• রবিবার, নভেম্বর ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৮ রাত

প্রত্যেক আসামির ফাঁসি চান তুহিনের মা

  • প্রকাশিত ০৪:৩১ বিকেল অক্টোবর ২০, ২০১৯
মনিরা বেগম
সন্তান হারানোর বেদনায় মুষড়ে পড়েছেন নিহত শিশু তুহিনের মা মনিরা বেগম। ঢাকা ট্রিবিউন

'যে স্বামী নিজের সন্তানকে খুন করতে পারে সে আমাকেও খুন করতে পারে, কোনো সন্তানই তার কাছে নিরাপদ না'

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে শিশু তুহিনের হত্যাকারীদের ফাঁসি দাবি করেছেন তার মা মনিরা বেগম। রবিবার (২০ অক্টোবর) ঢাকা ট্রিবিউনের সাথে কথা বলার সময় এই দাবি করেন তিনি।

মনিরা বেগম বলেন, "আমার সন্তানকে যারা হত্যা করেছে তাদের প্রত্যেকের ফাঁসি চাই। তারা আমার স্বামী, ভাসুর কিংবা দেবর যেই হোক, আমি প্রত্যেকের ফাঁসি চাই। যে স্বামী নিজের সন্তানকে খুন করতে পারে সে আমাকেও খুন করতে পারে। আমি এতো বড়ো ঘটনার কোনো কিছুই আগে থেকে জানতাম না। এই ঘটনা ঘটবে জানলে আমি তুহিনকে বুক দিয়ে আগলে রাখতাম। আমার কোনো সন্তান তাদের কাছে নিরাপদ না। আমি তাদেরকে বিশ্বাস করি না। আমি আর কিছু চাই না, শুধু তাদের ফাঁসি চাই।"

ওইরাতের ঘটনা বর্ণণা দিতে গিয়ে নিহত শিশু তুহিনের মা বলেন, "ওইদিন আমি আমার সদ্যজাত সন্তানকে নিয়ে ঘুমিয়েছিলাম। রাতে সবার চিৎকার শুনে উঠে দেখি আমার তুহিন বিছানায় নাই। পরে জানতে পারি আমার তুহিনকে নির্মম ভাবে খুন করে গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এরপর আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।"  

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কেজাউড়া গ্রামে নৃশংস কায়দায় ৫ বছর বয়সী শিশু তুহিনকে খুন হয়েছে গ্রামের আধিপত্য বিস্তারের জেরে। প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে স্বজনরাই তুহিনকে নির্মমভাবে হত্যা করে গাছের সাথে ঝুলিয়ে রেখেছিল- এমনটাই বলছেন গ্রামের আপামর মানুষ। পাশবিক কায়দায় সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন তারা।

জানা যায়, শান্তিপ্রিয় কেজাউড়া গ্রামটি অশান্ত হয়ে ওঠে গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দু'টি গোষ্ঠীর বিবাদে। যার একপক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন সাবেক ইউপি সদস্য আনোয়ার ও অপর পক্ষের হোতা তুহিনের চাচা মাওলানা আব্দুল মুচ্ছাব্বির। এই বিবাদের সর্বশেষ নির্মম শিকারে পরিণত হয় ৫ বছর বয়সী শিশু তুহিন।

এর আগে ২০০১ সালে মুজিবুর নামের এক কৃষক ও ২০১৫ সালে খুন হন নিলুফা নামের এক গৃহবধু। দু'টি খুনের ঘটনায়ই বিবদমান দুটি পক্ষের বিরুদ্ধে পরস্পরকে ফাঁসানোর অভিযোগ। মুজিব খুনের ঘটনায় আসামি করা হয়েছিল শিশু তুহিনের বাবা আব্দুল বাছিরকে। অপরদিকে গৃহবধু নিলুফা হত্যা মামলায় আনোয়ার মেম্বার পক্ষের ১৬ জনকে।

দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম নজরুল ইসলাম বলেন, "মামলার তদন্ত নিখুঁত ভাবে করা হচ্ছে। যাতে আদালত সর্বোচ্চ দোষীদের শাস্তি দিতে পারেন।