• বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩৮ রাত

‘বেলুন মেকার’ যখন আবহাওয়াবিদ!

  • প্রকাশিত ০১:৪১ দুপুর নভেম্বর ৭, ২০১৯
আবহাওয়া
ছবি: ইউএনবি

আর এ দুজন বেলুন মেকার ফরিদপুরের আবহাওয়ার রিপোর্ট দিচ্ছেন। যদিও অভিযোগ রয়েছে, বেলুন না উড়িয়েই তারা গত পাঁচ বছর যাবৎ বেতন-ভাতা নিচ্ছেন

বাতাসের গতিবিধি নির্ণয়ের জন্য বড় আকৃতির বেলুন মেঘের নিচে ওড়ানো হয়। যারা এসব বেলুনে গ্যাস ভরে আকাশে ওড়ান তাদের বলা হয় ‘‘বেলুন মেকার’’। দেশের বিভাগীয় আবহাওয়া অফিসগুলোতেই সাধারণত এসব বেলুন ওড়ানো হয়।

তবে ফরিদপুর আবহাওয়া দফতরের কার্যালয়টি বিভাগীয় কার্যালয় না হলেও এখানে দুজন বেলুন মেকার রয়েছেন। আর এ দুজন বেলুন মেকার ফরিদপুরের আবহাওয়ার রিপোর্ট দিচ্ছেন। যদিও অভিযোগ রয়েছে, বেলুন না উড়িয়েই তারা গত পাঁচ বছর যাবৎ বেতন-ভাতা নিচ্ছেন।

আবহাওয়া দফতরের দাবি, বেলুন না ওড়ালেও তারা বসে বসে বেতন নিচ্ছেন না। এসব বেলুন মেকাররাই এখানে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণের কাজ করছেন। কারণ এখানে আবহাওয়া পর্যবেক্ষকের পাঁচটি পদ থাকলেও সবকটি পদই শূন্য।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর আবহাওয়া দপ্তরের সিনিয়র ওয়েদার অবজারভার বা জ্যেষ্ঠ্য আবহাওয়া পর্যবেক্ষকের পদ রয়েছে ৩টি এবং আবহাওয়া সহকারীর পদ রয়েছে ২টি। এসব পদগুলো শূন্য থাকায় বেলুন মেকাররাই এখানে আবহাওয়া পর্যবেক্ষকের কাজ করছেন।

স্বাধীনতার পরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফরিদপুর জেলা আবহাওয়া দফতরের কার্যালয়টি স্থাপন করা হয়। একসময় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভবনে এ দফতরের কাজ চলতো। পরবর্তীতে ১৯৮১ সালে শহরের চাঁদমারি এলাকায় এক একর ৫৪ শতাংশ জমিতে নির্মাণ করা হয় নিজস্ব কার্যালয়।

আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা যায়, একজন পেশাগত সহকারী, ৩টি সিনিয়র ওয়েদার অবজারভার এবং ২টি আবহাওয়া সহকারী পদসহ ফরিদপুরের এই আবহাওয়া দফতরে পদসংখ্যা ৭টি। এরমধ্যে বর্তমানে সিনিয়র ওয়েদার পর্যবেক্ষক ও আবহাওয়া সহকারী পদে কেউ কর্মরত নেই। কর্মরত আছেন মোট পাঁচজন। বেলুন না থাকলেও বেলুন ওড়ানোর জন্য রয়েছেন দুজন বেলুন মেকার, যারা আবহাওয়া পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন।

জানা যায়, আবহাওয়া দফতরের কাজ হচ্ছে মূলত; আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানার জন্য জলবায়ুর তথ্য ও সূচক সংগ্রহ করা। আর কৃষিকাজের জন্য মাটি ও পানির তাপমাত্রাসহ আনুষঙ্গিক বিভিন্ন তথ্য জানা হয় অটোমেটিক ওয়েদার স্টেশন থেকে। ফরিদপুরের এই আবহাওয়া দফতরেও একটি অটোমেটিক ওয়েদার স্টেশন রয়েছে।

আবহাওয়া দফতর ও ওয়েদার স্টেশনের মাধ্যমে দিনরাতের আবহাওয়ার তথ্যসহ মাটি ও পানির তাপমাত্রার পরিমাপ জানা গেলেও মেঘের স্তরের (ক্লাউড লেয়ার) নিচের জলবায়ুর তথ্য জানা যায় না। এজন্য কয়েক হাজার মিটার উচ্চতায় বৃহদাকারের বেলুন ওড়ানো হয়, যার মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য সরাসরি কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের কাছে পৌঁছে যায়। দেশের বিভাগীয় আবহাওয়া দপ্তরগুলোতে এই বেলুন ওড়ানো হলেও ফরিদপুরে এখনো এই বেলুন ওড়েনি। কৃষিভিত্তিক ফরিদপুর অঞ্চলের জন্য যা খুবই জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি আবহাওয়া দফতরের কার্যালয়টিকে আধুনিকায়নের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে বলেন, এই দপ্তরটিকে যাতে উন্নতমানের পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে রূপ দেওয়ার পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। ইতোমধ্যে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এব্যাপারে চিঠি লিখে জানানো হয়েছে। যাতে কৃষিভিত্তিক এই জনপদের মানুষ যাতে কৃষিকাজের উপযোগী ও ক্ষতিকর জরুরি আবহাওয়া বিষয়ক তথ্য পেতে পারে।