• শুক্রবার, নভেম্বর ১৫, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৬ রাত

অতিমাত্রায় বিরতি নিয়ে চলছে বিরতিহীন ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’!

  • প্রকাশিত ০৪:৫৮ বিকেল অক্টোবর ১৫, ২০১৯
বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেন
বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেন ঢাকা ট্রিবিউন

যাত্রীদের অভিযোগ, চালুর পর থেকেই বিরতিহীনভাবে চলছে না ট্রেনটি। চলার পথে নিয়ম ভেঙে বিভিন্ন স্টেশন ও আউটার সিগন্যালে দাঁড় করিয়ে রাখা হচ্ছে

চলতি বছরের ১৭ জুলাই গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’ ট্রেনের উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঢাকা-বেনাপোল রুটে বহুল প্রতীক্ষিত এই ট্রেনটি চালু হওয়ার পর ভোগান্তি কমবে বলে আশা করেছিলেন যাত্রীরা। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। অন্য ট্রেনের মতোই গতানুগতিক নিয়মে চলাচল করছে বহুল প্রতীক্ষিত এ ট্রেনটি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি বিরতিহীন সার্ভিস দেওয়ার কথা থাকলেও চলাচলের পথে নিচ্ছে অপ্রত্যাশিত বিরতি। অরক্ষিত লেভেল ক্রসিং ও নতুন রেলপথ নির্মাণ না করেই বিরতিহীন ট্রেন সার্ভিস চালু করায় ট্রেনটি নির্ধারিত গতিতে চলতে পারছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, ৮৯৬ আসনের এই ট্রেন প্রতিদিন বেনাপোল স্টেশন থেকে ছেড়ে যশোর জংশন, ঈশ্বরদী জংশন ও ঢাকার বিমানবন্দর স্টেশনে যাত্রী ওঠা-নামার জন্য নির্দিষ্ট বিরতি নিয়ে শেষ গন্তব্য কমলাপুরে গিয়ে থামে। ট্রেনটি প্রতিদিন দুপুর ১টার দিকে বেনাপোল থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। আবার রাত সাড়ে ১২টার  দিকে ঢাকা থেকে বেনাপোলের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। তবে নিয়মানুযায়ী ট্রেনটিকে বেনাপোল থেকে ছেড়ে ঢাকায় যাওয়ার পর যশোর, ঈশ্বরদী ও ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনে বিরতি দেওয়ার পাশাপাশি অন্তত ৭-৮ জায়গায় বিরতি দিতে হচ্ছে। চলতে হচ্ছে অন্যসব ট্রেনের গতির মতোই।

আধুনিক রেল লাইনের অভাবেই ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’-কে এ সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে আরও জানিয়েছে সূত্রটি।

বেনাপোল রেলওয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, এ অঞ্চলের রেললাইনের উন্নয়ন না করে তড়িঘড়ি করে ট্রেনটি চালু করা ঠিক হয়নি। বিরতিহীন ট্রেন চলাচলের জন্য যে মানের রেললাইন থাকার দরকার তা এখানে নেই। সাধারণত এ ধরনের ট্রেন অন্যসব ট্রেনের চেয়ে একটু বেশি গতিতে চলাচল করে। কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় ক্রসিংয়ের কারণে ট্রেনটিকে সাধারণ ট্রেনের গতিতেই চলতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও অন্যসব ট্রেন পারাপারের জন্য দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়েও থাকতে হচ্ছে।

যাত্রীদের অভিযোগ, চালুর পর থেকেই বিরতিহীনভাবে চলছে না ট্রেনটি। চলার পথে নিয়ম ভেঙে বিভিন্ন স্টেশন ও আউটার সিগন্যালে দাঁড় করিয়ে রাখা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে বেনাপোল রেলওয়ে জংশনের স্টেশন মাস্টার সাইদুজ্জামান ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, ট্রেনটি তার ঠিক নিয়মেই চলছে। তবে চলাচলের সময় অন্য ট্রেনকে সাইড দিতে গিয়ে কোথাও কোথাও দাঁড় করাতে হচ্ছে। বেনাপোল থেকে যশোর ও যশোর থেকে দর্শনা পর্যন্ত একটি লাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল করে। এসময় অন্য সাইড দিয়ে যদি কোনো ট্রেন ঢুকলে সেটিকে ক্রস করতে কিছুটা সময় লাগে। এ অঞ্চলের রেললাইনের উন্নয়নের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যা বাস্তবায়ন হলে এ সমস্যা অনেকটা কেটে যাবে।

এদিকে, বিরতিহীন এ ট্রেনটি বেনাপোল থেকে যশোর পর্যন্ত চলাচল করছে ঝুঁকি নিয়ে। বিশেষ করে অরক্ষিত লেভেল ক্রসিংয়ের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। বেনাপোল থেকে যশোর পর্যন্ত অন্তত ৫০টি লেভেল ক্রসিং রয়েছে। যার অধিকাংশেই নেই কোনো গেটম্যান।

যশোর রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী চাঁদ আহমেদ বলেন, বেনাপোল থেকে যশোর পর্যন্ত মোট ৫০টি লেভেল ক্রসিংয়ের ৪০টি বৈধ, বাকি ১০টি অবৈধ। বৈধ ৪০টির মধ্যে ৩৬টিতে গেটম্যান আছে, বাকি চারটিতে নেই। সব মিলিয়ে এই রুটে ১৪টি লেভেল ক্রসিংয়ে কোনো গেটম্যান নেই।