• সোমবার, নভেম্বর ১৮, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:৪২ দুপুর

রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে গৃহবধূকে গণধর্ষণ

  • প্রকাশিত ০৩:৪৯ বিকেল অক্টোবর ২০, ২০১৯
গণধর্ষণ
প্রতীকী ছবি।

বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়িতে ফিরছিলেন ওই গৃহবধূ

নওগাঁর মহাদেবপুরে রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে এক গৃহবধুকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (১৯ অক্টোবর) রাতে তাদের আটক করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জুয়েল।

আটক ব্যক্তিরা হলেন - উপজেলার চকরাজা গ্রামের আফাজ উদ্দীনের ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৩৬), রহিমের ছেলে মিঠু (৩৮) ও মৃত কসতুল এর ছেলে বাবু (৪০)।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার উপজেলার সরস্বতীপুর বাজারে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, ভুক্তভোগী গৃহবধূ বৃহস্পতিবার তার বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়ি ফিরছিলেন। সন্ধ্যার দিকে তিনি সরস্বতীপুর বাজারে নামেন।

সেখান থেকে হেঁটে বাড়ি যাওয়ার পথে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে বাজারের পাশে পরিত্যক্ত একটি চাতাল কলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন অভিযুক্ত ৩ ব্যক্তি। এসময় চাতালের পাশের রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন স্থানীয় এক ব্যক্তি। ওই গৃহবধূর গোঙ্গানির শব্দ শুনে এগিয়ে যান তিনি। এদিকে লোক আসতে দেখে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন ৩ ধর্ষক। তবে, তাদের মধ্যে সিরাজুলকে পালিয়ে যাওয়ার আগেই আটক করতে সক্ষম হয় স্থানীয় জনতা। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ভুক্তভোগীকে বাড়িতে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। আটক করে রাখা হয় সিরাজুলকে।

পরের দিন স্থানীয় মাতবরদের কাছে এর বিচার দাবি করেন ভুক্তভোগীর স্বামী। কিন্তু বিচারের বদলে উল্টে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন তারা। এদিকে সুযোগ বুঝে সিরাজুলকেও ছাড়িয়ে নিয়ে যায় তার সহযোগীরা।

পর বাধ্য হয়ে ভুক্তভোগী নিজে বাদী হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এর প্রেক্ষিতে শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে ৩ অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশ।

ওসি নজরুল ইসলাম জুয়েল বলেন, "ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে গোপনে ভুক্তভোগীর পরিবারের সাথে আপোসের চেষ্টা করা হচ্ছিল। কিন্তু তারা আপোস করতে রাজি ছিলেন না। পরে বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনার সাথে জড়িত তিনজনকে আটক করা হয়। মহাদেবপুর থানায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।"

আগামীকাল রবিবার ভুক্তভোগীর আলামত পরীক্ষার জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।