• সোমবার, নভেম্বর ১৮, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৫৩ দুপুর

সন্তানকে নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে প্রবাসী মায়ের কাছ থেকে নেওয়া হতো টাকা

  • প্রকাশিত ০৬:২৪ সন্ধ্যা নভেম্বর ৬, ২০১৯
শিশু নির্যাতন
প্রতীকী ছবি

নির্যাতনের ভিডিওচিত্র ধারণ করে সৌদি আরবে থাকা মায়ের কাছে পাঠিয়ে চাওয়া হতো মোটা অংকের টাকা

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ ৬ বছর বয়সী এক শিশুকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের অভিযোগে তার আপন চাচাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নির্যাতনের ভিডিওচিত্র ধারণ করে সৌদি প্রবাসী মায়ের কাছে সেগুলো পাঠিয়ে অর্থ দাবি করা হতো।

পুলিশ জানায়, কয়েক বছর আগে নবীগঞ্জ উপজেলার চরগাঁও গ্রামের সুফি মিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় সুমনা বেগমের। তাদের সংসারে জন্ম নেয় একটি ছেলে ও মেয়ে। কিছুদিন পর সুফি মিয়া মারা যান। মাস কয়েক আগে জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে পাড়ি জমান বিধবা সুমনা। 

ছেলেকে রেখে যান স্বামীর ছোট ভাই স্বপন মিয়ার কাছে। সন্তানের খাওয়া খরচ বাবদ দিয়ে যান ৫০ হাজার টাকা।

মা প্রবাসে পাড়ি জমানোর পর থেকেই শিশুটিকে নির্যাতন করতে শুরু করে চাচা স্বপন। নির্যাতনের ভিডিওচিত্র ধারণ করে সৌদি আরবে থাকা মায়ের কাছে পাঠিয়ে চাওয়া হতো মোটা অংকের টাকা। এসব দেখে গত ২ নভেম্বর দেশে ফিরে আসেন শিশুটির মা সুমনা।

এদিকে, মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) রাতে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় তুমুল সমালোচনা। এ ঘটনায় সুমনা বেগম বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে নবীগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন। বুধবার ভোরে অভিযুক্ত স্বপন মিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ। 

বিকেলে হবিগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে পুরো বিষয়টি সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা।

শিশুটির মা জানান, সৌদিতে চলে যাওয়ার সময় তিনি সন্তানের দেখভালের জন্য দেবর স্বপন মিয়াকে একটি রিকশা, ৫০ হাজার টাকা ও এক বস্তা চাল দিয়ে যান। 

হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা জানান, শিশু নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অভিযুক্ত দেবরকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। শিশু নির্যাতনকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।