• সোমবার, নভেম্বর ১৮, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৫৩ দুপুর

কারাবন্দির অসুস্থতার কথা বলে স্বজনদের কাছে টাকা দাবি!

  • প্রকাশিত ০২:১৪ দুপুর নভেম্বর ১, ২০১৯
যশোর কারাগার
যশোর কারাগার ঢাকা ট্রিবিউন

নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি বলেন,  'এখনই টাকা দেন।  না হলে আপনার স্বামীকে বাঁচানো যাবে না'

কারাবন্দি আসামির হৃদযন্ত্রে চিকিৎসার কথা বলে স্বজনদের হয়রানি ও তাদের কাছ থেক অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে একটি চক্র। তবে পুলিশের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে প্রতারকরা।

ঘটনাটি ঘটেছে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে। সদর উপজেলার চাঁদপাড়া গ্রামের রাবেয়া বেগম অভিযোগ করেন, তার স্বামী রকিবউদ্দিন চাঁদপাড়া দারুল উলুম খাদেমুল কুরআন মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক। এক ছাত্রীকে যৌনপীড়নের মামলায় তিনি বর্তমানে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।

রাবেয়া জানান , বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে একটি মুঠোফোন থেকে তাকে কল করে বলা হয়, “রকিবের হার্টে ব্লক ধরা পড়েছে। হার্টের ৯০ ভাগ নিষ্ক্রিয়। ২৫ মিনিটের মধ্যে রিং না পরালে তিনি মারা যাবেন। তাকে কারাগার থেকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ডা. শহিদুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে তার হার্টে রিং পরানো হবে।  কিছুক্ষণ পরে ডা. আপনাকে ফোন করবেন। বিস্তারিত তার কাছ থেকে জেনে নেবেন। তবে, আপাতত বিকাশে ১ লাখ টাকা দেন। বাকি টাকা পরে দিলেই হবে।”

তিনি বলেন, মিনিট দশেক পরে অন্য একটি নম্বর থেকে কল করে অপর প্রান্ত থেকে নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি বলেন, “এখনই টাকা দেন।  না হলে আপনার স্বামীকে বাঁচানো যাবে না।”

পুরো বিষয়টি কোতোয়ালি থানা পুলিশকে জানান রাবেয়া। পরে পুলিশের পরামর্শে তিনি টাকা লেনদেন থেকে বিরত থাকেন।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শারমিন আক্তার বলেন, ‘‘রকিবউদ্দিনের স্ত্রী রাবেয়া বেগম আমার কাছে এমন একটি অভিযোগ করেছেন।  তাকে বলা হয়েছে, এটি কোনো প্রতারক চক্রের কাজ। টাকা লেনদেন করতে নিষেধ করেছি।”

কোতোয়ালি থানার আরেক এসআই মাহবুব আলম বলেন, ‘‘অভিযোগ পাওয়ার পর ওই চক্রের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেছি।  টাকা পাঠানোর জন্য বিকাশ নম্বর চাওয়া হলে তারা বুঝতে পেরে দুটি ফোন নম্বরই বন্ধ করে রেখেছে।”

এদিকে, কারাবন্দি রকিবউদ্দিনের শারীরিক অবস্থা ভালো আছে জানিয়েছে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবু তালেব বলেন, ‘‘তার স্ত্রীর কাছে কল করে টাকা চাওয়ার বিষয়টি কোনো প্রতারক চক্রের কাজ হতে পারে। এই চক্র এর আগেও কারাবন্দিদের নাম করে স্বজনদের কাছ থেকে একাধিকবার টাকা নিয়েছে।”