• রবিবার, নভেম্বর ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:১৫ দুপুর

হঠাৎ বিস্ফোরণে কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে যায় চারপাশ

  • প্রকাশিত ০৭:৪৪ রাত অক্টোবর ৩০, ২০১৯
আগুন
রাজধানীর মিরপুরে ৩০ অক্টোবর গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আহতদের ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়।ফোকাস বাংলা

‘পাঁচ-ছয় মিনিট পরেই বিকট শব্দ। সব অন্ধকার হয়ে গেল, কাউকে দেখা যাচ্ছে না। শিশুদের চিৎকার শুনতে পাই। ধোঁয়া শেষ হলে এসে দেখতে পাই, লোহার গেটের সামনে রক্ত। শিশুদের ছিন্নভিন্ন দেহ লাফাচ্ছে’

মিরপুরের রূপনগরে বেলুন ফোলানোর গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আহতদের বেশিরভাগই পথচারী। এ ঘটনায় আহত ১৪ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়েছে। সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালেও চিকিৎসা নিয়েছেন কয়েকজন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতদের স্বজনরা বলছেন, তারা বিকট একটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। এরপরেই কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে গেছে চারপাশ। খবর বাংলা ট্রিবিউনের।

প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন ঝালমুড়িঅলা হোসেন। তিনি রূপনগরের ১১ নম্বর সড়কের ফজর আলী মাদবরের ছেলে। কামরুল মাদবরের বস্তির সামনে বসে ঝালমুড়ি বিক্রি করছিলেন।

হোসেন বলেন, “বিকাল সাড়ে ৩টা বা পৌনে ৪টা হবে। ভ্যানে করে বেলুন নিয়ে আসে এক লোক। মাঝে মাঝে সে আসে। আমার ঝালমুড়ির পাশে এসে দাঁড়ায়, আমি তাকে সরিয়ে দেই। বলেছি দূরে দাঁড়াও। এরপর সে ১১ নম্বর সড়কের মুখে লোহার গেটের সামনে এসে দাঁড়ায়। এ সময় কয়েকটা বাচ্চা এসে তাকে ঘিরে ধরে। এর ৫/৬ মিনিট পরেই বিকট শব্দ। সব অন্ধকার হয়ে গেল। কাউকে দেখা যাচ্ছে না। ছাইয়ের মতো ধোঁয়া। আমি দৌড়ে উত্তর দিকে যাই। পরিষ্কার হতে প্রায় ৩/৪ মিনিট লাগে। শিশুদের চিৎকার শুনতে পাই। ধোঁয়া শেষ হলে এসে দেখতে পাই, লোহার গেটের সামনে রক্ত। শিশুদের ছিন্নভিন্ন দেহ লাফাচ্ছে। আমি চিৎকার দিয়ে মানুষ ডাকি। এর ১৫/২০ মিনিট পরেই পুলিশ আসে। তারপর ফায়ার সার্ভিস। তারা এসে লাশ তুলে নিয়ে গেছে। আহতদের ঢাকা মেডিক্যালে নেওয়া হয়েছে।”

ঘটনার সময় বেলুনওয়ালা ভ্যানের কাছ থেকে ছিটকে প্রায় ২০ ফুট দূরে গিয়ে পড়ে। গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে পাশের টিনশেড ঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রাশিদা বেগম দুর্ঘটনাস্থলের পাশেই পিঠা বিক্রি করছিলেন। তিনিও ফজর মাদবরের বস্তিতে থাকেন। রাশিদা বেগম বলেন, “আমি ঘরে আসছি, এরমধ্যে ঠাস করে শব্দ। সব ধোঁয়া হয়ে যায়। আমার ছেলে আমাকে ডাকতে থাকে। আমি অন্ধকারে বের হতে পারছিলাম না। এরপর আমি নেমে দেখি রাস্তায় বাচ্চাদের লাশ পড়ে আছে। কেউ আহত হয়ে পড়ে আছে। আমার ভাগ্নে-বউ জান্নাত পড়ে আছে, সে ধড়ফড় করতেছে। তার হাত ছিঁড়ে গেছে। আমি গিয়ে ধরলাম। এরপর আরও লোক আসে।”


আরো পড়ুন - মিরপুরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ৫ শিশু নিহত


প্রত্যক্ষদর্শী মোস্তফা বলেন, “এই বেলুন বিক্রেতা মাঝে মাঝে আসে। ভ্যানে করে বেলুন নিয়ে আসে। ছোট্ট সিলিন্ডার ছিল। বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়ে কালো রঙের ছাইয়ের মতো ধোঁয়া হয়ে যায়। এসে দেখি শিশুদের লাশ পড়ে আছে। সড়কে সিলিন্ডারের ভাঙা অংশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে। শিশুদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে। চুল পুড়ে গেছে। শরীর ঝলসে গেছে। এর কিছুক্ষণ পর পুলিশ আসে। পুলিশ আসার পর ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আসে। এরপর লাশ গাড়িতে তোলা হয়।”

তিনি আরও বলেন, “সিলিন্ডারের এত শক্তিশালী বিস্ফোরণ হয়েছে, কাছে যারা ছিল, তারা প্রায় দুই তিন মিনিট কানে কিছু শোনেননি।”

নিহত শিশুদের বেশিরভাগই ফজর আলী মাদবর বস্তির বলে জানান তিনি।

মিন্টু নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। এরপর কালো ধোঁয়া। আমি এসে দেখি লাশ। সবাইকে ধরতে বললাম, ১৩ জনকে আমি সুরক্ষা হাসপাতালে নিয়ে যাই। এছাড়াও আরও আহত ছিল। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।”

তিনি বলেন, “এক নারীর হাত ছিন্ন দেখছি। ওই নারীর নাম জান্নাত। তিনি বাজারে যাচ্ছিলেন। অনেক শিশুর নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে গেছে। সিলিন্ডারের বিস্ফোরিত অংশ, টিন, ইটভাঙা শিশুদের শরীরে গেঁথে ছিল।”

আহত জান্নাতের দেবর মনির হোসেন জানান, “ভাবি (জান্নাত) বাসাবাড়িতে কাজ করেন। মাদবরের বস্তিতে থাকেন। কাজ থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি।”

আরেক আহত শিশু সিয়ামের মামা আরিফ জানান, সিয়ামের বাবা তোফাজ্জল কাঁচামাল বিক্রেতা। ঘটনাস্থলের পাশে রাস্তায় বসে সবজি বিক্রি করেন। পাশের বস্তিতে তাদের বাসা। সিয়াম স্থানীয় স্কুলের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে তার বাবার দোকানে গিয়েছিল। সেখানে সে আহত হয়।

আহত এক রিকশাচালক জুয়েলের স্ত্রী রূপা দাবি করেছেন, তার স্বামী ওই সময় রিকশা নিয়ে সেখান দিয়ে যাওয়ার পথে আহত হন। বিস্ফোরণের শব্দে জুয়েল পড়ে যান বলে জানান তিনি।