• রবিবার, নভেম্বর ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৮ রাত

বোনকে দেখতে বের হওয়ার পর মিলল হাত-পা বাঁধা লাশ

  • প্রকাশিত ১১:৫৯ সকাল অক্টোবর ১৬, ২০১৯
লাশ
প্রতীকী ছবি

ডা. প্রদীপ চন্দ্র মণ্ডল জানান,  হাসপাতালে আনার অনেক আগেই শাহ আলমের মৃত্যু হয়

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় শাহ আলম (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে হাত-পা বেধে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। 

মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার গোহালা ইউনিয়নের উত্তর গঙ্গারামপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত শাহ আলম ওই গ্রামের মৃত আবদুল খালেক শেখের ছেলে।

নিহতের চাচাতো ভাই বাবুল শেখ জানান, সোমবার (১৪ অক্টোবর) গোহালা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনের প্রস্তুতি সভায় উত্তর গঙ্গারামপুর গ্রামের মোশারফ মল্লিক ও ইমারত হোসেন কিনু মল্লিক সভাপতি প্রার্থী হন। ওই দুই সভাপতি প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ চলে আসছিলো। মঙ্গলবার সকালে সিন্দিয়াঘাট বাজারে দুই প্রার্থীর লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে দুইপক্ষে নারীসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হন। আহতদের চারজনকে মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। 

পরে মোশারফ হোসেনের সমর্থক শাহ আলাম রাজৈর হাসপাতালে ভর্তি সংঘর্ষে আহত চাচাতো বোন মিনাকে দেখতে মঙ্গলবার দুপুরে রাজৈরের উদ্দেশে রওনা হন। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। অনেক খোজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে এলাকাবাসী সন্ধ্যা ৭টা দিকে হাত-পা বাঁধা অব্স্থায় শাহ আলমকে কুমার নদের পাড়ে পড়ে থাকতে দেখে। তারা তাকে উদ্ধার করে রাত ৮টার দিকে রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রদীপ চন্দ্র মণ্ডল জানান,  হাসপাতালে আনার অনেক আগেই শাহ আলমের মৃত্যু হয়।

সংঘর্ষে আহত শাহ আলমের চাচাতো বোন মিনা অভিযোগ করে বলেন, "প্রতিপক্ষ সভাপতি প্রার্থী ইমারত হোসেন কিনু মল্লিকের সমর্থকরা আমার ভাইকে হাত-পা বেঁধে নির্মমভাবে নির্যাতন করে হত্যা করেছে। আমি এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।"

মুকসুদপুর উপজেলার সিন্দিয়াঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল বাসার বলেন, লাশের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর শাহ আলমের মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামাল পাশা জানান, এ ব্যাপারে অভিযোগ পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।