতে একশো। হয়তো মাঝে মধ্যে মনোমালিন্য হতো। ভাইয়া সেখানে আমার গার্ডিয়ান ছিলো। সেই তখন থেকেই, এমনকি লাস্ট কয়েকদিন আগেও, মানে মারা যাওয়ার কয়েকদিন আগে থেকেও ফিল হতো-যে বাবা-মা না থাকলেও খুব একটা সমস্যা হবে না। আমার ফ্রেন্ডদেরও তাই বলতাম। আমি আব্বু-আম্মুকে সব কথা না বললেও বা আমার সব ফ্রেন্ডের সাথে অতটা ফ্রি না হলেও আমার ভাইয়া আমার ব্যপারে সব জানতো এবং আমিও ওর ব্যপারে সব জানতাম।" 

আবরার ফাহাদ যেদিন কুষ্টিয়ার বাসা থেকে ঢাকায় ফেরেন, সেদিন সকালে তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন জানিয়ে ফাইয়াজ বলেন, "ভাই যাওয়ার সময় মা ডেকেছিল। কিন্তু শুয়েই ছিলাম। তারপর ভাই বললো, 'থাক, ও ঘুমাক। দেখা তো হবেই।' এরপর আমাকে বললো, 'তাড়াতাড়ি ঢাকায় চলে আয়। দেখা হবে।' আমি বললাম ঠিক আছে, যা।"  

ঢাকায় যাওয়ার প্রসঙ্গে ফাইয়াজ বলেন, "আর যাওয়া হবে না। মানে কলেজে আর যাওয়া হবে না। সত্যি কথা আসলে যেটা, ঢাকাতে নিয়ে গিয়েছিল আমার ভাই। আমার ভাইয়া চাইতো আমি ওখানে থাকি। আমার ভাইয়ায় সম্পুর্ণ টেককেয়ার করতো। ধরুন, কখনো পানি নাই রুমে। পানিটাও যদি লাগতো, ভাইয়া এসে দিয়ে যেত। ভাইয়া নেই, সেখানে এখন আমি কীভাবে থাকবো।"

রোববার (৬ অক্টোবর) রাতে বুয়েটের শের-ই-বাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বুয়েটের ১৭তম ব্যাচের ইলেকট্রিক অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের (ইইই) ছাত্র আবরার ফাহাদকে। রাত ৩টার দিকে হলের দ্বিতীয় তলার সিঁড়ি থেকে আবরারের মরদেহ উদ্ধার করে কর্তৃপক্ষ। আবরারকে হত্যার ঘটনায় তার বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ১৯ জনকে আসামি করা হয়েছে।