• শুক্রবার, নভেম্বর ১৫, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৬ রাত

মাধবপুর চা বাগানে প্রেমিকার বাড়িতে প্রেমিকের আত্মহননের চেষ্টা

  • প্রকাশিত ০১:২৮ দুপুর অক্টোবর ১৮, ২০১৯
মৃত্যুদণ্ড
প্রতীকী ছবি

ঘটনাটি দুই সম্প্রদায়ের সমাজপতি ও প্রতিনিধিরা সামাজিক বৈঠকের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করছেন

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর চা বাগানে স্বামী পরিত্যক্তা এক নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের জেরে চা শ্রমিকদের হেনস্থার শিকার হতে হয়ে এক যুবককে। 

বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) গভীর রাতে প্রেমিকার বাড়িতে গিয়ে আত্মহননের চেষ্টা করেন ওই যুবক। তবে এ যাত্রায়ও এলাকাবাসী তাকে ধরে ফেলেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তাদেরকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। 

ওই যুবকের নাম স্বপন কুমার নুনিয়া (৪০)। তার বাড়ি মাধবপুর চা বাগানের বাজার লাইন এলাকায়। 

চা বাগান সূত্র জানায়, চা বাগান এলাকার নারী ইউপি সদস্য সুমিত্রা বালা নুনিয়ার ছেলে স্বপন নুনিয়া বিবাহিত হলেও পশ্চিম লাইন শ্রমিক বস্তির স্বামী পরিত্যক্তা এক নারীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। বুধবার রাতে তারা দেখা করতে গেলে ওই নারীর স্বজন ও চা বাগানের শ্রমিকরা তাদেরকে আটক করে নিজ নিজ বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। 

ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পরে প্রেমিক স্বপনের বাড়িতে গিয়ে তাকে বিয়ে করার জোর দাবি জানান ওই নারী। কিন্তু স্বপনের মা তাকে ধমকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এর কিছুক্ষণ পর প্রেমিক স্বপন প্রেমিকার বাড়িতে ঢুকে তারই কক্ষে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বিষয়টি টের পেয়ে যান ওই বাড়ির লোকজন। তাদের চিৎকারে চা শ্রমিকরা এগিয়ে এসে দড়ি কেটে স্বপনকে জীবিতাবস্থায় উদ্ধার করে। 

বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে জানিয়ে কমলগঞ্জ থানায় খবর দেওয়া হলে পরদিন সকালে কমলগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক ফরিদ মিয়ার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল এসে ওই প্রেমিক যুগলকে থানায় নিয়ে যায়। 

মাধবপুর চা বাগানের শ্রমিকরা জানান, স্বপন কুমার নুনিয়ার পরকীয়ায় এর আগেও ৫টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার মা ইউপি সদস্য হওয়ায় ভয়ে কেউ কিছু বলে না। 

কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পুষ্প কুমার কানু বলেন, চা বাগানে সামাজিক প্রথা খুবই শক্ত। ঘটনাটি দুই সম্প্রদায়ের সমাজপতি ও প্রতিনিধিরা সামাজিক বৈঠকের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করছেন। 

কমলগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক ফরিদ মিয়া বলেন, “রাতেই স্থানীয় মুচলেকা নিয়ে জনপ্রতিনিধির জিম্মায় ওই জুটিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কোনো পক্ষই কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন না। তারা চা বাগানে সামাজিক বৈঠক করে সমস্যার সমাধান করতে চাইছেন। তাই এ ঘটনায় কোনো আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”