• বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:২৫ বিকেল

মাইকে ঘোষণা দিয়ে হামলা, সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত ১৫

  • প্রকাশিত ০৭:৫০ রাত নভেম্বর ২, ২০১৯
ব্রাহ্মণবাড়িয়া

পুলিশ লাঠিচার্জের পাশাপাশি ৫০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে মাইকে ঘোষণা দিয়ে হামলার পর দু’দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে পুলিশসহ উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

শনিবার (২ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার হরষপুর ইউনিয়নের বুল্লা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে বিজয়নগর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যাপক লাঠিচার্জ ও অর্ধ শতাধিক রাউন্ড ফাঁকা রাবার বুলেট ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, উপজেলার হরষপুর ইউনিয়নের বুল্লা গ্রামের হুগলি বিল জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে ইজারা নেয় 'বড় উঠান' নামে মৎস্যজীবি সংগঠন।
গত কয়েকদিন আগে 'বড় উঠান' মৎস্যজীবী সংগঠনের সদস্যরা বুল্লা গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য ফুল মিয়া ও তার ছেলে বর্তমান ইউপি সদস্য কাউছার মিয়ার কাছে বিলটি মৌখিকভাবে সাব-ইজারা দেয়।

ইজারা নেওয়ার পর ফুল মিয়া ও কাউছার মিয়ার লোকজন বিলের পাশের পাইকপাড়া, হাজিপুর ও হাতুরিপাড়া গ্রামের জমিতে বাঁধ নির্মান করলে পাইকপাড়া গ্রামের ইউপি সদস্য কাসেম ও রাজু সরদারের নেতৃত্বে লোকেরা তাদেরকে বাঁধা দেয়। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

এরপর শনিবার দুপর ১২টার দিকে ফুল মিয়া ও কাউছার মিয়ার লোকজন বুল্লা গ্রামের মসজিদে মাইকে ঘোষণা দিয়ে পাইকপাড়া গ্রামে হামলা শুরু করে।

খবর পেয়ে বিজয়নগর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এসময় উত্তেজিত জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুঁড়তে থাকে। এতে ৩ পুলিশসহ উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে এএসআই মোশারফ হোসেন, এএসআই ওয়াদুদ ও পুলিশ সদস্য সাইফুলসহ অন্যান্যরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়।

এব্যাপারে বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়জুল আজিম নোমান বলেন, সাবেক মেম্বার ফুল মিয়া ও তার ছেলে কাউছার মেম্বারের লোকজন অবৈধভাবে বিল দখল করতে কয়েকদিন ধরে এলাকায় ঝগড়া-ফ্যাসাদ সৃস্টি করে আসছে। এনিয়ে উভয় পক্ষের সাথে আলোচনা করে মিমাংসার চেষ্টাও চলছিল। কিন্তু কাউছার মেম্বারের লোকজন এই হামলার ঘটনা ঘটায়। পরে পুলিশ লাঠিচার্জের পাশাপাশি ৫০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। তিনি ৩ পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন।শনিবার সন্ধ্যায় রির্পোট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছিল।