• রবিবার, নভেম্বর ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:৫৬ সকাল

ঘূর্ণিঝড় বুলবুল: মংলা ও পায়রা বন্দরে ৪ নম্বর সংকেত

  • প্রকাশিত ১১:৫৭ সকাল নভেম্বর ৮, ২০১৯
মংলা বন্দর
মংলা সমুদ্র বন্দর ফাইল ছবি/ঢাকা ট্রিবিউন

সকাল থেকেই খুলনা শহর ও আশপাশের এলাকায় গুমোট পরিবেশ বিরাজ করছে

বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ থেকে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় “বুলবুল” এর প্রভাবে মংলা ও পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে সকাল থেকেই উপকূলীয় এলাকায় গুমোট পরিবেশ বিরাজ করছে। 

যার পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার (৮ নভেম্বর) সকাল ছয়টা থেকে আবহাওয়া বিভাগ মংলা ও পায়রা বন্দরে এ সতর্কতার ঘোষণা দিয়েছে।

এদিন খুলনা শহরে সূর্যের দেখা মেলে সকাল ৯টারও পরে। সকাল সাড়ে এগারটা থেকে শুরু হয়েছে হালকা বৃষ্টি।

খুলনা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিরুল আজাদ ঢাকা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, ভোর ছয়টা থেকে মংলা সমুদ্র বন্দরের জন্য ৪ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত ঘোষণা করা হয়েছে। সকাল ছয়টা পর্যন্ত মংলা বন্দর থেকে ঘূর্ণিঝড়টি ৬৬৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিলো।


আরও পড়ুন - প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিয়েছে ‘বুলবুল’, ৩ নং সতর্ক সংকেত


তিনি জানান, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল ভারতের ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে শুক্রবার সকাল ৯টার পর থেকে খুলনার আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হতে শুরু করেছে। শুক্রবার সন্ধ্যা বা শনিবার সকাল থেকে খুলনায় ঝড়টির তীব্রতা পরিলক্ষিত হতে পারে। শনিবার সন্ধ্যা নাগাদ এ অঞ্চল দিয়ে বয়ে যেতে পারে বুলবুল। 

বুলবুলের প্রভাবে পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্র বন্দরকেও ৪ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন স্থানে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। আকাশ রয়েছে মেঘাচ্ছন্ন। সতর্কতা সংকেত জারির পর মাছ ধরার ট্রলারগুলো তীর ফিরতে শুরু করেছে।

কলাপাড়া উপজেলার ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মান্নান জানান, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় জেলেরা নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরতে শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত কোনো দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।


আরও পড়ুন - জাহাজ চলাচল বন্ধ, সেন্টমার্টিনে আটকা পড়েছেন দেড় হাজার পর্যটক


জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো বশির আহম্মেদ ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল শনিবার মধ্যরাতে আঘাত হানার সম্ভাবনা রয়েছে। সেজন্য পায়রাসহ দেশের সব সমুদ্র বন্দরে ৪ নম্বর সংকেত জারি করা হয়েছে। নদী বন্দরে জারি করা হয়েছে ১ নম্বর সংকেত।

এদিকে, সুন্দরবনের দুবলার চরে বন বিভাগের ব্যবস্থাপনায় চলছে রাস মেলার প্রস্তুতি। ৯ নভেম্বর বিকেল থেকে রাস মেলার দর্শনার্থীদের যাত্রার সময় নির্ধারিত রয়েছে। তবে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বনবিভাগ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। মেলার বিষয়ে ৯ নভেম্বর দুপুরের দিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান ও পশ্চিম বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বশিরুল আল মামুন ঢাকা ট্রিবিউনকে এ তথ্য জানিয়েছেন। 

খুলনা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল শুক্রবার সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে ৭৬৯ কিলোমিটার দক্ষিণ থেকে দক্ষিণ পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্র বন্দর থেকে ৭১০ কিলোমিটার দক্ষিণ থেকে দক্ষিণ পশ্চিমে, মংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৬৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৬৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। এটি আরও ঘণীভূত হয়ে উত্তর-উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার। যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে। সাগর উত্তাল রয়েছে। 

বাগেরহাট জেলা প্রশাসক মামুনুর রশিদ জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা চলছে। সেখান থেকে দুর্যোগ পরিস্থিতি নিয়ে প্রস্তুতি বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। পরিস্থিতি খারাপ হলে রাসমেলা বাতিল হতে পারে।

খুলনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন জানিয়েছেন, খুলনা জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির বৈঠক শুক্রবার বিকেল চারটায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য জেলা প্রশাসনের সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে।