• শুক্রবার, নভেম্বর ১৫, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৬ রাত

বৃদ্ধকে নির্যাতনে হত্যা: রংপুরে পাঁচ পুলিশ প্রত্যাহার

  • প্রকাশিত ০৮:০৩ রাত অক্টোবর ১৬, ২০১৯
রংপুরের পীরগঞ্জে পুলিশ ফাঁড়ি
ঘটনা জানাজানি হলে প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশ ফাঁড়ি ঘেরাও করে দায়ীদের গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ করে ঢাকা ট্রিবিউন

পীরগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়িতে সামসুল ইসলাম নামে এক বৃদ্ধকে আটকে রেখে রাতভর নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ ওঠায় বুধবার দুপুরে ওই পাঁচ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়। এছাড়া, ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে

রংপুরের পীরগঞ্জে পুলিশ ফাঁড়িতে সামসুল ইসলাম নামে এক বৃদ্ধকে আটকে রেখে রাতভর নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ ওঠার পর ওই ফাঁড়ির পাঁচ পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড (প্রত্যাহার) করা হয়েছে।

বুধবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে ওই পাঁচ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়। এছাড়া, ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। রংপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) বিপ্লব কুমার এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দুপুরে ভেন্ডাবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ি পরিদর্শন করে এসপি বিপ্লব কুমার জানান, বৃদ্ধকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ ওঠায় ভেন্ডাবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আমিনুল ইসলামসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ সোর্স জিয়াকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেই কমিটিকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে ১৫ লিটার চোলাই মদসহ বৃদ্ধ সামসুল ইসলামকে আটক করা হয় বলে দাবি করেছে পুলিশ। তারা আরও দাবি করে, বুধবার সকাল ৯টার দিকে ফাঁড়ির ভেতরে গলায় পরনের জামা পেঁচিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেন সামসুল ইসলাম। 

তবে নিহতের মেয়ে সান্তনার অভিযোগ, “ভেন্ডাবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আমিনুল ও পুলিশের সোর্স জিয়া বাবাকে আটক করে একলাখ টাকা দাবি করে। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় বাবাকে চোলাই মদের ব্যবসায়ী বানিয়ে ফাঁড়িতে নিয়ে সারারাত নির্যাতন করে হত্যা করেছে তারা। ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য আত্মহত্যার কথা বলছে পুলিশ।”

ঘটনা জানাজানি হলে এর প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশ ফাঁড়ি ঘেরাও করে দায়ীদের গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ করে। এসময় জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার জন্য বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এতে ২৫ জন আহত হন।