• রবিবার, নভেম্বর ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:০১ দুপুর

ইট ভাটার দালাল থেকে পেশাদার সাইবার অপরাধী

  • প্রকাশিত ০৬:০০ সন্ধ্যা অক্টোবর ১৭, ২০১৯
হবিগঞ্জ হ্যাকার
ইটের দালাল থেকে সাইবার অপরাধী হয়ে ওঠা হবিগঞ্জের মাহফুজুর রহমান নবীন ঢাকা ট্রিবিউন

অসংখ্য অশ্লীল ছবি ও ভিডিওতে নারীদের মাথা জুড়ে দিয়ে চরিত্র হনন এবং ব্ল্যাকমেইলিংয়ে জড়িত নবীন। এভাবে তিনি স্বামী-স্ত্রী-প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি করতেন

শুনতে বেমানান লাগলেও ইট ভাটার দালাল থেকে সাইবার অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে হবিগঞ্জের নবীন নামে এক যুবক। ছাত্রাবস্থায় পড়াশোনা বাদ দিয়ে সে জড়িয়ে পড়েছিল ইট ব্যবসার দালালীতে।

বড় বড় ব্যবসায়ীকে ইট সরবরাহ করে প্রতি হাজারে ৫০ থেকে ১শ টাকা করে দালালী ছিল তার পেশা। দীর্ঘদিন এ ব্যবসায় সংশ্লিষ্ট থাকার ফলে সিলেটের ব্যবসায়ীদের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয় সে। একপর্যায়ে ইট কেনার কথা বলে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করতে শুরু করে নবীন।

র‍্যাব জানিয়েছে, বছর দুয়েক আগে হঠাৎ করেই ইটের দালালী ছেড়ে দিয়ে এলাকা থেকে চলে যান বাহুবল উপজেলার মামুদ নগর গ্রামের এই যুবক।

এলাকা ছাড়ার পর ধীরে ধীরে তিনি হয়ে ওঠেন পেশাদার সাইবার অপরাধী। জড়িয়ে পড়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে।

বর্তমানে তার পরিচয় ‘র‌্যাব কর্মকর্তা’। র‌্যাবের ডিএডি পরিচয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুককে ঘিরেই তার অপরাধ রাজ্যের বিস্তৃতি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা, মিডিয়া কর্মী, নামীদামী সেলিব্রিটি, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রছাত্রী কিংবা সাধারণ জীবনযাপনকারী চাকুরজীবী অনেককেই শিকার বানিয়েছেন নবীন।

একের পর এক ব্যক্তিকে টার্গেট করে ফেসবুক আইডি হ্যাক, ভিডিও ও ছবি জালিয়াতি, র‌্যাব কর্মকর্তা সেজে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ আদায়, পর্নোগ্রাফি ও রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির চরিত্রহননের মাধ্যমে অকল্পনীয় সব উপায়ে সাইবার অপরাধ করে আসছিলেন তিনি।

দীর্ঘদিন ধরে এমন অনেক প্রতারণার পর অবশেষে র‌্যাবের জালে আটকা পড়লেন পেশাদার সাইবার অপরাধী ও অনলাইন ভিত্তিক প্রতারক মাহফুজুর রহমান নবীন (২৮)।

আটকের পর নবীনকে র‍্যাবের জিজ্ঞাসাবাদ। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন
বুধবার (১৬ অক্টোবর) র‌্যাব-৯ এর সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আনোয়ার হোসেন শামীমের নেতৃত্বে বাহুবলী উপজেলার আব্দুল্লাহপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

এএসপি শামীম জানান, লক্ষ্যবস্তু হিসেবে সাধারণত নারীদেরকেই বেছে নিতেন তিনি। ফেসবুক আইডি হ্যাক করার পর প্রথমে তিনি আইডির মালিককে মানসিক চাপ দেওয়ার জন্য আইডিতে থাকা একান্ত ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও, ডকুমেন্টস বিভিন্নজনকে পাঠিয়ে দিতে থাকেন। তারপর ধারাহিকভাবে হ্যাক করা আইডি ব্যবহার করে বিভিন্ন কৌশলে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করতেন।

তিনি আরও জানান, অসংখ্য অশ্লীল ছবি ও ভিডিওতে নারীদের মাথা জুড়ে দিয়ে চরিত্র হনন এবং ব্ল্যাকমেইলিংয়ে জড়িত নবীন। এভাবে তিনি স্বামী-স্ত্রী-প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি করতেন। পরিকল্পিতভাবে ভেঙে দিতেন দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। অর্থের বিনিময়ে ফরমায়েশ অনুযায়ীও এসব কাজ করতেন তিনি।

আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারণার কৌশল এবং ভয়ংকর অপরাধ প্রবণতার কথা শুনে র‌্যাব কর্মকর্তারাও হতবাক হয়ে যান।

র‌্যাব কর্মকর্তা, টেলিভিশন উপস্থাপিকাসহ অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির ফেসবুক আইডি হ্যাক এবং একই নাম ও ছবি ব্যবহার করে আইডি বানিয়ে অভিনব সব উপায়ে সাইবার অপরাধ করে আসছিলেন নবীন। আটকের পর তাকে বাহুবল থানায় হস্তান্তর করেছে র‍্যাব।

বাহুবল মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, নবীনকে বুধবার রাতে থানায় হস্তান্তর করে র‍্যাব। বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে র‌্যাব বাদী হয়ে সাইবার আইনে একটি মামলা করেছে।